সিলেট ০১:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
News Title :
নেত্রকোনায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা: শেরপুর প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ ‎জৈন্তাপুরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ: আহত একই পরিবারের ৩  ভাইসহ একাধিক সদস্য। ‎প্রতিবন্ধী নাতনির দায়িত্ব বৃদ্ধ দাদির কাঁধে লাখাই মুড়িয়াউক ইউনিয়ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে প্রচার-প্রচারণা ‎সিলেটে বাস টমটম সংঘর্ষে মা-মেয়ে নিহতের ঘটনায় ঘাতক বাস চালক গ্রেপ্তার কুলাউড়ায় নতুন আঙ্গিকে গোবিন্দাস রেস্টুরেন্ট, সাশ্রয়ী মূল্যে মিলবে তিন বেলার খাবার নিউইয়র্ক পুলিশ কর্মকর্তা জুয়েল মাহবুবের সঙ্গে স্রোত সাহিত্য পর্ষদের শুভেচ্ছা বিনিময় ‎হবিগঞ্জে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ‎লাখাইয়ে শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজাঁ‎ উদযাপনের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।    ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অলিপুরে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী মৃত্যু

‎মৌলভীবাজারের চার আসনে বৈধ ২৬ প্রার্থীর হলফনামায় ‎শিক্ষাগত যোগ্যতায় বৈচিত্র্


‎


‎


‎

‎ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রবাসী ও পর্যটন অধ্যুষিত ‘চায়ের রাজধানী’খ্যাত মৌলভীবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনে বৈধ ঘোষিত ২৬ জন প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রার্থীদের শিক্ষাগত পটভূমিতে রয়েছে বিস্তর বৈচিত্র্য—স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীর পাশাপাশি মাদ্রাসা ভিত্তিক উচ্চতর শিক্ষা, আইন ও প্রকৌশল শিক্ষা, এমনকি অষ্টম শ্রেণি বা স্বশিক্ষিত প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

‎

‎মৌলভীবাজার–১ (বড়লেখা–জুড়ী)

‎এই আসনে সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতায় এগিয়ে আছেন গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আব্দুন নূর (স্নাতকোত্তর)। বিএনপির নাসির উদ্দিন আহমেদ স্নাতক, জামায়াতে ইসলামীর আমিনুল ইসলাম কামিল এবং খেলাফত মজলিসের লোকমান আহমদ ফাজিল (১ম বর্ষ) পাস। জাতীয় পার্টির প্রার্থী আহমদ রিয়াজের শিক্ষাগত যোগ্যতা দশম শ্রেণি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।

‎

‎মৌলভীবাজার–২ (কুলাউড়া)-কুলাউড়া আসনে শিক্ষাগত দিক থেকে সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রার্থী বাসদ–মার্কসবাদীর সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী, যিনি গণিতে এমএসসি ডিগ্রিধারী। এখানে এলএলবি, ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ও দাওরায়ে হাদিসসহ বিভিন্ন স্তরের শিক্ষা সম্পন্ন প্রার্থীরা রয়েছেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো.আব্দুল মালিকের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত।

‎

‎মৌলভীবাজার–৩ (সদর–রাজনগর)-এই আসনে বিএনপির প্রার্থী এম নাসের রহমান বি.কম (সম্মান) পাস। জামায়াতের মো. আব্দুল মান্নান উচ্চ মাধ্যমিক পাস। খেলাফত মজলিসের দুই প্রার্থীর একজন তাকরিম ফিল হাদিস এবং অন্যজন কামিল (টাইটেল) সম্পন্ন। তবে এই আসনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী জহর লাল দত্ত তার হলফনামায় সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরটি ফাঁকা রেখেছেন—যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় একটি ব্যতিক্রমী ও আলোচনাযোগ্য দিক হিসেবে উঠে এসেছে।

‎

‎মৌলভীবাজার–৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ)

‎শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ আসনে এলএলএম ডিগ্রিধারী জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুর রব শিক্ষাগত দিক থেকে এগিয়ে। এখানে এলএলবি, দাওরায়ে হাদিস, বি.কম, এইচএসসি ও স্বশিক্ষিত প্রার্থীও রয়েছেন। জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জরিফ হোসেন নিজেকে ‘স্বশিক্ষিত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

‎

‎জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের চারটি আসনে মোট ৩৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র উত্তোলন করলেও জমা দেন ৩১ জন। যাচাই–বাছাই শেষে ত্রুটির কারণে ৫ জনের মনোনয়ন বাতিল হয় এবং চূড়ান্তভাবে ২৬ জন প্রার্থী বৈধতা পান।

‎জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৬ লাখ ১৪ হাজার ৯৩৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮ লাখ ২৪ হাজার ৪৫৪ জন এবং নারী ভোটার ৭ লাখ ৯০ হাজার ৪৭৪ জন।

