
এক সময় এই বিদ্যালয়ের মাঠেই তিনি খেলেছেন বন্ধুদের সঙ্গে, ক্লাসে বসে স্বপ্ন দেখেছিলেন মানুষ হওয়ার। আজ সেই বিদ্যালয়েরই শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাকে বরণ করে নিলেন নিজেদের গর্ব হিসেবে।
আজাদ বখত উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সাবেক কৃতি শিক্ষার্থী ও শেরপুর ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের সম্মানিত ট্রাস্টি ব্যারিস্টার এম. লিয়াকত আলীকে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সংবর্ধনা জানায় তার প্রিয় প্রতিষ্ঠান।
রবিবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছিল এক উৎসবমুখর পরিবেশ। হাস্যোজ্জ্বল মুখ, ফুলেল শুভেচ্ছা আর করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিহাবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সহকারী প্রভাষক আবু বক্করের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রভাষক মোজাহিদুল ইসলাম চৌধুরী, বক্তব্য রাখেন মো. নজরুল ইসলাম, শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম সাহেদ, আজাদ বখত স্কুল অ্যান্ড কলেজ কমিটির সদস্য আব্দুস সামাদ আজাদ, বিএনপি নেতা মো. আলম, জেলা কৃষক দলের সদস্য সজলু তালুকদার, লিয়াকত আলী ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ক আব্দুল আজিজসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। বক্তারা বলেন, ব্যারিস্টার এম. লিয়াকত আলী আমাদের প্রতিষ্ঠানের গর্ব। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি নিজ এলাকার উন্নয়ন ও সমাজসেবায় যে অবদান রেখে চলেছেন, তা শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার এম. লিয়াকত আলী জানান, এই বিদ্যালয়ের প্রতি আমার গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা রয়েছে। এখান থেকেই আমি জীবন ও সমাজের মূল্যবোধ শিখেছি। ভবিষ্যতেও বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে পাশে থাকতে চাই।
সংবর্ধনা শেষে লিয়াকত আলী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মাঝে কম্পিউটার বিতরণ করা হয়। প্রযুক্তি শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে প্রযুক্তি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুপ্রেরণা ও উৎসাহের সঞ্চার করে।
শুধু বিদ্যালয়েই নয়, ব্যারিস্টার লিয়াকত আলীর সমাজসেবামূলক কাজ ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের এলাকাতেও।
ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নবীগঞ্জ উপজেলার মুকিমপুর আলিম মাদ্রাসায় একটি কম্পিউটার, মাঠ ভরাট ও মসজিদের জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।
এরপর বাগারাই নুরে মদিনা মাদ্রাসার ছাত্রদের জন্য দুপুরের খাবারের আয়োজন ও একটি আলমারি দান করা হয় ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে।
এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্যারিস্টার এম. লিয়াকত আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়াহিদ সিদ্দিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম চৌধুরী, মুকিমপুর মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল জলিল, মৌলভীবাজার জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম ও আমিরুল ইসলাম সাহেদ, বিএনপি নেতা মো. আলম, জেলা কৃষক দলের সদস্য সজলু তালুকদারসহ স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা।
এই সংবর্ধনা শুধু একজন সফল প্রাক্তন ছাত্রকে সম্মান জানানো নয়, বরং একটি প্রজন্মের সামনে অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত স্থাপন—যে ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ থেকে সমাজের জন্য কিছু করা যায়, সেটিই মনে করিয়ে দিলেন ব্যারিস্টার এম. লিয়াকত আলী।
আব্দুস সামাদ আজাদ,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি। 



















