
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাহমুদুল হাসানকে শারীরিক লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকালে ঢাকা-জয়দেবপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে ধনবাড়ীর ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা।
বক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত সোমবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র ধনবাড়ী উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আমজাদ হোসেনের নাতি লাবিব, ইমাম সাহেবকে নামাজের আগে এক নেতার জন্য দোয়া করতে বলেন।
ইমাম সাহেব নামাজের পর দোয়া করার কথা বললে লাবিব আকস্মিক হামলা চালিয়ে ইমাম ও খতিব মাহমুদুল হাসানকে শারীরিক লাঞ্ছিত করেন।
ধনবাড়ীর ইমাম মুয়াজ্জিন পরিষদ, সকল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং মুসল্লিরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং রাস্তা অবরোধ করে রাখেন। বক্তারা দ্রুত বিচার ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। রাস্তা অবরোধের ফলে হাজার হাজার গাড়ী আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশ ইমাম মুয়াজ্জিন পরিষদ টাঙ্গাইল জেলার সেক্রেটারি মওলানা মাহমুদুল হাসান, ধনবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি রফিক আহমদ, সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান ও সাংগঠনিক সম্পাদক রোকনুজ্জামান সহ অন্যান্যরা সমাবেশে বক্তব্য দেন।
তারা আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে অভিযুক্ত লাবিবসহ জড়িত সকলকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
বক্তারা আরও বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সঠিক বিচার না হলে টাঙ্গাইল জেলায় বৃহত্তর কঠোর আন্দোলন কর্মসূচীর হুঁশিয়ারি দেন এবং আহত ইমাম ও খতিব মাহমুদুল হাসানও অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম আজিজুর রহমান অভিযুক্তের দাদা আমজাদ হোসেনকে উপজেলা বিএনপি সহ-সভাপতি পদ থেকে মৌখিক বহিষ্কারের ঘোষণা দেন এবং অভিযুক্তের শাস্তির দাবি জানান।

অবরোধ স্থলে উপস্থিত হন ধনবাড়ীর ইউএনও শাহীন মাহমুদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সায়েম ইমরান, সহকারী পুলিশ সুপার (মধুপুর সার্কেল) আরিফুল ইসলাম এবং ধনবাড়ী থানার ওসি শহিদুল্লাহ। কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে বিক্ষুব্ধরা অবরোধ তুলে নেন।
হ্যাপি আক্তার ধনবাড়ি (টাঙ্গাইল) থেকে। 



