‎

‎শিক্ষাগত যোগ্যতার এই বহুমাত্রিক চিত্র মৌলভীবাজারের নির্বাচনী বাস্তবতার একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। এখানে প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষা, ধর্মীয় শিক্ষা ও সীমিত শিক্ষাগত পটভূমি—সব ধরনের প্রতিনিধিত্বই রয়েছে। ফলে ভোটারদের সামনে কেবল রাজনৈতিক আদর্শ নয়, প্রার্থীদের শিক্ষা, দক্ষতা ও সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়ার একটি বাস্তব সুযোগ তৈরি হয়েছে—যা এবারের নির্বাচনে সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোনায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা: শেরপুর প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

‎মৌলভীবাজারের চার আসনে বৈধ ২৬ প্রার্থীর হলফনামায় ‎শিক্ষাগত যোগ্যতায় বৈচিত্র্

সময় ০৫:৩৯:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬


‎


‎


‎

‎ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রবাসী ও পর্যটন অধ্যুষিত ‘চায়ের রাজধানী’খ্যাত মৌলভীবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনে বৈধ ঘোষিত ২৬ জন প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রার্থীদের শিক্ষাগত পটভূমিতে রয়েছে বিস্তর বৈচিত্র্য—স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীর পাশাপাশি মাদ্রাসা ভিত্তিক উচ্চতর শিক্ষা, আইন ও প্রকৌশল শিক্ষা, এমনকি অষ্টম শ্রেণি বা স্বশিক্ষিত প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

‎

‎মৌলভীবাজার–১ (বড়লেখা–জুড়ী)

‎এই আসনে সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতায় এগিয়ে আছেন গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আব্দুন নূর (স্নাতকোত্তর)। বিএনপির নাসির উদ্দিন আহমেদ স্নাতক, জামায়াতে ইসলামীর আমিনুল ইসলাম কামিল এবং খেলাফত মজলিসের লোকমান আহমদ ফাজিল (১ম বর্ষ) পাস। জাতীয় পার্টির প্রার্থী আহমদ রিয়াজের শিক্ষাগত যোগ্যতা দশম শ্রেণি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।

‎

‎মৌলভীবাজার–২ (কুলাউড়া)-কুলাউড়া আসনে শিক্ষাগত দিক থেকে সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রার্থী বাসদ–মার্কসবাদীর সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী, যিনি গণিতে এমএসসি ডিগ্রিধারী। এখানে এলএলবি, ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ও দাওরায়ে হাদিসসহ বিভিন্ন স্তরের শিক্ষা সম্পন্ন প্রার্থীরা রয়েছেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো.আব্দুল মালিকের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত।

‎

‎মৌলভীবাজার–৩ (সদর–রাজনগর)-এই আসনে বিএনপির প্রার্থী এম নাসের রহমান বি.কম (সম্মান) পাস। জামায়াতের মো. আব্দুল মান্নান উচ্চ মাধ্যমিক পাস। খেলাফত মজলিসের দুই প্রার্থীর একজন তাকরিম ফিল হাদিস এবং অন্যজন কামিল (টাইটেল) সম্পন্ন। তবে এই আসনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী জহর লাল দত্ত তার হলফনামায় সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরটি ফাঁকা রেখেছেন—যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় একটি ব্যতিক্রমী ও আলোচনাযোগ্য দিক হিসেবে উঠে এসেছে।

‎

‎মৌলভীবাজার–৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ)

‎শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ আসনে এলএলএম ডিগ্রিধারী জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুর রব শিক্ষাগত দিক থেকে এগিয়ে। এখানে এলএলবি, দাওরায়ে হাদিস, বি.কম, এইচএসসি ও স্বশিক্ষিত প্রার্থীও রয়েছেন। জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জরিফ হোসেন নিজেকে ‘স্বশিক্ষিত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

‎

‎জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের চারটি আসনে মোট ৩৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র উত্তোলন করলেও জমা দেন ৩১ জন। যাচাই–বাছাই শেষে ত্রুটির কারণে ৫ জনের মনোনয়ন বাতিল হয় এবং চূড়ান্তভাবে ২৬ জন প্রার্থী বৈধতা পান।

‎জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৬ লাখ ১৪ হাজার ৯৩৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮ লাখ ২৪ হাজার ৪৫৪ জন এবং নারী ভোটার ৭ লাখ ৯০ হাজার ৪৭৪ জন।

‎

‎শিক্ষাগত যোগ্যতার এই বহুমাত্রিক চিত্র মৌলভীবাজারের নির্বাচনী বাস্তবতার একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। এখানে প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষা, ধর্মীয় শিক্ষা ও সীমিত শিক্ষাগত পটভূমি—সব ধরনের প্রতিনিধিত্বই রয়েছে। ফলে ভোটারদের সামনে কেবল রাজনৈতিক আদর্শ নয়, প্রার্থীদের শিক্ষা, দক্ষতা ও সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়ার একটি বাস্তব সুযোগ তৈরি হয়েছে—যা এবারের নির্বাচনে সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।