সিলেট ০১:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
News Title :
‎মৌসুমী শব্দ বিলুপ্ত ও রাজস্ব খাতে স্থায়ী করার দাবিতে ভূমিমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে থাকা দেশের অন্যতম অঞ্চল হচ্ছে সিলেটঃ ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক গ্রামবাসীর উদ্যোগে ঐতিহাসিক মাকালকান্দি গণহত্যা দিবস পালন, ছিলনা এমপি ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মসূচি ‎গোয়াইনঘাটে মেছোবিড়াল পিটিয়ে হত্যা, ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ হবিগঞ্জে বিক্ষোভের প্রস্তুতিকালে আটক, ২১ ঘণ্টা পর মুচলেকায় মুক্ত মাহদীসহ তিনজন ‎নবীগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদের মৃত্যু, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন কুলাউড়ায় অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ নবাগত ইউএনও’র সঙ্গে শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের মতবিনিময় ‎ছাতকে মোবাইল কোর্ট: চার প্রতিষ্ঠানকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা, পচা মাংস জব্দ জুড়ীতে হাকালুকি হাওরের মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই উৎপাদন বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত‎

বানিয়াচংয়ে বোরো চাষিদের চোখের জলে ভাসছে হুগলি হাওরের সোনালি স্বপ্ন‎




‎হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুর ইউনিয়নের হুগলি হাওরে এখন কান্নার রোল। কৃষকের হাড়ভাঙা খাটুনি আর ঘামে ভেজা স্বপ্নের সোনালি বোরো ধান এখন পানির নিচে।
‎কয়েক দিনের টানা বর্ষণ আর উজান থেকে আসা ঢলে তলিয়ে গেছে অন্তত ৫০০ একর জমির ফসল। বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাওরপাড়ের শত শত কৃষক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হুগলি হাওরের প্রায় ৮০০ একর জমিতে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছিল। ধান কাটার উৎসব শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে প্রকৃতির রুদ্ররূপে পাল্টে গেছে সব সমীকরণ। সুজাতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদিকুর রহমান বলেন, বৃষ্টির তোড়ে হুগলি হাওরের অন্তত ৫০০ একর জমির ফসল পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতা যেভাবে বাড়ছে, তাতে বৃষ্টি না থামলে ইউনিয়নের অন্যান্য হাওরও রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক কৃষক  নিথর হয়ে তাকিয়ে আছেন তলিয়ে যাওয়া ফসলের দিকে। অনেক কৃষক জানিয়েছেন চড়া সুদে ঋণ নিয়ে  চাষাবাদ করেছিলেন, ফসল হারিয়ে এখন তাঁদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ।


‎এ বিষয়ে বানিয়াচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এনামুল হক জানান, কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত প্রায় ২১৮ হেক্টর (৫৩৮ একর) জমি প্লাবিত হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। দ্রুত পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

‎প্রকৃতির এই আকস্মিক দুর্যোগে নিঃস্ব হওয়া কৃষকদের রক্ষায় সরকারি সহায়তা ও বিশেষ প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। অন্যথায় বানিয়াচংয়ের নিচু এলাকার বিশাল এক জনগোষ্ঠীকে এবার চরম খাদ্য সংকটে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎মৌসুমী শব্দ বিলুপ্ত ও রাজস্ব খাতে স্থায়ী করার দাবিতে ভূমিমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান

বানিয়াচংয়ে বোরো চাষিদের চোখের জলে ভাসছে হুগলি হাওরের সোনালি স্বপ্ন‎

সময় ১১:১৫:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬




‎হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুর ইউনিয়নের হুগলি হাওরে এখন কান্নার রোল। কৃষকের হাড়ভাঙা খাটুনি আর ঘামে ভেজা স্বপ্নের সোনালি বোরো ধান এখন পানির নিচে।
‎কয়েক দিনের টানা বর্ষণ আর উজান থেকে আসা ঢলে তলিয়ে গেছে অন্তত ৫০০ একর জমির ফসল। বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাওরপাড়ের শত শত কৃষক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হুগলি হাওরের প্রায় ৮০০ একর জমিতে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছিল। ধান কাটার উৎসব শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে প্রকৃতির রুদ্ররূপে পাল্টে গেছে সব সমীকরণ। সুজাতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদিকুর রহমান বলেন, বৃষ্টির তোড়ে হুগলি হাওরের অন্তত ৫০০ একর জমির ফসল পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতা যেভাবে বাড়ছে, তাতে বৃষ্টি না থামলে ইউনিয়নের অন্যান্য হাওরও রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক কৃষক  নিথর হয়ে তাকিয়ে আছেন তলিয়ে যাওয়া ফসলের দিকে। অনেক কৃষক জানিয়েছেন চড়া সুদে ঋণ নিয়ে  চাষাবাদ করেছিলেন, ফসল হারিয়ে এখন তাঁদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ।


‎এ বিষয়ে বানিয়াচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এনামুল হক জানান, কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত প্রায় ২১৮ হেক্টর (৫৩৮ একর) জমি প্লাবিত হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। দ্রুত পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

‎প্রকৃতির এই আকস্মিক দুর্যোগে নিঃস্ব হওয়া কৃষকদের রক্ষায় সরকারি সহায়তা ও বিশেষ প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। অন্যথায় বানিয়াচংয়ের নিচু এলাকার বিশাল এক জনগোষ্ঠীকে এবার চরম খাদ্য সংকটে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।