
সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ) আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে গোয়াইনঘাট উপজেলা শহীদ মিনার চত্বরে আয়োজিত এক বিশাল কর্মীসভায় দুই নেতাকে এক মঞ্চে হাতে হাত মেলাতে দেখা যায়।
এই আসনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন স্থানীয় জনপ্রিয় নেতা আবদুল হাকিম চৌধুরী। তৃণমূল পর্যায়ে তাঁর শক্ত অবস্থান থাকায় তাকেই ভাবা হচ্ছিল প্রধান প্রার্থী। তবে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। আরিফকে ‘বহিরাগত’ আখ্যা দিয়ে হাকিম ও তাঁর অনুসারীরা এতোদিন শক্ত বলয় তৈরি করে প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন, যা দলের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে গোয়াইনঘাট উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মীসভায় দুই নেতা উপস্থিত হন।
সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের সামনে তারা ঘোষণা করেন যে, ব্যক্তিগত মান-অভিমান ভুলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীককে বিজয়ী করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। লড়াইয়ে আমরা এখন এক। সিলেটে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করব। সভায় এমন বার্তাই দিয়েছেন শীর্ষ এই দুই নেতা।
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই স্নায়ুযুদ্ধের অবসানে সিলেট-৪ আসনের সাধারণ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আবদুল হাকিম চৌধুরীর স্থানীয় জনপ্রিয়তা এবং আরিফুল হক চৌধুরীর সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণ এই আসনে বিএনপি’র ঐক্য ভোটের সমীকরণ বদলে যেতে পারে বলে সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা।
স্টাফ রিপোর্টার। 


















