
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের ছোটচওনা গ্রামের গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার (১৯) কে যৌতুকের দাবিতে হত্যা করা হয়েছে—এই অভিযোগ তুলে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে আজ শনিবার ১৫ নভেম্বর টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।
নিহত সুমাইয়া আক্তারের মা সুফিয়া খাতুন লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী শ্বশুরবাড়ির লোকজন সুমাইয়াকে হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি ও তার পরিবার এখন জীবননাশের ঝুঁকিতে আছেন বলেও জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সুফিয়া খাতুন অভিযোগ করে বলেন, তিনি তার ছোট মেয়ে সুমাইয়া আক্তারকে একই গ্রামের বাহাদুর মিয়ার ছেলে বাবলু মিয়ার কাছে বিয়ে দিয়েছিলেন। বিয়ের পর থেকেই সুমাইয়াকে নানাভাবে নির্যাতন করা হতো।
তার স্বামী বাবলু মিয়া অধিকাংশ সময় বেকার থাকতেন এবং নেশায় আসক্ত ছিলেন। বাবলু কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধের সঙ্গেও জড়িত বলে অভিযোগ করেন সুফিয়া খাতুন।

সম্প্রতি বাবলু একটি অটোরিকশা কেনার জন্য সুমাইয়ার কাছে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করে চাপ দিতে থাকে, কিন্তু সুমাইয়ার মা সুফিয়া খাতুন ধারদেনা করে বাবলু কে ১০ হাজার দেন। কিন্তু বাকী টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে সুমাইয়া কে। সুফিয়া খাতুন তিনি বলেন, বিয়ের পর থেকে বাবলু ও তার মা সুমাইয়াকে পিত্রালয়ে যেতে দিত না এবং নিয়মিত মারধর করত।
সুফিয়া খাতুন অভিযোগ করেন, বাবলু মিয়া, তার মা এবং বাবলুর চার ভাই মিলে সুমাইয়াকে মানসিকভাবে নির্যাতন করতো। এই নিয়ে সব সময় আতংকে থাকত সুমাইয়া।
গত ১২ নভেম্বর রাতে বাবলু মিয়া তার নিজের ঘরেই সুমাইয়াকে হত্যা করে এবং ভোরে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
সুফিয়া খাতুন অভিযোগ করেন, ১২ নভেম্বর ঘটনার পর পুলিশ এসে সুমাইয়ার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। কিন্তু পরে পরিবার হাসপাতালে খোঁজ নিলে কর্তৃপক্ষ জানায় সুমাইয়া নামে কোনো লাশ আসেনি।
এর পরপরই পরিবারের অজান্তে স্থানীয় ছোটচওনা কবরস্থানে সুমাইয়ার লাশ দাফন করা হয়।
সুমাইয়ার পরিবার সখীপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ তাদের অভিযোগ না শুনে একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করে। পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর হত্যা মামলা নেওয়া হবে।
সুফিয়া খাতুন অভিযোগ করেন, স্থানীয় সাংবাদিক ও পুলিশের কাছে কোনো প্রকার সহযোগিতা না পাওয়ায় তারা আজ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করতে বাধ্য হয়েছেন।
লিখিত বক্তব্যে সুফিয়া খাতুন অভিযোগ করেন, সুমাইয়ার শ্বশুরবাড়ির লোকজন ও তাদের আত্মীয়স্বজন প্রভাবশালী হওয়ায় তারা সুমাইয়া হত্যাকে আত্মহত্যা বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
এই প্রভাবশালী মহলের কারণে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে তিনি জানান।
সুফিয়া খাতুন সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কাছে অনুরোধ করেন যে, আপনারা প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে সুমাইয়া হত্যার সংবাদটি প্রচারের এবং তার মেয়ের হত্যাকারী বাবলু ও তার পরিবারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
একই সঙ্গে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তিনি নিহত সুমাইয়া আক্তারের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
হ্যাপী আক্তার, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি। 



















