সিলেট ১০:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
News Title :
‎কানাডায় সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় ডলি বেগমের আবেগঘন বক্তৃতা: বিশ্বমঞ্চে অনন্য নজির হাম-রুবেলা প্রতিরোধে দেশব্যাপী টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু‎ ‎মৌলভীবাজারে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ক অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত ঝড়ের তাণ্ডবে নবীগঞ্জে জনদুর্ভোগ, গাছ পড়ে সড়ক বন্ধ, বিদ্যুৎ নেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা ‎সিলেট ওসমানী মেডিকেলে বানিয়াচংয়ের কুখ্যাত দালাল চক্রের মুলহোতা আটক। ‎বানিয়াচংয়ে জমি নিয়ে বিরোধ: ভাইদের আহত প্রবাসীর মৃত্যু, ভাই ও ভাবি গ্রেপ্তার‎ ‎বানিয়াচংয়ে অকাল বন্যায় ডুবছে কৃষকের স্বপ্ন: ফসল রক্ষায় লড়ছেন দিশেহারা কৃষক ‎সিলেটে ও সুনামগঞ্জে র‍্যাব-বিআরটিএ’র যৌথ অভিযান: ১১ চালককে জরিমানা, ৭টি সিএনজি জব্দ‎ ‎বাডসের বৈশাখী উৎসবে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হকঃ‎আলোকিত সমাজ গঠনে শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চা অপরিহার্য জামালপুরে গ্রিন বিজনেস মডেলে ভুট্টা চাষের ফসল চাষ প্রদর্শনী ও কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত
মৌলভীবাজারের কন্যার বিশ্বজয়...

‎কানাডায় সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় ডলি বেগমের আবেগঘন বক্তৃতা: বিশ্বমঞ্চে অনন্য নজির



‎কানাডার ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন ডলি বেগম। কিন্তু এবার তিনি আলোচনায় এসেছেন কেবল তার রাজনৈতিক সাফল্যের জন্য নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে নিজের শিকড় ও মাতৃভাষাকে গর্বের সাথে তুলে ধরার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। মৌলভীবাজারের এই কৃতি সন্তান প্রমাণ করেছেন, আকাশছোঁয়া সাফল্য পেলেও নাড়ির টান কখনো ভোলা যায় না।

‎সম্প্রতি বিজয়ের মঞ্চে বক্তব্য দিতে গিয়ে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ডলি বেগম তার বক্তব্য ইংরেজিতে শুরু করেছিলেন। তিনি বলছিলেন,“My parents”। কিন্তু পরক্ষণেই প্রবাস জীবনের ব্যস্ততা আর রাজনৈতিক প্রটোকল ছাপিয়ে বেরিয়ে আসে তার হৃদয়ের গভীর থেকে আসা সেই পরিচিত ডাক। আবেগে আপ্লুত হয়ে তিনি নিজের আঞ্চলিক ভাষায় বলে ওঠেন—
‎“মাই, মাই কই গেছইন… মাই আব্বা…
‎তার মুখে এই কয়েকটি শব্দই যেন প্রমাণ করে দিল—ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি একটি পরিচয় এবং হৃদয়ের গভীরতম বন্ধন। বিদেশের মাটিতে সংসদ সদস্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়েও তিনি ভুলে যাননি তার মা-মাটি আর মানুষের ভাষা।

‎মৌলভীবাজারের গর্ব ডলি বেগমের এই আচরণ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সিলেটি তথা বাঙালিদের গর্বিত করেছে। অন্য একটি দেশের নীতিনির্ধারক হয়েও নিজের মাতৃভাষা ও সংস্কৃতিকে এভাবে পরম মমতায় তুলে ধরা সত্যিই বিরল।
‎তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, নিজের শেকড়কে ধারণ করেই বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো সম্ভব।

‎ডলি বেগমের এই সাহসিকতা ও ভাষার প্রতি ভালোবাসা আসলে সিলেটের মানুষের চিরায়ত বৈশিষ্ট্য। সিলেটের মানুষের মধ্যে নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের প্রতি যে গভীর টান রয়েছে, তারই উজ্জ্বল প্রতিফলন দেখা গেল ডলি বেগমের কণ্ঠে। তার এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই মন্তব্য করেছেন— দেশ-বিদেশে যেখানেই থাকি না কেন,

