সিলেট ০৭:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
News Title :
‎সিলেটে হাইড্রোলিক হর্ন ও পরিবেশ আইন লঙ্ঘনে ১০ গাড়ির মালিককে জরিমানা নবীগঞ্জে আম গাছে থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার‎ ‘নেলসন ম্যান্ডেলা পিস অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ পেলেন কাজী মোহাম্মদ জমিরুল ইসলাম মমতাজ‎ ‎৪৫০ শিক্ষার্থীর একমাত্র ভরসা গুচ্ছগ্রাম বিদ্যালয়; পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতার আশ্বাস গ্রাম পুলিশের বেতন বৃদ্ধি ও চাকরি জাতীয়করণের দাবি ‎শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে অভিভাবকদের সাথে মত বিনিময় সভার অনুষ্ঠিত ‎সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৩ শ্রমিক দগ্ধ নবীগঞ্জে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বসার জায়গা নিশ্চিত করলেন পৌর প্রশাসক মো. রুহুল আমিন চুনারুঘাটে ১৫ কিলোমিটার ধাওয়া শেষে জনতার হাতে আটক ডাকাতি মামলার অভিযুক্ত, উদ্ধার প্রাইভেটকার মাদক দমনে পুলিশের বিশেষ উইং চান এমপি নাসের রহমান, তদবিরকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি ডিআইজি

‎সিলেটে ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের ২ নারীসহ গ্রেপ্তার ৪: জিম্মি দশা থেকে উদ্ধার ২ যুবক

হানিট্র্যাপ’ বা প্রেমের ফাঁদে অভিযুক্ত ৪ জন কে আটক করে কোতোয়ালি পুলিশ।



‎সিলেট নগরীতে ‘হানিট্র্যাপ’ বা প্রেমের ফাঁদে ফেলে জিম্মি করার অভিযোগে দুই নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এসময় তাদের কবজা থেকে জিম্মি অবস্থায় থাকা দুই যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের ওপর শারীরিক নির্যাতন ও আপত্তিকর ভিডিও ধারণের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
‎শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে কোতোয়ালি থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ এসব তথ্য নিশ্চিত করে। এর আগে শুক্রবার ভোরে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

‎আটককৃত হল, কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা (চক্রের মূলহোতা) তানজিলা আক্তার ওরফে রাবেয়া বেগম তানহা (২৭), নগরীর মিরাবাজার এলাকার বাসিন্দা জেসমিন আক্তার (২২), গোয়াইনঘাট উপজেলার বাসিন্দা মো.আব্দুল জলিল (৩০), দক্ষিণ সুরমা গঙ্গা নগরের বাসিন্দা মো. জায়েদ আহমদ (৩৫)।
‎অভিযানকালে পুলিশ তাদের কাছ থেকে জিম্মি করতে ব্যবহৃত ১টি প্রাইভেট কার ও ১টি সিএনজি অটোরিক্সা জব্দ করে পুলিশ। এছাড়া ভিকটিমদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া একটি iPhone 14 Pro Max, একটি itel মোবাইল এবং চক্রের সদস্যদের ব্যবহৃত ৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

এছাড়াও সিলেটের মোটরসাইকেল ও মোবাইল চোর সিণ্ডিকেটের অন্যতম হোতা বহু মামলার আসামি কয়েছ ও তার সহযোগী একজন কে গ্রেফতার করে বন্দর বাজার পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

‎সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরের মেন্দিবাগ পয়েন্ট থেকে মাহমুদুল হাসান রিফাত (২৫) ও তার বন্ধু মাহফুজ আলীকে (২৫) কৌশলে আব্দুল জলিল নামের এক সদস্য জায়েদ আহমদের সিএনজি অটোরিক্সায় তুলে নেয়। এরপর তাদের যতরপুর এলাকার ‘নবপুষ্প-১১৩’ নম্বর বাসার ৫ম তলায় নিয়ে যাওয়া হয়।
‎সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন চক্রের মূলহোতা তানজিলা আক্তার ও জেসমিন আক্তারসহ আরও ৪-৫ জন সহযোগী। জিম্মি দুই যুবককে সেখানে ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন ও ইলেকট্রিক শকদিয়ে চরম শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তাদের জোরপূর্বক উলঙ্গ করে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা হয় এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

