
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ১০নং সুবিদপুর ইউনিয়নের বলাকিপুর গ্রাম। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২২ অক্টোবর (বুধবার) বিকাল ৫টার দিকে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, বানিয়াচংয়ের বলাকিপুর গ্রামের সারাজ মোল্লার ছেলে রিয়াদের বোনকে একই গ্রামের সাদেক মিয়ার ছোট ভাই পুলিশ সদস্য এনায়েদ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ভালোবাসতেন।
তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল এবং এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্য এনায়েদ মিয়া রিয়াদের বোনকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেন। এই বিয়ে রিয়াদ ও তার পরিবারের সদস্যরা মেনে নিতে পারেননি, যার ফলে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ ও উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
এই প্রেমের জের ও বিয়ে মেনে নিতে না পারার প্রতিশোধ নিতে রিয়াদ ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশ সদস্য এনায়েদ মিয়ার বড় ভাই সাদেক মিয়ার (২৫) ওপর হামলা চালায়।
হামলায় সাদেক মিয়া ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত হয়ে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় হাসপাতালে স্বজনদের আহাজারিতে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত রিয়াদ পালিয়ে যায়। গ্রামে হামলার ঘটনা ও সাদেক মিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
সন্ধ্যার দিকে বানিয়াচং থানা পুলিশ জানায়, সাদেক মিয়ার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্ত রিয়াদকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
রাত ১১টা ১০মিনিটে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাদেক মিয়ার মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, সেই দিন দুটি হত্যাকাণ্ডের মূল মোটিভ উন্মোচনে তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে তিনি সহ পুলিশ বাহিনী অভিযানে রয়েছে।
তবে এই দুটি ঘটনায় রাত ১১টা ১০মিনিট পর্যন্ত কেউ আটক হয়নি এবং পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানান। লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি মিজানুর রহমান আরও জানান, মাদ্রাসা ছাত্র মঈনুল ও সাদেকের লাশ, হাসপাতালে ডাক্তার না আজকে ময়নাতদন্ত হচ্ছে না। আগামীকাল ২৩ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সকালে দুটি লাশের ময়নাতদন্ত করা হবে।
উভয় পরিবারের লোকজন লাশের জন্য আগামীকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন।
এ আর রুমন 


