‎আমরা পরিচয়ে গর্বিত যে আমরা ‘হক্কল সিলেটি’।
‎এভাবেই বিশ্বমঞ্চে একের পর এক সাফল্যের গল্প লিখে চলেছেন সিলেটের মানুষ। ডলি বেগমের মতো ব্যক্তিত্বরা প্রতিনিয়ত উজ্জ্বল করছেন বাংলাদেশের নাম, মনে করিয়ে দিচ্ছেন আমাদের শেকড়ের শক্তিকে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎কানাডায় সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় ডলি বেগমের আবেগঘন বক্তৃতা: বিশ্বমঞ্চে অনন্য নজির

মৌলভীবাজারের কন্যার বিশ্বজয়...

‎কানাডায় সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় ডলি বেগমের আবেগঘন বক্তৃতা: বিশ্বমঞ্চে অনন্য নজির

সময় ০৭:২৯:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬



‎কানাডার ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন ডলি বেগম। কিন্তু এবার তিনি আলোচনায় এসেছেন কেবল তার রাজনৈতিক সাফল্যের জন্য নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে নিজের শিকড় ও মাতৃভাষাকে গর্বের সাথে তুলে ধরার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। মৌলভীবাজারের এই কৃতি সন্তান প্রমাণ করেছেন, আকাশছোঁয়া সাফল্য পেলেও নাড়ির টান কখনো ভোলা যায় না।

‎সম্প্রতি বিজয়ের মঞ্চে বক্তব্য দিতে গিয়ে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ডলি বেগম তার বক্তব্য ইংরেজিতে শুরু করেছিলেন। তিনি বলছিলেন,“My parents”। কিন্তু পরক্ষণেই প্রবাস জীবনের ব্যস্ততা আর রাজনৈতিক প্রটোকল ছাপিয়ে বেরিয়ে আসে তার হৃদয়ের গভীর থেকে আসা সেই পরিচিত ডাক। আবেগে আপ্লুত হয়ে তিনি নিজের আঞ্চলিক ভাষায় বলে ওঠেন—
‎“মাই, মাই কই গেছইন… মাই আব্বা…
‎তার মুখে এই কয়েকটি শব্দই যেন প্রমাণ করে দিল—ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি একটি পরিচয় এবং হৃদয়ের গভীরতম বন্ধন। বিদেশের মাটিতে সংসদ সদস্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়েও তিনি ভুলে যাননি তার মা-মাটি আর মানুষের ভাষা।

‎মৌলভীবাজারের গর্ব ডলি বেগমের এই আচরণ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সিলেটি তথা বাঙালিদের গর্বিত করেছে। অন্য একটি দেশের নীতিনির্ধারক হয়েও নিজের মাতৃভাষা ও সংস্কৃতিকে এভাবে পরম মমতায় তুলে ধরা সত্যিই বিরল।
‎তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, নিজের শেকড়কে ধারণ করেই বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো সম্ভব।

‎ডলি বেগমের এই সাহসিকতা ও ভাষার প্রতি ভালোবাসা আসলে সিলেটের মানুষের চিরায়ত বৈশিষ্ট্য। সিলেটের মানুষের মধ্যে নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের প্রতি যে গভীর টান রয়েছে, তারই উজ্জ্বল প্রতিফলন দেখা গেল ডলি বেগমের কণ্ঠে। তার এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই মন্তব্য করেছেন— দেশ-বিদেশে যেখানেই থাকি না কেন,

‎আমরা পরিচয়ে গর্বিত যে আমরা ‘হক্কল সিলেটি’।
‎এভাবেই বিশ্বমঞ্চে একের পর এক সাফল্যের গল্প লিখে চলেছেন সিলেটের মানুষ। ডলি বেগমের মতো ব্যক্তিত্বরা প্রতিনিয়ত উজ্জ্বল করছেন বাংলাদেশের নাম, মনে করিয়ে দিচ্ছেন আমাদের শেকড়ের শক্তিকে।