সিলেট ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
News Title :
হবিগঞ্জে ফিলিং স্টেশন থেকে শ্রমিক নেতার সিএনজি ছিনতাই অভিযোগ: মিলছে না হদিস! ‎কোম্পানীগঞ্জে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি লোকমান গ্রেফতার করল র‍্যাব। নবীগঞ্জে শাশুড়ি হত্যা মামলার পলাতক প্রধান আসামিসহ তিনজন গ্রেপ্তার হবিগঞ্জে ডিবির অভিযানে ৪৩ লাখ টাকার ভারতীয় চকলেট জব্দ, আটক ২ ‎জুড়ীতে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন নবীগঞ্জে কলেজ ছাত্র হত্যা মামলার মূল আসামি হেলালসহ ৩ জন গ্রেপ্তার ‎লাখাইয়ে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত। নবীগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ‎হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে নবীগঞ্জ উপজেলার সুধীজন ও কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভা ‎টাঙ্গাইলে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস–২০২৬’ প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত
‎পীর-আউলিয়ার মাটিতে প্রত্যাবর্তন...

‎তারেক রহমানকে ঘিরে মৌলভীবাজারের প্রতীক্ষা, স্মৃতি ও প্রত্যাশা





‎পীর-আউলিয়ার পুণ্যভূমি সিলেট বিভাগের আকাশে এখন অন্যরকম এক প্রতিধ্বনি। দীর্ঘ বিরতির নীরবতা ভেঙে সেই প্রতিধ্বনির নাম—তারেক রহমান। প্রায় দুই দশক পর বিএনপির চেয়ারম্যানের আগমনকে ঘিরে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জজুড়ে বইছে উৎসবের হাওয়া, উত্তেজনা আর প্রত্যাশার ঢেউ।


‎মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুরের আইনপুর খেলার মাঠ—এই নামটি এখন জেলার মানুষের মুখে মুখে। আগামী ২২ জানুয়ারি দুপুরে এখানেই দাঁড়াবেন তারেক রহমান। যে মাঠের পাশেই ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার স্বপ্ন নিয়ে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন। সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু ইতিহাসের সেই পদচিহ্ন আজও অমলিন।


‎শেরপুরের মানুষ এখনো মনে করেন মনু নদীর তীরঘেঁষা সেই দিনগুলোর কথা—যখন কৃষকের মুখে হাসি ফেরাতে ‘মনু প্রকল্প’ চালু হয়েছিল। জিয়াউর রহমানের সেই উদ্যোগ শুধু একটি প্রকল্প ছিল না, ছিল আত্মনির্ভরতার দর্শন। সেই একই ভূখণ্ডে তার পুত্র তারেক রহমানের জনসভা তাই শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, অনেকের কাছে এটি ইতিহাসের ধারাবাহিকতা।


‎দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরলেও সিলেট অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে সরাসরি দেখা হয়নি তারেক রহমানের। বিমানবন্দরে ভিড় না করার আহ্বানে নেতাকর্মীরা সংযম দেখিয়েছেন। কিন্তু ‘না দেখা’র যে অতৃপ্তি, তা জমে ছিল বুকের গভীরে। ২২ জানুয়ারি সেই অতৃপ্তির অবসান ঘটবে জনসভার ময়দানে।


‎শেরপুর, কামারখালি, মনুমুখ—প্রতিটি নামেই যেন ব্যস্ততার ছাপ। মঞ্চ নির্মাণ, প্যান্ডেল, মাইক, স্বেচ্ছাসেবক দল, গাড়ি পার্কিং—সবকিছুই চলছে পরিকল্পিতভাবে। জেলা বিএনপি নেতারা একাধিকবার মাঠ পরিদর্শন করেছেন। লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে—এমন আশাবাদে প্রচার-প্রচারণায় যুক্ত হয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও।


‎২২ জানুয়ারি সকালে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে শুরু হবে সফর। এরপর সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে প্রথম জনসভা, মৌলভীবাজারের আইনপুর মাঠে দ্বিতীয় এবং হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে তৃতীয় জনসভা। তিন জেলা, তিন ময়দান—কিন্তু অনুভূতি একটাই: দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান।


‎মৌলভীবাজারবাসীর প্রত্যাশার ঝুলিও কম ভারী নয়। একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ, সদর জেনারেল হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, শমশেরনগর বিমানবন্দর চালু, ঢাকা–শ্রীমঙ্গল নতুন ট্রেন সার্ভিস—এসব দাবি ঘুরেফিরে আলোচনায় আসছে চায়ের দোকান থেকে সামাজিক বৈঠক পর্যন্ত।



‎মুক্তিযুদ্ধে সিলেট অঞ্চলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা এখানকার মানুষ ভুলে যায়নি। জেড ফোর্সের কমান্ডার হিসেবে তার নেতৃত্ব, ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে সিলেট রেলস্টেশনে পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণ গ্রহণ—এসব স্মৃতি এখনো ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল। সেই স্মৃতির উত্তরাধিকার বহন করেই তারেক রহমানের আগমনকে দেখছেন অনেকে।


‎এই আগমন শুধু দলীয় গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। গৃহস্থের উঠোন, বাজারের আড্ডা, সামাজিক সভা-বৈঠক—সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু তারেক রহমান। কে কী বলবেন, কী বার্তা দেবেন, জেলার জন্য কী দিকনির্দেশনা আসবে—এই প্রশ্নগুলোই এখন আলোচনার মূল সুর।

‎২২ জানুয়ারি তাই শুধু একটি তারিখ নয়। মৌলভীবাজারের মানুষের কাছে এটি স্মৃতি, প্রত্যাশা আর রাজনীতির এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। পীর-আউলিয়ার পবিত্র মাটি সাক্ষী থাকবে ইতিহাসের আরেকটি মুহূর্তের।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জে ফিলিং স্টেশন থেকে শ্রমিক নেতার সিএনজি ছিনতাই অভিযোগ: মিলছে না হদিস!

