সিলেট ১২:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
News Title :
বানিয়াচংয়ে জমকালো আয়োজনে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত‎ ‎ক্লুলেস সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রহস্য উদঘাটন, দুই আসামি গ্রেফতার ‎নবীগঞ্জের একমাত্র আসামি তুহিন সিলেট থেকে গ্রেফতার ‎লাখাইয়ে কর্মকর্তা সাংবাদিক  মুক্তিযোদ্ধা সহ সুশীল সমাজের সাথে মতবিনিময় করেন জেলা প্রশাসক। ‎জামালপুরের দিগপাইতে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: হত্যা নাকি আত্মহত্যা এ নিয়ে রহস্য!‎ ‎জামালপুরে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে  পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক কর্মশালা  ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রামু থেকে নিখোঁজ কলেজছাত্রী টাঙ্গাইলে উদ্ধার চুনারুঘাটে মাদকবিরোধী যৌথ অভিযান: নারীকে ৬ মাসের কারাদণ্ড, জরিমানা ‎সখিপুর পৌরসভায় ৩নং ওয়ার্ডে টানা বিদ্যুৎ বিপর্যয়: চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাঠ পর্যায়ের কৃষি উন্নয়নমূলক ও মানবিক কার্যক্রম পরিদর্শন
মৌলভীবাজারের কন্যার বিশ্বজয়...

‎কানাডায় সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় ডলি বেগমের আবেগঘন বক্তৃতা: বিশ্বমঞ্চে অনন্য নজির



‎কানাডার ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন ডলি বেগম। কিন্তু এবার তিনি আলোচনায় এসেছেন কেবল তার রাজনৈতিক সাফল্যের জন্য নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে নিজের শিকড় ও মাতৃভাষাকে গর্বের সাথে তুলে ধরার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। মৌলভীবাজারের এই কৃতি সন্তান প্রমাণ করেছেন, আকাশছোঁয়া সাফল্য পেলেও নাড়ির টান কখনো ভোলা যায় না।

‎সম্প্রতি বিজয়ের মঞ্চে বক্তব্য দিতে গিয়ে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ডলি বেগম তার বক্তব্য ইংরেজিতে শুরু করেছিলেন। তিনি বলছিলেন,“My parents”। কিন্তু পরক্ষণেই প্রবাস জীবনের ব্যস্ততা আর রাজনৈতিক প্রটোকল ছাপিয়ে বেরিয়ে আসে তার হৃদয়ের গভীর থেকে আসা সেই পরিচিত ডাক। আবেগে আপ্লুত হয়ে তিনি নিজের আঞ্চলিক ভাষায় বলে ওঠেন—
‎“মাই, মাই কই গেছইন… মাই আব্বা…
‎তার মুখে এই কয়েকটি শব্দই যেন প্রমাণ করে দিল—ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি একটি পরিচয় এবং হৃদয়ের গভীরতম বন্ধন। বিদেশের মাটিতে সংসদ সদস্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়েও তিনি ভুলে যাননি তার মা-মাটি আর মানুষের ভাষা।

‎মৌলভীবাজারের গর্ব ডলি বেগমের এই আচরণ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সিলেটি তথা বাঙালিদের গর্বিত করেছে। অন্য একটি দেশের নীতিনির্ধারক হয়েও নিজের মাতৃভাষা ও সংস্কৃতিকে এভাবে পরম মমতায় তুলে ধরা সত্যিই বিরল।
‎তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, নিজের শেকড়কে ধারণ করেই বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো সম্ভব।

‎ডলি বেগমের এই সাহসিকতা ও ভাষার প্রতি ভালোবাসা আসলে সিলেটের মানুষের চিরায়ত বৈশিষ্ট্য। সিলেটের মানুষের মধ্যে নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের প্রতি যে গভীর টান রয়েছে, তারই উজ্জ্বল প্রতিফলন দেখা গেল ডলি বেগমের কণ্ঠে। তার এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই মন্তব্য করেছেন— দেশ-বিদেশে যেখানেই থাকি না কেন,

