
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে আপন ভাতিজার শাবলের আঘাতে চাচা খুনের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এই মামলার বিশেষ দিক হিসেবে উঠে এসেছে বাদীপক্ষের সততা ও স্বচ্ছতা। পূর্বশত্রুতা থাকা সত্ত্বেও কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে আসামি না করে কেবল প্রকৃত জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করে এলাকায় নজির স্থাপন করেছেন নিহতের পরিবার।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল (রবিবার) সকাল আনুমানিক ৮টার সময় বানিয়াচংয়ের ৯নং পুখরা ইউনিয়নের আমীরপুর (আওয়াল মহল) গ্রামের বাসিন্দা মৃত মফিজ উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ আব্দুর রউফ (৭০) নাস্তা সেরে পাওনা টাকা পরিশোধের উদ্দেশ্যে বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে পারিবারিক বিরোধের জেরে তার আপন ভাতিজা মোহাম্মদ শামুয়েল (২৪) তাকে বাধা দেয় এবং তর্কে লিপ্ত হয়।
একপর্যায়ে শামুয়েল লোহার শাবল দিয়ে আব্দুর রউফের ঘাড়ে ও মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় নিহতের ছোট মেয়ে আঁখি আক্তার চিৎকার করলে তাকেও আঘাত করা হয়। প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে ঘাতক শামুয়েল পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুর রউফকে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন মধ্যরাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ময়নাতদন্ত শেষে ১৫ এপ্রিল বুধবার বিকেলে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
নিহত আব্দুর রউফের সাথে প্রতিবেশী ও পুখরা ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজ সামরুল ইসলামের পরিবারের দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও মামলা চলছিল। হত্যাকাণ্ডের পর জনমনে গুঞ্জন ওঠে যে, এই ঘটনায় চেয়ারম্যানের পরিবারের যোগসাজশ থাকতে পারে। এমনকি অন্য কাউকে ফাঁসানোর জন্য অর্থ লেনদেনের প্রলোভনও আসে।
তবে ভিকটিমের পরিবার আল্লাহর ভয়ে এবং নির্দোষ কেউ যেন হয়রানি না হয়, সেই নীতিতে অটল থাকেন। গত ২০ এপ্রিল এক সমঝোতা মিটিংয়ে চেয়ারম্যান ও তার পরিবার পূর্বের সকল বিরোধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে কোনো বিবাদে লিপ্ত হবে না মর্মে লিখিত অঙ্গীকার করেন। নিহতের পরিবার কেবলমাত্র প্রত্যক্ষভাবে জড়িতদের বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
গত ২০ এপ্রিল রাত ৯টায় বানিয়াচং থানায় নিহতের ছোট ছেলে মাওলানা আশিকুর রহমান বাদী হয়ে চারজনকে সরাসরি আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলেন-মোহাম্মদ শামুয়েল (২৪) প্রধান আসামি,আমেনা খাতুন (৪৫)শামুয়েলের মা,আরিফা খাতুন (৩০) শামুয়েলের স্ত্রী,সুফি মিয়া (৫০) শামুয়েলের পিতা। এছাড়াও আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, প্রধান আসামি শামুয়েল এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত এবং মা-বাবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল।
বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ জানান,ভিকটিমের ছোট ছেলে মামলা দায়ের করেছেন। যেহেতু মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে, তাই প্রকৃত আসামি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা ব্যবস্থা নিতে পারিনি। এখন মামলা রেকর্ড হয়েছে, আমরা অতি দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসব। ওসি আরও যোগ করেন,নিরপরাধ ব্যক্তিকে আসামি না করে কেবল প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা করে ভিকটিমের পরিবার যে সততা দেখিয়েছে, তা প্রশংসার দাবিদার। এই মামলা তদন্তে আমরা বাদীসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
শাব্বীর আহমদ শিবলী নোমানী, বানিয়াচং থেকে। 


