‎নির্যাতনের মুখে ভিকটিম রিফাত তার স্বজনদের মাধ্যমে ৯০ হাজার টাকা এনে দেন। তবে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হলে তারা দ্রুত কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযানে নেমে জিম্মি অবস্থায় দুই যুবককে উদ্ধার করে এবং ঘটনার সাথে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের মোবাইল অন্যান্য ভিকটিমের ছবি পাওয়া যায়। ঐ ভিকটিমরা যদি মামলা করতে চায় পুলিশ মামলা নিয়ে ব্যবস্থা নিবে বলে জানানো হয়।

‎পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের ইতোমধ্যে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই চক্রের সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। উভয় ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের আলাদা দুটি মামলা দায়ের করা হয়।


ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎সিলেটে হাইড্রোলিক হর্ন ও পরিবেশ আইন লঙ্ঘনে ১০ গাড়ির মালিককে জরিমানা

‎সিলেটে ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের ২ নারীসহ গ্রেপ্তার ৪: জিম্মি দশা থেকে উদ্ধার ২ যুবক

সময় ০৭:৩২:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
হানিট্র্যাপ’ বা প্রেমের ফাঁদে অভিযুক্ত ৪ জন কে আটক করে কোতোয়ালি পুলিশ।



‎সিলেট নগরীতে ‘হানিট্র্যাপ’ বা প্রেমের ফাঁদে ফেলে জিম্মি করার অভিযোগে দুই নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এসময় তাদের কবজা থেকে জিম্মি অবস্থায় থাকা দুই যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের ওপর শারীরিক নির্যাতন ও আপত্তিকর ভিডিও ধারণের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
‎শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে কোতোয়ালি থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ এসব তথ্য নিশ্চিত করে। এর আগে শুক্রবার ভোরে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

‎আটককৃত হল, কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা (চক্রের মূলহোতা) তানজিলা আক্তার ওরফে রাবেয়া বেগম তানহা (২৭), নগরীর মিরাবাজার এলাকার বাসিন্দা জেসমিন আক্তার (২২), গোয়াইনঘাট উপজেলার বাসিন্দা মো.আব্দুল জলিল (৩০), দক্ষিণ সুরমা গঙ্গা নগরের বাসিন্দা মো. জায়েদ আহমদ (৩৫)।
‎অভিযানকালে পুলিশ তাদের কাছ থেকে জিম্মি করতে ব্যবহৃত ১টি প্রাইভেট কার ও ১টি সিএনজি অটোরিক্সা জব্দ করে পুলিশ। এছাড়া ভিকটিমদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া একটি iPhone 14 Pro Max, একটি itel মোবাইল এবং চক্রের সদস্যদের ব্যবহৃত ৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

এছাড়াও সিলেটের মোটরসাইকেল ও মোবাইল চোর সিণ্ডিকেটের অন্যতম হোতা বহু মামলার আসামি কয়েছ ও তার সহযোগী একজন কে গ্রেফতার করে বন্দর বাজার পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

‎সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরের মেন্দিবাগ পয়েন্ট থেকে মাহমুদুল হাসান রিফাত (২৫) ও তার বন্ধু মাহফুজ আলীকে (২৫) কৌশলে আব্দুল জলিল নামের এক সদস্য জায়েদ আহমদের সিএনজি অটোরিক্সায় তুলে নেয়। এরপর তাদের যতরপুর এলাকার ‘নবপুষ্প-১১৩’ নম্বর বাসার ৫ম তলায় নিয়ে যাওয়া হয়।
‎সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন চক্রের মূলহোতা তানজিলা আক্তার ও জেসমিন আক্তারসহ আরও ৪-৫ জন সহযোগী। জিম্মি দুই যুবককে সেখানে ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন ও ইলেকট্রিক শকদিয়ে চরম শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তাদের জোরপূর্বক উলঙ্গ করে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা হয় এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

‎নির্যাতনের মুখে ভিকটিম রিফাত তার স্বজনদের মাধ্যমে ৯০ হাজার টাকা এনে দেন। তবে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হলে তারা দ্রুত কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযানে নেমে জিম্মি অবস্থায় দুই যুবককে উদ্ধার করে এবং ঘটনার সাথে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের মোবাইল অন্যান্য ভিকটিমের ছবি পাওয়া যায়। ঐ ভিকটিমরা যদি মামলা করতে চায় পুলিশ মামলা নিয়ে ব্যবস্থা নিবে বলে জানানো হয়।

‎পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের ইতোমধ্যে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই চক্রের সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। উভয় ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের আলাদা দুটি মামলা দায়ের করা হয়।