‎আমরা পরিচয়ে গর্বিত যে আমরা ‘হক্কল সিলেটি’।
‎এভাবেই বিশ্বমঞ্চে একের পর এক সাফল্যের গল্প লিখে চলেছেন সিলেটের মানুষ। ডলি বেগমের মতো ব্যক্তিত্বরা প্রতিনিয়ত উজ্জ্বল করছেন বাংলাদেশের নাম, মনে করিয়ে দিচ্ছেন আমাদের শেকড়ের শক্তিকে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বানিয়াচংয়ে জমকালো আয়োজনে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত‎

মৌলভীবাজারের কন্যার বিশ্বজয়...

‎কানাডায় সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় ডলি বেগমের আবেগঘন বক্তৃতা: বিশ্বমঞ্চে অনন্য নজির

সময় ০৭:২৯:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬



‎কানাডার ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন ডলি বেগম। কিন্তু এবার তিনি আলোচনায় এসেছেন কেবল তার রাজনৈতিক সাফল্যের জন্য নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে নিজের শিকড় ও মাতৃভাষাকে গর্বের সাথে তুলে ধরার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। মৌলভীবাজারের এই কৃতি সন্তান প্রমাণ করেছেন, আকাশছোঁয়া সাফল্য পেলেও নাড়ির টান কখনো ভোলা যায় না।

‎সম্প্রতি বিজয়ের মঞ্চে বক্তব্য দিতে গিয়ে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ডলি বেগম তার বক্তব্য ইংরেজিতে শুরু করেছিলেন। তিনি বলছিলেন,“My parents”। কিন্তু পরক্ষণেই প্রবাস জীবনের ব্যস্ততা আর রাজনৈতিক প্রটোকল ছাপিয়ে বেরিয়ে আসে তার হৃদয়ের গভীর থেকে আসা সেই পরিচিত ডাক। আবেগে আপ্লুত হয়ে তিনি নিজের আঞ্চলিক ভাষায় বলে ওঠেন—
‎“মাই, মাই কই গেছইন… মাই আব্বা…
‎তার মুখে এই কয়েকটি শব্দই যেন প্রমাণ করে দিল—ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি একটি পরিচয় এবং হৃদয়ের গভীরতম বন্ধন। বিদেশের মাটিতে সংসদ সদস্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়েও তিনি ভুলে যাননি তার মা-মাটি আর মানুষের ভাষা।

‎মৌলভীবাজারের গর্ব ডলি বেগমের এই আচরণ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সিলেটি তথা বাঙালিদের গর্বিত করেছে। অন্য একটি দেশের নীতিনির্ধারক হয়েও নিজের মাতৃভাষা ও সংস্কৃতিকে এভাবে পরম মমতায় তুলে ধরা সত্যিই বিরল।
‎তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, নিজের শেকড়কে ধারণ করেই বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো সম্ভব।

‎ডলি বেগমের এই সাহসিকতা ও ভাষার প্রতি ভালোবাসা আসলে সিলেটের মানুষের চিরায়ত বৈশিষ্ট্য। সিলেটের মানুষের মধ্যে নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের প্রতি যে গভীর টান রয়েছে, তারই উজ্জ্বল প্রতিফলন দেখা গেল ডলি বেগমের কণ্ঠে। তার এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই মন্তব্য করেছেন— দেশ-বিদেশে যেখানেই থাকি না কেন,

‎আমরা পরিচয়ে গর্বিত যে আমরা ‘হক্কল সিলেটি’।
‎এভাবেই বিশ্বমঞ্চে একের পর এক সাফল্যের গল্প লিখে চলেছেন সিলেটের মানুষ। ডলি বেগমের মতো ব্যক্তিত্বরা প্রতিনিয়ত উজ্জ্বল করছেন বাংলাদেশের নাম, মনে করিয়ে দিচ্ছেন আমাদের শেকড়ের শক্তিকে।