সিলেট ০৬:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
News Title :
‎ওসমানীনগরে পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান আসামি সাকিব গ্রেফতার; র‍্যাবের ঝটিকা অভিযান ‎সিলেটের গোয়াইনঘাটে ২৬ বোতল ইসকফসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার‎ ‎মাধবপুরের শাহপুরে রাস্তা দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত ৪ ‎মাধবপুরে রাতের আঁধারে মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর, এলাকায় উত্তেজনা ‎টাঙ্গাইলে নদী উদ্ধার প্রকল্প নিয়ে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হুমকি ও অপপ্রচার ‎বানিয়াচংয়ে ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধ: যুবককে কুপিয়ে হত্যা, এলাকায় উত্তেজনা। সিলেটে গোয়াইনঘাটে চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি ফরিদ মিয়া র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার দক্ষিণ সুরমায় ৫ লক্ষ টাকার ভারতীয় ফুসকাসহ গ্রেফতার ২, কাভার্ডভ্যান জব্দ ‎ধনবাড়ীতে গাঁজার গাছসহ নারী গ্রেফতার,‎ স্বামী পলাতক! ‎​মৌলভীবাজারে ডাকাতির প্রস্তুতি পণ্ড: সর্দার রুবেলসহ গ্রেফতার ৩, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার
‎রাজনীতির মাঠে ‘ডিপফেক’ আতঙ্ক

এআই প্রযুক্তিতে ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে অপ প্রচারের অভিযোগ নাসের রহমানের!





‎নির্বাচনের উত্তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতির মাঠে যুক্ত হয়েছে নতুন এক শঙ্কা—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও বা ডিপফেক। মৌলভীবাজার–৩ আসনে এবার সেই শঙ্কার বাস্তব উদাহরণ সামনে এনেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নাসের রহমান।


‎বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, AI প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি একটি ভুয়া ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে তাকে একটি রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে জড়ানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে। ভিডিওটিতে নাকি তাকে দিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীকে কটাক্ষ করে মন্তব্য করানো হয়েছে—যা তিনি কখনোই বলেননি।

‎আমি কখনোই এমন বক্তব্য দিইনি,নিজের ফেসবুক পোস্টে নাসের রহমান লেখেন,AI প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা একটি ভিডিও ক্লিপ আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সে ভিডিও ক্লিপে দেখতে পেলাম আমাকে দিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীকে নিয়ে কটাক্ষ করে মন্তব্য করা হচ্ছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রকৃতপক্ষে আমি এই ধরনের কোন বক্তব্য কখনোই কোথাও প্রদান করি নাই।


‎তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তিনি মনে করেন, এটি কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়—বরং একটি সুপরিকল্পিত অপপ্রচার।


‎নাসের রহমান আরও বলেন,আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এই ধরনের অপকৌশল প্রয়োগ করছে। AI প্রযুক্তি ব্যবহার করে কারো সম্মানহানি না করার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

‎তার মতে, এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার শুধু একজন প্রার্থীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে না, বরং গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশের জন্যও মারাত্মক হুমকি তৈরি করে।

‎ভুয়া ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ভোটারদের ভুল পথে পরিচালিত করা হলে নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।


‎ফেসবুক পোস্টে নাসের রহমান তার নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের উদ্দেশে বিশেষভাবে সতর্কবার্তা দেন। তিনি ভোটারদের বিভ্রান্ত না হয়ে যেকোনো তথ্য ও ভিডিও সত্য কিনা তা যাচাই করার আহ্বান জানান।


‎একই সঙ্গে তিনি বলেন,অপপ্রচারের বিরুদ্ধে শুধু ব্যক্তিগত প্রতিবাদ নয়—সামাজিক প্রতিরোধও জরুরি। সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত ভূমিকা ছাড়া প্রযুক্তিনির্ভর ভুয়া তথ্যের বিরুদ্ধে লড়াই কঠিন হয়ে উঠবে।


‎বিশ্লেষকদের মতে, নাসের রহমানের এই অভিযোগ দেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে এক নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগে যেখানে গুজব বা বিকৃত বক্তব্য ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলা হতো, সেখানে এখন প্রযুক্তির সাহায্যে বাস্তবসম্মত ভুয়া ভিডিও তৈরি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।


