সিলেট ০২:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
News Title :
বানিয়াচংয়ে জমকালো আয়োজনে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত‎ ‎ক্লুলেস সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রহস্য উদঘাটন, দুই আসামি গ্রেফতার ‎নবীগঞ্জের একমাত্র আসামি তুহিন সিলেট থেকে গ্রেফতার ‎লাখাইয়ে কর্মকর্তা সাংবাদিক  মুক্তিযোদ্ধা সহ সুশীল সমাজের সাথে মতবিনিময় করেন জেলা প্রশাসক। ‎জামালপুরের দিগপাইতে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: হত্যা নাকি আত্মহত্যা এ নিয়ে রহস্য!‎ ‎জামালপুরে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে  পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক কর্মশালা  ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রামু থেকে নিখোঁজ কলেজছাত্রী টাঙ্গাইলে উদ্ধার চুনারুঘাটে মাদকবিরোধী যৌথ অভিযান: নারীকে ৬ মাসের কারাদণ্ড, জরিমানা ‎সখিপুর পৌরসভায় ৩নং ওয়ার্ডে টানা বিদ্যুৎ বিপর্যয়: চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাঠ পর্যায়ের কৃষি উন্নয়নমূলক ও মানবিক কার্যক্রম পরিদর্শন

যমুনা সেতু-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ২৮ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বস্তির ঈদযাত্রা

সড়ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জেলা প্রশাসক শরীফা হক।



‎পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের স্রোত বাড়লেও যমুনা সেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে দেখা গেছে এক ভিন্ন ও স্বস্তিদায়ক চিত্র। প্রতিবছর এই মহাসড়কে যে দীর্ঘ যানজট ও জনভোগান্তি নিত্যসঙ্গী ছিল, এবার তা যেন ইতিহাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৯৮ সালে যমুনা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে গত ২৮ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম ঘরমুখো মানুষ কোনো প্রকার যানজট ছাড়াই নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারছেন।
‎বুধবার (১৮ মার্চ) টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহাসড়ক পরিদর্শন করে এই সামগ্রিক পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

স্বস্তির নেপথ্যে দীর্ঘ ছুটি ও সঠিক ব্যবস্থাপনা
‎সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, এবারের ঈদযাত্রায় স্বস্তির অন্যতম প্রধান কারণ দীর্ঘ সরকারি ছুটি। ঈদের অনেক আগেই ছুটি শুরু হওয়ায় এবং মানুষ ধাপে ধাপে রাজধানী ছাড়ার সুযোগ পাওয়ায় মহাসড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়নি। ফলে উত্তরাঞ্চলের ২৪টি জেলার যাত্রীরা কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই যমুনা সেতু পার হতে পারছেন।
‎তবে মহাসড়কের ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের কিছুটা সংকট ও দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেলেও, তা মূল ঈদযাত্রার প্রবাহে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। এছাড়া, এলেঙ্গা থেকে সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার অংশে ছয় লেনের কাজ চলমান থাকলেও পুলিশ ও প্রশাসনের তৎপরতায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

‎যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সেতুতে টোল আদায়ে বড় অংকের রেকর্ড হয়েছে। মোট টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৪ হাজার ৬৫০ টাকা। মোট যানবাহন পারাপার হয়েছে ৪৬ হাজার ৯৬৩টি।
‎উত্তরবঙ্গগামী ২৭ হাজার ৪৯৮টি যানবাহন (টোল: ১ কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৫০ টাকা)। ঢাকাগামী ১৯ হাজার ৪৪৫টি যানবাহন (টোল ১ কোটি ৬৬ লাখ ৪ হাজার ৮০০ টাকা) আদায় হয়।

‎সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, দ্রুততম সময়ে টোল আদায়ে সেতুর দুই পাশে মোট ১৮টি টোল বুথ সচল রাখা হয়েছে, যার মধ্যে মোটরসাইকেলের জন্য রয়েছে আলাদা লেন।
‎ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাত্রা নিশ্চিত করতে সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বড় ধরনের কোনো ভোগান্তি ছাড়াই এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হচ্ছে বলে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক  শরীফা হক জানান।

‎মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) গভীর রাতে যমুনা সেতুর পূর্ব টোল প্লাজা পরিদর্শন করেন নৌ-পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন,সরকারের নেওয়া সঠিক উদ্যোগের সুফল পাচ্ছেন যাত্রীরা। কোথাও উল্লেখযোগ্য যানজট নেই। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয় রয়েছে।
‎পরিদর্শনকালে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ রেজওয়ান ও ফোজিয়া রহমান, কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার খায়রুল ইসলামসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বানিয়াচংয়ে জমকালো আয়োজনে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত‎

যমুনা সেতু-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ২৮ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বস্তির ঈদযাত্রা

সময় ০৭:৫৪:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

সড়ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জেলা প্রশাসক শরীফা হক।



‎পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের স্রোত বাড়লেও যমুনা সেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে দেখা গেছে এক ভিন্ন ও স্বস্তিদায়ক চিত্র। প্রতিবছর এই মহাসড়কে যে দীর্ঘ যানজট ও জনভোগান্তি নিত্যসঙ্গী ছিল, এবার তা যেন ইতিহাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৯৮ সালে যমুনা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে গত ২৮ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম ঘরমুখো মানুষ কোনো প্রকার যানজট ছাড়াই নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারছেন।
‎বুধবার (১৮ মার্চ) টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহাসড়ক পরিদর্শন করে এই সামগ্রিক পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

স্বস্তির নেপথ্যে দীর্ঘ ছুটি ও সঠিক ব্যবস্থাপনা
‎সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, এবারের ঈদযাত্রায় স্বস্তির অন্যতম প্রধান কারণ দীর্ঘ সরকারি ছুটি। ঈদের অনেক আগেই ছুটি শুরু হওয়ায় এবং মানুষ ধাপে ধাপে রাজধানী ছাড়ার সুযোগ পাওয়ায় মহাসড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়নি। ফলে উত্তরাঞ্চলের ২৪টি জেলার যাত্রীরা কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই যমুনা সেতু পার হতে পারছেন।
‎তবে মহাসড়কের ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের কিছুটা সংকট ও দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেলেও, তা মূল ঈদযাত্রার প্রবাহে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। এছাড়া, এলেঙ্গা থেকে সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার অংশে ছয় লেনের কাজ চলমান থাকলেও পুলিশ ও প্রশাসনের তৎপরতায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

‎যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সেতুতে টোল আদায়ে বড় অংকের রেকর্ড হয়েছে। মোট টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৪ হাজার ৬৫০ টাকা। মোট যানবাহন পারাপার হয়েছে ৪৬ হাজার ৯৬৩টি।
‎উত্তরবঙ্গগামী ২৭ হাজার ৪৯৮টি যানবাহন (টোল: ১ কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৫০ টাকা)। ঢাকাগামী ১৯ হাজার ৪৪৫টি যানবাহন (টোল ১ কোটি ৬৬ লাখ ৪ হাজার ৮০০ টাকা) আদায় হয়।

‎সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, দ্রুততম সময়ে টোল আদায়ে সেতুর দুই পাশে মোট ১৮টি টোল বুথ সচল রাখা হয়েছে, যার মধ্যে মোটরসাইকেলের জন্য রয়েছে আলাদা লেন।
‎ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাত্রা নিশ্চিত করতে সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বড় ধরনের কোনো ভোগান্তি ছাড়াই এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হচ্ছে বলে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক  শরীফা হক জানান।

‎মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) গভীর রাতে যমুনা সেতুর পূর্ব টোল প্লাজা পরিদর্শন করেন নৌ-পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন,সরকারের নেওয়া সঠিক উদ্যোগের সুফল পাচ্ছেন যাত্রীরা। কোথাও উল্লেখযোগ্য যানজট নেই। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয় রয়েছে।
‎পরিদর্শনকালে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ রেজওয়ান ও ফোজিয়া রহমান, কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার খায়রুল ইসলামসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।