সিলেট ০৮:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
News Title :
কমরেড সুমন ও কমরেড সুইটের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত: সমাধিতে বাসদ নেতৃবৃন্দের শ্রদ্ধা‎ এনায়েত উল্লাাহ আব্বাসী’র মানহানিকর বক্তব্য ও সাংবাদিক হত্যার প্রতিবাদে সিসকপ’র মানববন্ধন!  ‎করাব ইউনিয়নে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী যুবদল নেতা মাহবুব আলম মালু বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ৫৫তম শাহাদাত বার্ষিকী আজ মৌলভীবাজারে পিকআপসহ চারজন আটক, চুরি হওয়া দুই গাভী উদ্ধার ‎মিষ্টির আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হতে যাচ্ছেন এলিজা জামান পদ্ম হাতে “তুমি আসবে বলেই তো অপেক্ষাটা এত সুন্দর” প্রধান শিক্ষক তন্নী রহমানের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা‎ গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাব সম্পাদক কে.এম. লিমনকে গ্রাম পুলিশের সংবর্ধনা ‎সিলেটের গোয়াইনঘাটে যুবদল নেতা বদরুল হত্যা: দিরাই থেকে ২ আসামি গ্রেফতার মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের রুট কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিতকরণের শুভ উদ্বোধন
‎রাজনীতির মাঠে ‘ডিপফেক’ আতঙ্ক

এআই প্রযুক্তিতে ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে অপ প্রচারের অভিযোগ নাসের রহমানের!


‎


‎

‎নির্বাচনের উত্তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতির মাঠে যুক্ত হয়েছে নতুন এক শঙ্কা—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও বা ডিপফেক। মৌলভীবাজার–৩ আসনে এবার সেই শঙ্কার বাস্তব উদাহরণ সামনে এনেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নাসের রহমান।

‎

‎বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, AI প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি একটি ভুয়া ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে তাকে একটি রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে জড়ানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে। ভিডিওটিতে নাকি তাকে দিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীকে কটাক্ষ করে মন্তব্য করানো হয়েছে—যা তিনি কখনোই বলেননি।

‎আমি কখনোই এমন বক্তব্য দিইনি,নিজের ফেসবুক পোস্টে নাসের রহমান লেখেন,AI প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা একটি ভিডিও ক্লিপ আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সে ভিডিও ক্লিপে দেখতে পেলাম আমাকে দিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীকে নিয়ে কটাক্ষ করে মন্তব্য করা হচ্ছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রকৃতপক্ষে আমি এই ধরনের কোন বক্তব্য কখনোই কোথাও প্রদান করি নাই।

‎

‎তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তিনি মনে করেন, এটি কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়—বরং একটি সুপরিকল্পিত অপপ্রচার।

‎

‎নাসের রহমান আরও বলেন,আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এই ধরনের অপকৌশল প্রয়োগ করছে। AI প্রযুক্তি ব্যবহার করে কারো সম্মানহানি না করার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

‎তার মতে, এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার শুধু একজন প্রার্থীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে না, বরং গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশের জন্যও মারাত্মক হুমকি তৈরি করে।

‎ভুয়া ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ভোটারদের ভুল পথে পরিচালিত করা হলে নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

‎

‎ফেসবুক পোস্টে নাসের রহমান তার নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের উদ্দেশে বিশেষভাবে সতর্কবার্তা দেন। তিনি ভোটারদের বিভ্রান্ত না হয়ে যেকোনো তথ্য ও ভিডিও সত্য কিনা তা যাচাই করার আহ্বান জানান।

‎

‎একই সঙ্গে তিনি বলেন,অপপ্রচারের বিরুদ্ধে শুধু ব্যক্তিগত প্রতিবাদ নয়—সামাজিক প্রতিরোধও জরুরি। সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত ভূমিকা ছাড়া প্রযুক্তিনির্ভর ভুয়া তথ্যের বিরুদ্ধে লড়াই কঠিন হয়ে উঠবে।

‎

‎বিশ্লেষকদের মতে, নাসের রহমানের এই অভিযোগ দেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে এক নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগে যেখানে গুজব বা বিকৃত বক্তব্য ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলা হতো, সেখানে এখন প্রযুক্তির সাহায্যে বাস্তবসম্মত ভুয়া ভিডিও তৈরি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

