সিলেট ০১:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
News Title :
হবিগঞ্জে ফিলিং স্টেশন থেকে শ্রমিক নেতার সিএনজি ছিনতাই অভিযোগ: মিলছে না হদিস! ‎কোম্পানীগঞ্জে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি লোকমান গ্রেফতার করল র‍্যাব। নবীগঞ্জে শাশুড়ি হত্যা মামলার পলাতক প্রধান আসামিসহ তিনজন গ্রেপ্তার হবিগঞ্জে ডিবির অভিযানে ৪৩ লাখ টাকার ভারতীয় চকলেট জব্দ, আটক ২ ‎জুড়ীতে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন নবীগঞ্জে কলেজ ছাত্র হত্যা মামলার মূল আসামি হেলালসহ ৩ জন গ্রেপ্তার ‎লাখাইয়ে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত। নবীগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ‎হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে নবীগঞ্জ উপজেলার সুধীজন ও কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভা ‎টাঙ্গাইলে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস–২০২৬’ প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

শেওয়াইজুড়ী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির তহবিল ও জলমহালের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাংবাদিক সম্মেলন

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আখাইলকুড়া ইউনিয়নের শেওয়াইজুড়ী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির তহবিল ও জলমহালের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ১৪ ডিসেম্বর (শনিবার) দুপুরে মৌলভীবাজার শহরের মামার বাড়ি রেস্টুরেন্টে এ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সমিতির সদস্যরা জানান, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আখাইলকুড়া ইউনিয়নের স্বল্প আয়ের মৎস্যজীবীরা ২০০৯ সালে ২১ সদস্য নিয়ে ‘শেওয়াইজুড়ী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি’ গঠন করেন। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধিত এই সমিতির নিবন্ধন নম্বর ১০৬৯। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বলাই বর্মন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। বর্তমানে তিনজন সদস্য মৃত্যুবরণ করায় সমিতির সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে।

বক্তব্যে আরও জানানো হয়, বলাই বর্মনের বাড়িতেই দীর্ঘদিন ধরে সমিতির সব সভা অনুষ্ঠিত হতো এবং মাসিক সঞ্চয়, বিশেষ সঞ্চয়সহ আয়-ব্যয়ের সব হিসাব তার কাছেই সংরক্ষিত থাকত। সমিতির পক্ষ থেকে টপকা চাতল ডিগা, পূর্ব শেওয়াইজুড়ী প্রকাশিত মাছুখালি বিল এবং ‘মনু-১২ খণ্ড’ নামে দুটি জলমহাল ইজারা নিয়ে মাছ চাষ পরিচালিত হয়ে আসছিল।

অভিযোগ করা হয়, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত একই এলাকার ফখরুজ্জামান ও শফিউল আলম বলাই বর্মনের সহযোগিতায় জলমহাল দখল ও সমিতির তহবিল আত্মসাতের অপচেষ্টা চালিয়ে আসেন। সমিতির সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ সালে রসময় সরকারকে সভাপতি এবং বলাই বর্মনকে সম্পাদক দেখিয়ে একটি নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়।

এ বিষয়ে সিলেট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে অভিযোগ জানানো হলে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সভাপতি ও সম্পাদককে সমিতির সদস্য পদ থেকে তিন বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়।

এছাড়া ১২ আগস্ট ২০২৩ তারিখে ভুয়া সভা দেখিয়ে সমিতির পাঁচজন সদস্যকে বাতিল এবং পাঁচজন নতুন সদস্য ভর্তি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। জেলা সমবায় কর্মকর্তার তদন্তে এই অভিযোগও সত্য বলে প্রমাণিত হয়।

সমিতির সদস্যরা জানান, ভুয়া সভাপতি রসময় সরকার ও ভুয়া সম্পাদক বলাই বর্মনের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার জুডিশিয়াল আদালতে সিআর মামলা নং ৫৯৩/২০২৫ দায়ের করা হলে বিজ্ঞ আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। তবে পুলিশ এখনো তাদের গ্রেপ্তারে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।

সাংবাদিক সম্মেলনে আরও বলা হয়, সমিতি বা জলমহালের সঙ্গে আখাইলকুড়া ইউনিয়নের সাবেক তিনবারের চেয়ারম্যান শামীম আহমদের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সমিতির সদস্য উপেন্দ্র সরকার, দুর্গা সরকার, সুশান্ত সরকার, কালী দাস, সুজন দাস, সজল দাসসহ অন্যান্য সদস্যরা।

উল্লেখ্য, এর আগে সমিতির সদস্যরা মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সমিতির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের জোর দাবি জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জে ফিলিং স্টেশন থেকে শ্রমিক নেতার সিএনজি ছিনতাই অভিযোগ: মিলছে না হদিস!