‎এই ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠছে—নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রযুক্তির ব্যবহার কোথায় গিয়ে থামবে, আর অপব্যবহার রোধে রাষ্ট্র ও সমাজ কতটা প্রস্তুত? একটি বিষয় স্পষ্ট—নির্বাচনের মাঠে এখন শুধু প্রার্থী আর প্রতীকের লড়াই নয়, সত্য আর মিথ্যার মধ্যেও চলছে এক নীরব যুদ্ধ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎ওসমানীনগরে পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান আসামি সাকিব গ্রেফতার; র‍্যাবের ঝটিকা অভিযান

‎রাজনীতির মাঠে ‘ডিপফেক’ আতঙ্ক

এআই প্রযুক্তিতে ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে অপ প্রচারের অভিযোগ নাসের রহমানের!

সময় ০৯:২০:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬





‎নির্বাচনের উত্তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতির মাঠে যুক্ত হয়েছে নতুন এক শঙ্কা—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও বা ডিপফেক। মৌলভীবাজার–৩ আসনে এবার সেই শঙ্কার বাস্তব উদাহরণ সামনে এনেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নাসের রহমান।


‎বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, AI প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি একটি ভুয়া ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে তাকে একটি রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে জড়ানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে। ভিডিওটিতে নাকি তাকে দিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীকে কটাক্ষ করে মন্তব্য করানো হয়েছে—যা তিনি কখনোই বলেননি।

‎আমি কখনোই এমন বক্তব্য দিইনি,নিজের ফেসবুক পোস্টে নাসের রহমান লেখেন,AI প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা একটি ভিডিও ক্লিপ আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সে ভিডিও ক্লিপে দেখতে পেলাম আমাকে দিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীকে নিয়ে কটাক্ষ করে মন্তব্য করা হচ্ছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রকৃতপক্ষে আমি এই ধরনের কোন বক্তব্য কখনোই কোথাও প্রদান করি নাই।


‎তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তিনি মনে করেন, এটি কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়—বরং একটি সুপরিকল্পিত অপপ্রচার।


‎নাসের রহমান আরও বলেন,আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এই ধরনের অপকৌশল প্রয়োগ করছে। AI প্রযুক্তি ব্যবহার করে কারো সম্মানহানি না করার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

‎তার মতে, এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার শুধু একজন প্রার্থীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে না, বরং গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশের জন্যও মারাত্মক হুমকি তৈরি করে।

‎ভুয়া ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ভোটারদের ভুল পথে পরিচালিত করা হলে নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।


‎ফেসবুক পোস্টে নাসের রহমান তার নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের উদ্দেশে বিশেষভাবে সতর্কবার্তা দেন। তিনি ভোটারদের বিভ্রান্ত না হয়ে যেকোনো তথ্য ও ভিডিও সত্য কিনা তা যাচাই করার আহ্বান জানান।


‎একই সঙ্গে তিনি বলেন,অপপ্রচারের বিরুদ্ধে শুধু ব্যক্তিগত প্রতিবাদ নয়—সামাজিক প্রতিরোধও জরুরি। সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত ভূমিকা ছাড়া প্রযুক্তিনির্ভর ভুয়া তথ্যের বিরুদ্ধে লড়াই কঠিন হয়ে উঠবে।


‎বিশ্লেষকদের মতে, নাসের রহমানের এই অভিযোগ দেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে এক নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগে যেখানে গুজব বা বিকৃত বক্তব্য ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলা হতো, সেখানে এখন প্রযুক্তির সাহায্যে বাস্তবসম্মত ভুয়া ভিডিও তৈরি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।


‎এই ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠছে—নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রযুক্তির ব্যবহার কোথায় গিয়ে থামবে, আর অপব্যবহার রোধে রাষ্ট্র ও সমাজ কতটা প্রস্তুত? একটি বিষয় স্পষ্ট—নির্বাচনের মাঠে এখন শুধু প্রার্থী আর প্রতীকের লড়াই নয়, সত্য আর মিথ্যার মধ্যেও চলছে এক নীরব যুদ্ধ।