
সিলেটের ওসমানীনগরে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল এবং অর্থ দাবির অভিযোগে দায়ের করা পর্নোগ্রাফি মামলার একমাত্র আসামি মাছরুর আহমদ সাকিবকে (২৬) গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১.১৫ মিনিটে কানাইঘাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গত ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ভিকটিম নিজে বাদী হয়ে সিলেট জেলার ওসমানীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ১৬ এপ্রিল ৯ নাম্বার মামলা দায়ের করা হয়। মামলারটি পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ এর ৮(২)/৮(৩) ধারা রুজু করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম ওসমানীনগর থানার উমরপুর বাজার এলাকার বাসিন্দা। গ্রেফতারকৃত সাকিবের সাথে ভিকটিমের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং সেই সুবাদে সাকিব কিছু ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে রাখে। পরবর্তীতে ভিকটিমের অন্যত্র বিয়ে হয়ে গেলে সাকিব সেই ছবি ও ভিডিও ভিকটিমের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে তাকে পুনরায় ফিরে আসার জন্য চাপ দিতে থাকে।
গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাত ১২টার দিকে সাকিব ভিকটিমকে হুমকি দেয় যে, তার কথা না শুনলে এই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও শ্বশুরবাড়ির লোকসহ আত্মীয়-স্বজনদের পাঠিয়ে দেবে এবং পর্নো সাইটে ছড়িয়ে দেবে। বিষয়টি নিয়ে ভিকটিমের পিতা সাকিবের সাথে যোগাযোগ করলে সে বিষয়টি মীমাংসার জন্য ৫ দিনের মধ্যে ২ লক্ষ টাকা দাবি করে, অন্যথায় ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।
এই ঘটনার পর মামলা দায়ের হলে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিপিএসসি, সিলেট এর একটি আভিযানিক দল ১৮ এপ্রিল রাতে কানাইঘাট বাজার থেকে সাকিবকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত আসামি মাছরুর আহমদ সাকিব (২৬) সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার কানাইঘাট বাজার এলাকার নিজাম উদ্দিনের ছেলে।
র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিঃ পুলিশ সুপার কে, এম, শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিকে সিলেট জেলার ওসমানীনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
স্টাফ রিপোর্টার 


