শেওয়াইজুড়ী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির তহবিল ও জলমহালের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাংবাদিক সম্মেলন

সময় ১০:৪২:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আখাইলকুড়া ইউনিয়নের শেওয়াইজুড়ী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির তহবিল ও জলমহালের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ১৪ ডিসেম্বর (শনিবার) দুপুরে মৌলভীবাজার শহরের মামার বাড়ি রেস্টুরেন্টে এ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সমিতির সদস্যরা জানান, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আখাইলকুড়া ইউনিয়নের স্বল্প আয়ের মৎস্যজীবীরা ২০০৯ সালে ২১ সদস্য নিয়ে ‘শেওয়াইজুড়ী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি’ গঠন করেন। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধিত এই সমিতির নিবন্ধন নম্বর ১০৬৯। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বলাই বর্মন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। বর্তমানে তিনজন সদস্য মৃত্যুবরণ করায় সমিতির সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে।

বক্তব্যে আরও জানানো হয়, বলাই বর্মনের বাড়িতেই দীর্ঘদিন ধরে সমিতির সব সভা অনুষ্ঠিত হতো এবং মাসিক সঞ্চয়, বিশেষ সঞ্চয়সহ আয়-ব্যয়ের সব হিসাব তার কাছেই সংরক্ষিত থাকত। সমিতির পক্ষ থেকে টপকা চাতল ডিগা, পূর্ব শেওয়াইজুড়ী প্রকাশিত মাছুখালি বিল এবং ‘মনু-১২ খণ্ড’ নামে দুটি জলমহাল ইজারা নিয়ে মাছ চাষ পরিচালিত হয়ে আসছিল।

অভিযোগ করা হয়, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত একই এলাকার ফখরুজ্জামান ও শফিউল আলম বলাই বর্মনের সহযোগিতায় জলমহাল দখল ও সমিতির তহবিল আত্মসাতের অপচেষ্টা চালিয়ে আসেন। সমিতির সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ সালে রসময় সরকারকে সভাপতি এবং বলাই বর্মনকে সম্পাদক দেখিয়ে একটি নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়।

এ বিষয়ে সিলেট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে অভিযোগ জানানো হলে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সভাপতি ও সম্পাদককে সমিতির সদস্য পদ থেকে তিন বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়।

এছাড়া ১২ আগস্ট ২০২৩ তারিখে ভুয়া সভা দেখিয়ে সমিতির পাঁচজন সদস্যকে বাতিল এবং পাঁচজন নতুন সদস্য ভর্তি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। জেলা সমবায় কর্মকর্তার তদন্তে এই অভিযোগও সত্য বলে প্রমাণিত হয়।

সমিতির সদস্যরা জানান, ভুয়া সভাপতি রসময় সরকার ও ভুয়া সম্পাদক বলাই বর্মনের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার জুডিশিয়াল আদালতে সিআর মামলা নং ৫৯৩/২০২৫ দায়ের করা হলে বিজ্ঞ আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। তবে পুলিশ এখনো তাদের গ্রেপ্তারে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।

সাংবাদিক সম্মেলনে আরও বলা হয়, সমিতি বা জলমহালের সঙ্গে আখাইলকুড়া ইউনিয়নের সাবেক তিনবারের চেয়ারম্যান শামীম আহমদের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সমিতির সদস্য উপেন্দ্র সরকার, দুর্গা সরকার, সুশান্ত সরকার, কালী দাস, সুজন দাস, সজল দাসসহ অন্যান্য সদস্যরা।

উল্লেখ্য, এর আগে সমিতির সদস্যরা মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সমিতির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের জোর দাবি জানান।