সিলেট ১০:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
News Title :
পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে থাকা দেশের অন্যতম অঞ্চল হচ্ছে সিলেটঃ ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক গ্রামবাসীর উদ্যোগে ঐতিহাসিক মাকালকান্দি গণহত্যা দিবস পালন, ছিলনা এমপি ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মসূচি ‎গোয়াইনঘাটে মেছোবিড়াল পিটিয়ে হত্যা, ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ হবিগঞ্জে বিক্ষোভের প্রস্তুতিকালে আটক, ২১ ঘণ্টা পর মুচলেকায় মুক্ত মাহদীসহ তিনজন ‎নবীগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদের মৃত্যু, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন কুলাউড়ায় অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ নবাগত ইউএনও’র সঙ্গে শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের মতবিনিময় ‎ছাতকে মোবাইল কোর্ট: চার প্রতিষ্ঠানকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা, পচা মাংস জব্দ জুড়ীতে হাকালুকি হাওরের মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই উৎপাদন বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত‎ ‎আবু সালেহ আহমদ : শেকড় সন্ধানী এক নিভৃতচারী সাহিত্যসাধক।

এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে মৌলভীবাজারের ৬ শিক্ষার্থীর ফুল স্কলারশিপ

চা কন্যারা আজ মৌলভীবাজারের গর্ব





‎চা-বাগানের কুয়াশা আর সবুজের ভেতর থেকে উঠে আসা এই কন্যাদের গল্প আজ আর শুধু গল্প নয়—এটি সংগ্রাম, সাহস আর স্বপ্নপূরণের এক জীবন্ত দলিল।
‎মৌলভীবাজারের প্রত্যন্ত চা-বাগান থেকে উঠে আসা ছয় কন্যা—শ্রাবনী কৈরী, শ্রাবন্তী কৈরী, লাকি নাইডু, পুনম লোহার, অনিমা রানী পাল ও সৃষ্টি চাষা—যারা জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে এখন পৌঁছে গেছেন আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার দুয়ারে। Asian University for Women-এ ফুল স্কলারশিপ অর্জন তাদের জীবনে শুধু একটি সুযোগ নয়, বরং এটি একটি নতুন দিগন্তের সূচনা।

‎দারিদ্র্য, সীমাবদ্ধতা আর নানা সামাজিক প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে এই কন্যারা প্রমাণ করেছে—স্বপ্ন যদি দৃঢ় হয়, তবে পথ যত কঠিনই হোক, সাফল্য একদিন ধরা দেয়ই। তাদের এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়; এটি পুরো চা-শ্রমিক সম্প্রদায়ের জন্য এক অনুপ্রেরণার বাতিঘর।
‎২০১৮ সালে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ আজ এক নীরব বিপ্লবে রূপ নিয়েছে। প্রথমে হাতে গোনা কয়েকজন দিয়ে শুরু হলেও, এখন পর্যন্ত ৮৫ জন শিক্ষার্থী এই সুযোগ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে ইতোমধ্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছেন। কেউ পাড়ি জমিয়েছেন ইউরোপে, কেউ বা যুক্ত হয়েছেন বিশ্বখ্যাত Harvard University-এর মতো প্রতিষ্ঠানে।

‎এই অগ্রযাত্রা প্রমাণ করে—সুযোগ, সহায়তা এবং সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মেয়েরাও বিশ্বদরবারে নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরতে পারে।
‎চা-বাগানের নিরব সবুজের ভেতর জন্ম নেওয়া এই স্বপ্নগুলো আজ আর সীমাবদ্ধ নেই সেই গণ্ডিতে; তারা ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বজুড়ে, আলোকিত করছে নতুন প্রজন্মের পথ।
‎এই কন্যাদের গল্প তাই শুধু সাফল্যের গল্প নয়—এটি এক পরিবর্তনের গল্প, এক নতুন সম্ভাবনার গল্প, যেখানে প্রতিটি সংগ্রাম একদিন সাফল্যের আলোয় উদ্ভাসিত হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে থাকা দেশের অন্যতম অঞ্চল হচ্ছে সিলেটঃ ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক

এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে মৌলভীবাজারের ৬ শিক্ষার্থীর ফুল স্কলারশিপ

সময় ০৪:২৬:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
চা কন্যারা আজ মৌলভীবাজারের গর্ব





‎চা-বাগানের কুয়াশা আর সবুজের ভেতর থেকে উঠে আসা এই কন্যাদের গল্প আজ আর শুধু গল্প নয়—এটি সংগ্রাম, সাহস আর স্বপ্নপূরণের এক জীবন্ত দলিল।
‎মৌলভীবাজারের প্রত্যন্ত চা-বাগান থেকে উঠে আসা ছয় কন্যা—শ্রাবনী কৈরী, শ্রাবন্তী কৈরী, লাকি নাইডু, পুনম লোহার, অনিমা রানী পাল ও সৃষ্টি চাষা—যারা জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে এখন পৌঁছে গেছেন আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার দুয়ারে। Asian University for Women-এ ফুল স্কলারশিপ অর্জন তাদের জীবনে শুধু একটি সুযোগ নয়, বরং এটি একটি নতুন দিগন্তের সূচনা।

‎দারিদ্র্য, সীমাবদ্ধতা আর নানা সামাজিক প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে এই কন্যারা প্রমাণ করেছে—স্বপ্ন যদি দৃঢ় হয়, তবে পথ যত কঠিনই হোক, সাফল্য একদিন ধরা দেয়ই। তাদের এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়; এটি পুরো চা-শ্রমিক সম্প্রদায়ের জন্য এক অনুপ্রেরণার বাতিঘর।
‎২০১৮ সালে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ আজ এক নীরব বিপ্লবে রূপ নিয়েছে। প্রথমে হাতে গোনা কয়েকজন দিয়ে শুরু হলেও, এখন পর্যন্ত ৮৫ জন শিক্ষার্থী এই সুযোগ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে ইতোমধ্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছেন। কেউ পাড়ি জমিয়েছেন ইউরোপে, কেউ বা যুক্ত হয়েছেন বিশ্বখ্যাত Harvard University-এর মতো প্রতিষ্ঠানে।

‎এই অগ্রযাত্রা প্রমাণ করে—সুযোগ, সহায়তা এবং সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মেয়েরাও বিশ্বদরবারে নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরতে পারে।
‎চা-বাগানের নিরব সবুজের ভেতর জন্ম নেওয়া এই স্বপ্নগুলো আজ আর সীমাবদ্ধ নেই সেই গণ্ডিতে; তারা ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বজুড়ে, আলোকিত করছে নতুন প্রজন্মের পথ।
‎এই কন্যাদের গল্প তাই শুধু সাফল্যের গল্প নয়—এটি এক পরিবর্তনের গল্প, এক নতুন সম্ভাবনার গল্প, যেখানে প্রতিটি সংগ্রাম একদিন সাফল্যের আলোয় উদ্ভাসিত হয়।