‎

‎এই ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠছে—নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রযুক্তির ব্যবহার কোথায় গিয়ে থামবে, আর অপব্যবহার রোধে রাষ্ট্র ও সমাজ কতটা প্রস্তুত? একটি বিষয় স্পষ্ট—নির্বাচনের মাঠে এখন শুধু প্রার্থী আর প্রতীকের লড়াই নয়, সত্য আর মিথ্যার মধ্যেও চলছে এক নীরব যুদ্ধ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কমরেড সুমন ও কমরেড সুইটের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত: সমাধিতে বাসদ নেতৃবৃন্দের শ্রদ্ধা‎

‎রাজনীতির মাঠে ‘ডিপফেক’ আতঙ্ক

এআই প্রযুক্তিতে ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে অপ প্রচারের অভিযোগ নাসের রহমানের!

সময় ০৯:২০:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬


‎


‎

‎নির্বাচনের উত্তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতির মাঠে যুক্ত হয়েছে নতুন এক শঙ্কা—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও বা ডিপফেক। মৌলভীবাজার–৩ আসনে এবার সেই শঙ্কার বাস্তব উদাহরণ সামনে এনেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নাসের রহমান।

‎

‎বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, AI প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি একটি ভুয়া ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে তাকে একটি রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে জড়ানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে। ভিডিওটিতে নাকি তাকে দিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীকে কটাক্ষ করে মন্তব্য করানো হয়েছে—যা তিনি কখনোই বলেননি।

‎আমি কখনোই এমন বক্তব্য দিইনি,নিজের ফেসবুক পোস্টে নাসের রহমান লেখেন,AI প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা একটি ভিডিও ক্লিপ আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সে ভিডিও ক্লিপে দেখতে পেলাম আমাকে দিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীকে নিয়ে কটাক্ষ করে মন্তব্য করা হচ্ছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রকৃতপক্ষে আমি এই ধরনের কোন বক্তব্য কখনোই কোথাও প্রদান করি নাই।

‎

‎তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তিনি মনে করেন, এটি কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়—বরং একটি সুপরিকল্পিত অপপ্রচার।

‎

‎নাসের রহমান আরও বলেন,আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এই ধরনের অপকৌশল প্রয়োগ করছে। AI প্রযুক্তি ব্যবহার করে কারো সম্মানহানি না করার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

‎তার মতে, এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার শুধু একজন প্রার্থীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে না, বরং গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশের জন্যও মারাত্মক হুমকি তৈরি করে।

‎ভুয়া ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ভোটারদের ভুল পথে পরিচালিত করা হলে নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

‎

‎ফেসবুক পোস্টে নাসের রহমান তার নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের উদ্দেশে বিশেষভাবে সতর্কবার্তা দেন। তিনি ভোটারদের বিভ্রান্ত না হয়ে যেকোনো তথ্য ও ভিডিও সত্য কিনা তা যাচাই করার আহ্বান জানান।

‎

‎একই সঙ্গে তিনি বলেন,অপপ্রচারের বিরুদ্ধে শুধু ব্যক্তিগত প্রতিবাদ নয়—সামাজিক প্রতিরোধও জরুরি। সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত ভূমিকা ছাড়া প্রযুক্তিনির্ভর ভুয়া তথ্যের বিরুদ্ধে লড়াই কঠিন হয়ে উঠবে।

‎

‎বিশ্লেষকদের মতে, নাসের রহমানের এই অভিযোগ দেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে এক নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগে যেখানে গুজব বা বিকৃত বক্তব্য ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলা হতো, সেখানে এখন প্রযুক্তির সাহায্যে বাস্তবসম্মত ভুয়া ভিডিও তৈরি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

‎

‎এই ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠছে—নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রযুক্তির ব্যবহার কোথায় গিয়ে থামবে, আর অপব্যবহার রোধে রাষ্ট্র ও সমাজ কতটা প্রস্তুত? একটি বিষয় স্পষ্ট—নির্বাচনের মাঠে এখন শুধু প্রার্থী আর প্রতীকের লড়াই নয়, সত্য আর মিথ্যার মধ্যেও চলছে এক নীরব যুদ্ধ।