সিলেট ১০:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
News Title :
‎ছাতক উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত ছাতকে এম পি মিলনের হাত থেকে ১০৪ গ্রামপুলিশ পেলেন পোশাক-সরঞ্জাম, ৯৪ জন বাইসাইকেল। ‎শেরপুরে সবুজ কুড়ি ক্লাবের জার্সি উন্মোচন, খেলার মাঠ প্রতিষ্ঠার দাবি আমরা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই, একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই: ডেপুটি স্পিকার মৌলভীবাজারে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত, বিএনপিকে ঐক্যের বার্তা মুন্নার শ্রীমঙ্গলে শাবানা হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, ২ জনের কারাদণ্ড দেশ সেরা বিদ্যাপীঠে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপন  লাখাইর বুল্লা ইউনিয়ন নির্বাচনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল কাদির। ‎সিলেটে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের দুই কর্মী  গ্রেফতার, ব্যানার জব্দ বিএনপি নেতা ও তরুণ ব্যবসায়ী রাহুল ইসলামের জন্মদিনে শুভেচ্ছা‎

‎সিলেটে ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের ২ নারীসহ গ্রেপ্তার ৪: জিম্মি দশা থেকে উদ্ধার ২ যুবক

হানিট্র্যাপ’ বা প্রেমের ফাঁদে অভিযুক্ত ৪ জন কে আটক করে কোতোয়ালি পুলিশ।


‎
‎সিলেট নগরীতে ‘হানিট্র্যাপ’ বা প্রেমের ফাঁদে ফেলে জিম্মি করার অভিযোগে দুই নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এসময় তাদের কবজা থেকে জিম্মি অবস্থায় থাকা দুই যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের ওপর শারীরিক নির্যাতন ও আপত্তিকর ভিডিও ধারণের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
‎শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে কোতোয়ালি থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ এসব তথ্য নিশ্চিত করে। এর আগে শুক্রবার ভোরে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
‎
‎আটককৃত হল, কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা (চক্রের মূলহোতা) তানজিলা আক্তার ওরফে রাবেয়া বেগম তানহা (২৭), নগরীর মিরাবাজার এলাকার বাসিন্দা জেসমিন আক্তার (২২), গোয়াইনঘাট উপজেলার বাসিন্দা মো.আব্দুল জলিল (৩০), দক্ষিণ সুরমা গঙ্গা নগরের বাসিন্দা মো. জায়েদ আহমদ (৩৫)।
‎অভিযানকালে পুলিশ তাদের কাছ থেকে জিম্মি করতে ব্যবহৃত ১টি প্রাইভেট কার ও ১টি সিএনজি অটোরিক্সা জব্দ করে পুলিশ। এছাড়া ভিকটিমদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া একটি iPhone 14 Pro Max, একটি itel মোবাইল এবং চক্রের সদস্যদের ব্যবহৃত ৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

এছাড়াও সিলেটের মোটরসাইকেল ও মোবাইল চোর সিণ্ডিকেটের অন্যতম হোতা বহু মামলার আসামি কয়েছ ও তার সহযোগী একজন কে গ্রেফতার করে বন্দর বাজার পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
‎
‎সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরের মেন্দিবাগ পয়েন্ট থেকে মাহমুদুল হাসান রিফাত (২৫) ও তার বন্ধু মাহফুজ আলীকে (২৫) কৌশলে আব্দুল জলিল নামের এক সদস্য জায়েদ আহমদের সিএনজি অটোরিক্সায় তুলে নেয়। এরপর তাদের যতরপুর এলাকার ‘নবপুষ্প-১১৩’ নম্বর বাসার ৫ম তলায় নিয়ে যাওয়া হয়।
‎সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন চক্রের মূলহোতা তানজিলা আক্তার ও জেসমিন আক্তারসহ আরও ৪-৫ জন সহযোগী। জিম্মি দুই যুবককে সেখানে ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন ও ইলেকট্রিক শকদিয়ে চরম শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তাদের জোরপূর্বক উলঙ্গ করে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা হয় এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
‎
‎নির্যাতনের মুখে ভিকটিম রিফাত তার স্বজনদের মাধ্যমে ৯০ হাজার টাকা এনে দেন। তবে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হলে তারা দ্রুত কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযানে নেমে জিম্মি অবস্থায় দুই যুবককে উদ্ধার করে এবং ঘটনার সাথে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের মোবাইল অন্যান্য ভিকটিমের ছবি পাওয়া যায়। ঐ ভিকটিমরা যদি মামলা করতে চায় পুলিশ মামলা নিয়ে ব্যবস্থা নিবে বলে জানানো হয়।
‎
‎পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের ইতোমধ্যে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই চক্রের সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। উভয় ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের আলাদা দুটি মামলা দায়ের করা হয়।


