
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী ১৩ নম্বর কর্মধা ইউনিয়নের নার্সারি খাসিয়া পুঞ্জিতে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে এ ঘটনা ঘটে। এতে পান চাষের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর কয়েক বছরের শ্রম ও বিনিয়োগ এক রাতেই শেষ হয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নার্সারি খাসিয়া পুঞ্জির বাসিন্দা লিকিন খংলা, পাইলা পতাম, নাসরিন পতাম, জনি পতাম, নিস্তার পাটুয়াট, শিউলি আজিম, টিউনি আজিম, ডিমান পতাম ও মাসার তংপের- এই ৯ পরিবারের পানজুম থেকে ৮ হাজারের বেশি পানগাছ কেটে ফেলে দিয়েছে দূর্বৃত্তরা।
ক্ষতিগ্রস্ত জুমের মালিক নাসরিন পতাম বলেন, রাতের আঁধারে কে বা কারা পানগাছগুলো কেটে ফেলেছে, তা তারা জানেন না। পানজুমই তাদের জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। দিনের বেলায় জুমে কাজ করার সুযোগ থাকায় দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারকে কাজে লাগিয়েছে বলে ধারণা করছেন তারা। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
নার্সারি পুঞ্জির মন্ত্রী (হেডম্যান বা পুঞ্জি প্রধান) জনি পতাম বলেন, পানগাছ থেকে বিক্রির উপযোগী পান পেতে কমপক্ষে চার বছর পরিচর্যা করতে হয়। দীর্ঘদিনের শ্রম, সময় ও অর্থ ব্যয় করে গড়ে তোলা জুম এক রাতেই ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে নয়টি পরিবারের জীবিকা সংকটে পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘পানগাছই আমাদের প্রধান আয়ের উৎস। এখন আমরা ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছি। প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত করেছেন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’
কুবরাজ আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফ্লোরা বাবলী তালাং বলেন, ৯ পরিবারের ৮ হাজারের বেশি পানগাছ কেটে ফেলা অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা। এতে পরিবারগুলো চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং তাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। খাসিয়া জনগোষ্ঠীর জীবিকার ওপর এ ধরনের হামলা বন্ধ করে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
কুলাউড়া প্রতিনিধি 










