সিলেট ০৫:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
News Title :
‎টাঙ্গাইলে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস–২০২৬’ প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত ‎জুড়ীতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু ‎গোয়াইনঘাটে ৭১ বোতল বিদেশি মদসহ বাবা-ছেলে গ্রেফতার হবিগঞ্জে ভুল প্রশ্নে দাখিল পরীক্ষা, পরে ধরা পড়ল ১০০ খাতা জব্দ, দায়িত্ব হারালেন ৩ কর্মকর্তা ‎মাধবপুরে ডিবি পুলিশের অভিযানে ১২৯ কেজি গাঁজা উদ্ধার, নারী গ্রেপ্তার ‎শেরপুর সেতুতে ৩৬ ঘণ্টা যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ভোগান্তির আশঙ্কা ‎বিয়ানীবাজার থেকে ৩ এসএসসি-দাখিল পরীক্ষার্থী ছাত্রী উধাও টাঙ্গাইলে র‍্যাবের অভিযানে ৯৬৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার এতিমখানার নামে চাঁদাবাজি: বানিয়াচংয়ে জনতার হাতে ধরা ‘টিকটকার’ ভণ্ড প্রতারক! বানিয়াচংয়ে ভাতিজার হাতে চাচা খুন: মামলায় স্বচ্ছতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন

‎৩৫ বছর চাকরি শেষে অবসরে কৃতিস দাস, জন্মস্থান নিয়ে বিতর্ক!




‎কৃতিস দাস তিনি ৩৫ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে  অবসরোত্তর ছুটিতে আছেন। তিনি ১৯৮৯ সালের ২৯ জুন স্বাস্থ্য সহকারী পদে যোগদান করেন, পরবর্তীতে কৃতিস দাস স্বাস্থ্য পরিদর্শক হিসেবে পদোন্নতি পান। তিনি ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর অবসরে যান। কিন্তু পেশনশ তুলতে গেলে জন্মস্থান নিয়ে বির্তক উঠে।

‎কৃতস দাস চাকুরিতে যোগদানের সময় প্রকৃত জন্মস্থান গোপন করে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।


কৃতিস দাস, চাকুরিতে যোগদানের সময় নিজের জন্মস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার সাতবর্গ গ্রামে তার পৈতৃক ঠিকনা। কিন্তু তিনি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আদাঐর গ্রামের ঠিকানা ব্যবহার করেন। অভিযোগ রয়েছে—সেই সময় আদাঐরে তাঁর কোনো স্থায়ী সম্পত্তিই ছিল না?


‎কৃতিস দাস নিজেকে আদাঐরের স্থায়ী বাসিন্দা দাবি করলেও স্থানীয়ভাবে তাঁর কোনো বসতবাড়ি বা দীর্ঘদিনের উপস্থিতির নিশ্চয়তা মেলেনি।

‎আদাঐর গ্রামের ইউপি সদস্য কেশব দাস বলেন, আমার জানামতে কৃতিস দাসের আসল বাড়ি ব্রাহ্মণ বাড়িয়ার জেলার সাতবর্গে গ্রামে। ছাত্রজীবনে তিনি আত্মীয়ের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করেছেন বলে তিনি জানান।


‎বিজয়নগরের সাতবর্গ গ্রামের ইউপি সদস্য আশিক মেম্বার কৃতিস দাসের ব্যাপারে একই তথ্য দেন। তিনি বলেন, কৃতিস দাস আমাদের গ্রামেরই মানুষ। তাঁর পূর্বপুরুষ এখানকার।


‎অন্যদিকে আদাঐর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মীর মো. খুরশেদ আলম বলেন,

‎কৃতিস দাস আমার ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা নন। তিনি কীভাবে আদাঐরের ঠিকানা ব্যবহার করে চাকরি নিলেন, তা আমার জানা নেই।


‎যদিও কৃতিস দাস সাতবর্গের ঠিকানার বিষয়টি অস্বীকার করেন। কিন্তু সাত বর্গের স্থানীয়  বাসিন্দারা জানান, কৃতিস দাস জন্মসূত্রে তিনি বিজয়নগরের সাতবর্গ গ্রামেরই নাগরিক।


‎মাধবপুর থানার ডিএসবি (ডিটেকটিভ শাখা)–এর সাম্প্রতিক তদন্তে উঠে এসেছে,চাকরিতে যোগদানের বহু পরে কৃতিস দাস আদাঐর গ্রামে এক টুকরো জমি কিনেছেন। ওই জমিতে তিনি বাড়ি নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।


‎স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী, ১৯৮০ সালের পর থেকে মাঠপর্যায়ের পদে আন্তঃজেলা নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়। স্থানীয় প্রার্থী না পেলে অন্য জেলার যোগ্য প্রার্থীকেও নিয়োগ দেওয়া তখনকার সময় সরকারি নিয়ম ছিল।


‎হবিগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, তৎকালীন কেন্দ্রীয় নিয়োগনীতির আওতেই তিনি হবিগঞ্জে চাকরি পেয়েছিলেন।


‎জনস্বাস্থ্য বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, আন্তঃজেলা নিয়োগ বৈধ। তবে জন্মস্থান সংক্রান্ত তথ্য যাচাইযোগ্য নথি দিয়ে নিশ্চিত করতে হয়।


‎জন্মস্থান ইস্যুতে কৃতিস দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সাতবর্গে আমার বাড়ি নেই, আমার বাড়ি আদাঐরে। এরপর জন্মস্থান নিয়ে পরবর্তী প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন এবং পরে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।


‎উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইমরুল হাসান বলেন,বিষয়টি পুরোপুরি প্রশাসনিক। কোনো অসঙ্গতি থাকলে পেনশন প্রক্রিয়ায় তদন্তের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


‎৩৫ বছরের স্বাস্থ্যসেবা শেষে যখন কৃতিস দাস অবসরের পথে, ঠিক সেই সময় জন্মস্থান বিতর্ক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে মাধবপুর ও বিজয়নগরে। এখন স্থানীয় জনসাধারণের একটাই প্রশ্ন,আসলে তাঁর প্রকৃত জন্মস্থান কোথায়, আর এই বিরোধে কী সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ?