‎পীর-আউলিয়ার মাটিতে প্রত্যাবর্তন...

‎তারেক রহমানকে ঘিরে মৌলভীবাজারের প্রতীক্ষা, স্মৃতি ও প্রত্যাশা

সময় ০৭:৫৫:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬





‎পীর-আউলিয়ার পুণ্যভূমি সিলেট বিভাগের আকাশে এখন অন্যরকম এক প্রতিধ্বনি। দীর্ঘ বিরতির নীরবতা ভেঙে সেই প্রতিধ্বনির নাম—তারেক রহমান। প্রায় দুই দশক পর বিএনপির চেয়ারম্যানের আগমনকে ঘিরে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জজুড়ে বইছে উৎসবের হাওয়া, উত্তেজনা আর প্রত্যাশার ঢেউ।


‎মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুরের আইনপুর খেলার মাঠ—এই নামটি এখন জেলার মানুষের মুখে মুখে। আগামী ২২ জানুয়ারি দুপুরে এখানেই দাঁড়াবেন তারেক রহমান। যে মাঠের পাশেই ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার স্বপ্ন নিয়ে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন। সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু ইতিহাসের সেই পদচিহ্ন আজও অমলিন।


‎শেরপুরের মানুষ এখনো মনে করেন মনু নদীর তীরঘেঁষা সেই দিনগুলোর কথা—যখন কৃষকের মুখে হাসি ফেরাতে ‘মনু প্রকল্প’ চালু হয়েছিল। জিয়াউর রহমানের সেই উদ্যোগ শুধু একটি প্রকল্প ছিল না, ছিল আত্মনির্ভরতার দর্শন। সেই একই ভূখণ্ডে তার পুত্র তারেক রহমানের জনসভা তাই শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, অনেকের কাছে এটি ইতিহাসের ধারাবাহিকতা।


‎দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরলেও সিলেট অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে সরাসরি দেখা হয়নি তারেক রহমানের। বিমানবন্দরে ভিড় না করার আহ্বানে নেতাকর্মীরা সংযম দেখিয়েছেন। কিন্তু ‘না দেখা’র যে অতৃপ্তি, তা জমে ছিল বুকের গভীরে। ২২ জানুয়ারি সেই অতৃপ্তির অবসান ঘটবে জনসভার ময়দানে।


‎শেরপুর, কামারখালি, মনুমুখ—প্রতিটি নামেই যেন ব্যস্ততার ছাপ। মঞ্চ নির্মাণ, প্যান্ডেল, মাইক, স্বেচ্ছাসেবক দল, গাড়ি পার্কিং—সবকিছুই চলছে পরিকল্পিতভাবে। জেলা বিএনপি নেতারা একাধিকবার মাঠ পরিদর্শন করেছেন। লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে—এমন আশাবাদে প্রচার-প্রচারণায় যুক্ত হয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও।


‎২২ জানুয়ারি সকালে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে শুরু হবে সফর। এরপর সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে প্রথম জনসভা, মৌলভীবাজারের আইনপুর মাঠে দ্বিতীয় এবং হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে তৃতীয় জনসভা। তিন জেলা, তিন ময়দান—কিন্তু অনুভূতি একটাই: দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান।


‎মৌলভীবাজারবাসীর প্রত্যাশার ঝুলিও কম ভারী নয়। একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ, সদর জেনারেল হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, শমশেরনগর বিমানবন্দর চালু, ঢাকা–শ্রীমঙ্গল নতুন ট্রেন সার্ভিস—এসব দাবি ঘুরেফিরে আলোচনায় আসছে চায়ের দোকান থেকে সামাজিক বৈঠক পর্যন্ত।



‎মুক্তিযুদ্ধে সিলেট অঞ্চলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা এখানকার মানুষ ভুলে যায়নি। জেড ফোর্সের কমান্ডার হিসেবে তার নেতৃত্ব, ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে সিলেট রেলস্টেশনে পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণ গ্রহণ—এসব স্মৃতি এখনো ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল। সেই স্মৃতির উত্তরাধিকার বহন করেই তারেক রহমানের আগমনকে দেখছেন অনেকে।


‎এই আগমন শুধু দলীয় গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। গৃহস্থের উঠোন, বাজারের আড্ডা, সামাজিক সভা-বৈঠক—সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু তারেক রহমান। কে কী বলবেন, কী বার্তা দেবেন, জেলার জন্য কী দিকনির্দেশনা আসবে—এই প্রশ্নগুলোই এখন আলোচনার মূল সুর।

‎২২ জানুয়ারি তাই শুধু একটি তারিখ নয়। মৌলভীবাজারের মানুষের কাছে এটি স্মৃতি, প্রত্যাশা আর রাজনীতির এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। পীর-আউলিয়ার পবিত্র মাটি সাক্ষী থাকবে ইতিহাসের আরেকটি মুহূর্তের।