
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান বৈশ্বিক সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে যুদ্ধকবলিত অঞ্চলে আটকে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। প্রয়োজনে প্রবাসীদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্যও সরকার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
রোববার ৮ মার্চ বিকেলে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাহারমর্দানে সাবেক সফল অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান-এর কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় যৌথভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। যুদ্ধকবলিত অঞ্চলে থাকা প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সেখানে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হলে তাদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও সরকার সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে মৌলভীবাজারের বড়লেখা এবং সিলেটের আরও একজন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় সরকার গভীর শোক প্রকাশ করেছে। বড়লেখার নিহত ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগত ও সচিব পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং অনুমতি পাওয়া মাত্রই বিশেষ ব্যবস্থাপনায় মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিদেশে কর্মরত অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি বর্তমানে কর্মহীন বা অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকতে পারেন—এই বিষয়টি সরকার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে যাতে সংকটকালে তারা খাদ্য বা অন্যান্য মানবিক সংকটে না পড়েন।
যদি যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ব্যাহত হয়, তবে বিকল্প উপায়ে নাগরিকদের সরিয়ে আনার বিষয়েও সরকার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
শ্রমিকদের বেতন-বোনাস প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশের শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ঈদের আগেই শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে তদারকির জন্য সচিব পর্যায়ে ছয়টি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। যুগ্ম সচিবদের নেতৃত্বে এসব টিম বিভিন্ন শিল্প এলাকায় গিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা ও বোনাস নিশ্চিত করবে।
সরকার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে, বৈশ্বিক পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে। তবে পরিস্থিতি অবনতি ঘটলে নাগরিকদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
এর আগে বিকেল তিনটার দিকে মন্ত্রী সিলেট থেকে মৌলভীবাজারে পৌঁছে সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমান, জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন।
পরে বিকেল চারটার দিকে তিনি বাহারমর্দানে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় প্রয়াত মন্ত্রীর জ্যেষ্ঠপুত্র ও সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি এম এ মুকিত, মৌলভী আব্দুল ওয়ালী সিদ্দিকী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বকসী মিসবাউর রহমান, ফখরুল ইসলাম, হেলু মিয়া, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুজিবুর রহমান মজনু, স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী, শ্যামলী সূত্র ধর, সাবেক প্রচার সম্পাদক ইদ্রিস আলী এবং সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমেদসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে তিনি শ্রীমঙ্গলে বরুণার আলেমেদীন মুফতি রশিদুর রহমান ফারুকী পীর সাহেবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সবশেষে কমলগঞ্জে নিজের দাদা-দাদীর কবর জিয়ারত করেন।
আব্দুস সামাদ আজাদ, মৌলভীবাজার থেকে। 



