‎

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎ছাতক উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

‎সিলেটে ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের ২ নারীসহ গ্রেপ্তার ৪: জিম্মি দশা থেকে উদ্ধার ২ যুবক

সময় ০৭:৩২:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
হানিট্র্যাপ’ বা প্রেমের ফাঁদে অভিযুক্ত ৪ জন কে আটক করে কোতোয়ালি পুলিশ।


‎
‎সিলেট নগরীতে ‘হানিট্র্যাপ’ বা প্রেমের ফাঁদে ফেলে জিম্মি করার অভিযোগে দুই নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এসময় তাদের কবজা থেকে জিম্মি অবস্থায় থাকা দুই যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের ওপর শারীরিক নির্যাতন ও আপত্তিকর ভিডিও ধারণের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
‎শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে কোতোয়ালি থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ এসব তথ্য নিশ্চিত করে। এর আগে শুক্রবার ভোরে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
‎
‎আটককৃত হল, কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা (চক্রের মূলহোতা) তানজিলা আক্তার ওরফে রাবেয়া বেগম তানহা (২৭), নগরীর মিরাবাজার এলাকার বাসিন্দা জেসমিন আক্তার (২২), গোয়াইনঘাট উপজেলার বাসিন্দা মো.আব্দুল জলিল (৩০), দক্ষিণ সুরমা গঙ্গা নগরের বাসিন্দা মো. জায়েদ আহমদ (৩৫)।
‎অভিযানকালে পুলিশ তাদের কাছ থেকে জিম্মি করতে ব্যবহৃত ১টি প্রাইভেট কার ও ১টি সিএনজি অটোরিক্সা জব্দ করে পুলিশ। এছাড়া ভিকটিমদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া একটি iPhone 14 Pro Max, একটি itel মোবাইল এবং চক্রের সদস্যদের ব্যবহৃত ৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

এছাড়াও সিলেটের মোটরসাইকেল ও মোবাইল চোর সিণ্ডিকেটের অন্যতম হোতা বহু মামলার আসামি কয়েছ ও তার সহযোগী একজন কে গ্রেফতার করে বন্দর বাজার পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
‎
‎সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরের মেন্দিবাগ পয়েন্ট থেকে মাহমুদুল হাসান রিফাত (২৫) ও তার বন্ধু মাহফুজ আলীকে (২৫) কৌশলে আব্দুল জলিল নামের এক সদস্য জায়েদ আহমদের সিএনজি অটোরিক্সায় তুলে নেয়। এরপর তাদের যতরপুর এলাকার ‘নবপুষ্প-১১৩’ নম্বর বাসার ৫ম তলায় নিয়ে যাওয়া হয়।
‎সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন চক্রের মূলহোতা তানজিলা আক্তার ও জেসমিন আক্তারসহ আরও ৪-৫ জন সহযোগী। জিম্মি দুই যুবককে সেখানে ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন ও ইলেকট্রিক শকদিয়ে চরম শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তাদের জোরপূর্বক উলঙ্গ করে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা হয় এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
‎
‎নির্যাতনের মুখে ভিকটিম রিফাত তার স্বজনদের মাধ্যমে ৯০ হাজার টাকা এনে দেন। তবে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হলে তারা দ্রুত কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযানে নেমে জিম্মি অবস্থায় দুই যুবককে উদ্ধার করে এবং ঘটনার সাথে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের মোবাইল অন্যান্য ভিকটিমের ছবি পাওয়া যায়। ঐ ভিকটিমরা যদি মামলা করতে চায় পুলিশ মামলা নিয়ে ব্যবস্থা নিবে বলে জানানো হয়।
‎
‎পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের ইতোমধ্যে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই চক্রের সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। উভয় ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের আলাদা দুটি মামলা দায়ের করা হয়।


‎