
রাজধানীর দক্ষিণখান থানার আশকোনা-নদ্দাপাড়া এলাকার বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী পাকিস্তানপন্থী স্থানীয় দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি- মোহাম্মদ মঈজউদ্দিন ও মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা, চাঁদাবাজি, প্রাণনাশের হুমকি এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় জনগন। তাদের দাবী অভিযুক্তরা কট্টর মৌলবাদী সংগঠন হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন। এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন নকল দলিল তৈরী করে জমিদখল, বাসাবাড়ি দখল, চাঁদাবাজি করা তাদের প্রতিদিনের কাজ। তাদের প্রভাবের কারণে এলাকার কেউ কোন কথা বলার সাহস পায় না্। কেউ যদি তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে তাকে গুম করে অথবা তাদের টর্চার সেলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। তাই ভয়ে কেউ কোন কথা বলেনা। এলাকার সুন্দরী মেয়েদের তাদের টর্চার সেলে নিয়ে ধর্ষনেরও অভিযোগ আছে। তাদের সন্ত্রাসীরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে।
রাজধানীর দক্ষিণখান থানার আশকোনা-নদ্দাপাড়া এলাকার একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী তাঁর বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা, চাঁদাবাজি, প্রাণনাশের হুমকি এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগকারী জানান, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে (পিডিবি) দীর্ঘদিন প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অবসরের পর আশকোনায় তার স্ত্রীর উত্তরাধীকারসূত্রে প্রাপ্ত পারিবারিক জমিতে একটি বাড়ি নির্মাণ করলে সেটি দখলের উদ্দেশ্যে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি, পরে চাঁদা দাবি, নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি এবং বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম দামে বাড়িটি বিক্রি করতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। তিনি আরও দাবি করেন, স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কার্যকর প্রতিকার পাননি। অভিযোগকারী আরও বলেন, ২০২১ ও ২০২২ সালে তাঁর ওপর একাধিকবার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এমনকি তাঁর পরিবারের সদস্যদের অপহরণ ও হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোহাম্মদ মঈজউদ্দিন ও মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়ার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া সম্ভব হয়নি।
স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