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎টাঙ্গাইলে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস–২০২৬’ প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

‎৩৫ বছর চাকরি শেষে অবসরে কৃতিস দাস, জন্মস্থান নিয়ে বিতর্ক!

সময় ০৮:৫০:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫




‎কৃতিস দাস তিনি ৩৫ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে  অবসরোত্তর ছুটিতে আছেন। তিনি ১৯৮৯ সালের ২৯ জুন স্বাস্থ্য সহকারী পদে যোগদান করেন, পরবর্তীতে কৃতিস দাস স্বাস্থ্য পরিদর্শক হিসেবে পদোন্নতি পান। তিনি ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর অবসরে যান। কিন্তু পেশনশ তুলতে গেলে জন্মস্থান নিয়ে বির্তক উঠে।

‎কৃতস দাস চাকুরিতে যোগদানের সময় প্রকৃত জন্মস্থান গোপন করে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।


কৃতিস দাস, চাকুরিতে যোগদানের সময় নিজের জন্মস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার সাতবর্গ গ্রামে তার পৈতৃক ঠিকনা। কিন্তু তিনি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আদাঐর গ্রামের ঠিকানা ব্যবহার করেন। অভিযোগ রয়েছে—সেই সময় আদাঐরে তাঁর কোনো স্থায়ী সম্পত্তিই ছিল না?


‎কৃতিস দাস নিজেকে আদাঐরের স্থায়ী বাসিন্দা দাবি করলেও স্থানীয়ভাবে তাঁর কোনো বসতবাড়ি বা দীর্ঘদিনের উপস্থিতির নিশ্চয়তা মেলেনি।

‎আদাঐর গ্রামের ইউপি সদস্য কেশব দাস বলেন, আমার জানামতে কৃতিস দাসের আসল বাড়ি ব্রাহ্মণ বাড়িয়ার জেলার সাতবর্গে গ্রামে। ছাত্রজীবনে তিনি আত্মীয়ের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করেছেন বলে তিনি জানান।


‎বিজয়নগরের সাতবর্গ গ্রামের ইউপি সদস্য আশিক মেম্বার কৃতিস দাসের ব্যাপারে একই তথ্য দেন। তিনি বলেন, কৃতিস দাস আমাদের গ্রামেরই মানুষ। তাঁর পূর্বপুরুষ এখানকার।


‎অন্যদিকে আদাঐর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মীর মো. খুরশেদ আলম বলেন,

‎কৃতিস দাস আমার ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা নন। তিনি কীভাবে আদাঐরের ঠিকানা ব্যবহার করে চাকরি নিলেন, তা আমার জানা নেই।


‎যদিও কৃতিস দাস সাতবর্গের ঠিকানার বিষয়টি অস্বীকার করেন। কিন্তু সাত বর্গের স্থানীয়  বাসিন্দারা জানান, কৃতিস দাস জন্মসূত্রে তিনি বিজয়নগরের সাতবর্গ গ্রামেরই নাগরিক।


‎মাধবপুর থানার ডিএসবি (ডিটেকটিভ শাখা)–এর সাম্প্রতিক তদন্তে উঠে এসেছে,চাকরিতে যোগদানের বহু পরে কৃতিস দাস আদাঐর গ্রামে এক টুকরো জমি কিনেছেন। ওই জমিতে তিনি বাড়ি নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।


‎স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী, ১৯৮০ সালের পর থেকে মাঠপর্যায়ের পদে আন্তঃজেলা নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়। স্থানীয় প্রার্থী না পেলে অন্য জেলার যোগ্য প্রার্থীকেও নিয়োগ দেওয়া তখনকার সময় সরকারি নিয়ম ছিল।


‎হবিগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, তৎকালীন কেন্দ্রীয় নিয়োগনীতির আওতেই তিনি হবিগঞ্জে চাকরি পেয়েছিলেন।


‎জনস্বাস্থ্য বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, আন্তঃজেলা নিয়োগ বৈধ। তবে জন্মস্থান সংক্রান্ত তথ্য যাচাইযোগ্য নথি দিয়ে নিশ্চিত করতে হয়।


‎জন্মস্থান ইস্যুতে কৃতিস দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সাতবর্গে আমার বাড়ি নেই, আমার বাড়ি আদাঐরে। এরপর জন্মস্থান নিয়ে পরবর্তী প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন এবং পরে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।


‎উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইমরুল হাসান বলেন,বিষয়টি পুরোপুরি প্রশাসনিক। কোনো অসঙ্গতি থাকলে পেনশন প্রক্রিয়ায় তদন্তের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


‎৩৫ বছরের স্বাস্থ্যসেবা শেষে যখন কৃতিস দাস অবসরের পথে, ঠিক সেই সময় জন্মস্থান বিতর্ক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে মাধবপুর ও বিজয়নগরে। এখন স্থানীয় জনসাধারণের একটাই প্রশ্ন,আসলে তাঁর প্রকৃত জন্মস্থান কোথায়, আর এই বিরোধে কী সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ?