
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দু:স্থ-অসহায় মানুষের মাঝে বিতরনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বরাদ্দ হওয়া শাড়ি, থ্রি-পিস ও নগদ টাকা বিতরণ করেছেন সিলেট-৬ বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ নির্বাচনী আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। অনাড়ম্বর অনুষ্টানের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
যদিও বিগত সরকারের টানা ১৬ বছরের মেয়াদসহ গত ১৭ বছরে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বরাদ্দ হওয়া ঈদ উপহার বিতরন প্রত্যক্ষ করেছেন উপজেলাবাসী। দীর্ঘ এ সময়ে সরকারিভাবে বরাদ্দ ঈদ উপহার কোথায়-কার কাছে বিতরণ বিতরন করা হতো, তা কেউ জানতে পারেনি। বিগত সময়ে সরকারে থাকা দলটির নেতাকর্মীরাও এসব উপহার সামগ্রী বিতরন নিয়ে অন্ধকারে ছিলেন। তৎকালীন এমপি-মন্ত্রীর পিএস দাবীদার জনৈক ব্যক্তির পকেটে থাকা তালিকা থেকে হাতেগোনা ২-৪ জন ঈদ উপহার পেলেও বাকীগুলোর খবর জানতেননা কেউই।
মঙ্গলবার এমপি এমরান আহমদ চৌধুরীর সামনে বিষয়টি একদম প্রকাশ্যে খোলামেলাভাবে বলে দিলেন চারখাই ইউপি চেয়ারম্যান হোসেন মুরাদ চৌধুরী। তিনি এমপিকে উদ্দেশ্য করে জানালেন, তাঁর চেয়ারম্যানের মেয়াদ ৪ বছর ২ মাস চলছে। এই সময়ে প্রথমবার ঈদ উপহার বিতরনে তিনি প্রথম ডাক পেয়েছেন।
এদিকে ঈদ উপহার বিতরনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট-৬ বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ নির্বাচনী আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, মানবিক দেশ গঠনের অংশ হিসেবে সকল উৎসব-আয়োজনে সরকার পাশে থাকবে। সব ধরনের বরাদ্দ বিতরনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। উন্নয়ন এবং বরাদ্দ বিতরনে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোন দিয়ে বিবেচনা করা হবেনা। প্রকৃতভাবে মানুষের কল্যান নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গিকার বাস্তবায়নে সকলে মিলে কাজ করার বিষয়ে আলোকপাত করেন তিনি।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে হাবিবা মজুমদারের সভাপতিত্বে এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিরন মাহমুদ, জেলা বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদক সিদ্দিক আহমদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আহমদ রেজা, সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার হোসেন, জেলা বিএনপির সহ-স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক এনাম উদ্দিন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজমুল হোসেন, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি চেয়ারম্যান আব্দুল মন্নান, আব্দুস সবুর ও আব্দুল কুদ্দুস, যুগ্ম সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন ও মিছবাহ উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান, পৌর সাংগঠনিক সম্পাদক তাজ উদ্দিন কুটি, চেয়ারম্যান জহুর উদ্দিন, চেয়ারম্যান দেলোওয়ার হোসেন, চেয়ারম্যান তুতিউর রহমান, চেয়ারম্যান হোসেন মুরাদ চৌধুরী, মো: শ্রমিক নেতা হুমায়ুন কবির আকিল, উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ফয়েজ আহমদ প্রমুখ।
আলোচনা সভা শেষে পৌরসভাসহ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে নগদ টাকা, শাড়ি, থ্রি-পিস ও হাজী রুমাল চেয়ারম্যানদের কাছে বিতরণ করা হয়। এ সময় ইউনিয়ন প্রতি নগদ ৪০ হাজার টাকা এবং পৌরসভায় বিতরনের জন্য নগদ ৫০ হাজার টাকা টাকা গ্রহণ করেন সংশ্লিষ্টরা।
সামিয়ান হাসান, বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি 


















