সিলেট ০৯:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
News Title :
লাখাই মুড়িয়াউক ইউনিয়ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে প্রচার-প্রচারণা ‎সিলেটে বাস টমটম সংঘর্ষে মা-মেয়ে নিহতের ঘটনায় ঘাতক বাস চালক গ্রেপ্তার কুলাউড়ায় নতুন আঙ্গিকে গোবিন্দাস রেস্টুরেন্ট, সাশ্রয়ী মূল্যে মিলবে তিন বেলার খাবার নিউইয়র্ক পুলিশ কর্মকর্তা জুয়েল মাহবুবের সঙ্গে স্রোত সাহিত্য পর্ষদের শুভেচ্ছা বিনিময় ‎হবিগঞ্জে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ‎লাখাইয়ে শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজাঁ‎ উদযাপনের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।    ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অলিপুরে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী মৃত্যু হবিগঞ্জ কারাগারে মাদক মামলার এক বন্দির মৃত্যু ‎লাখাইয়ে পুলিশের উদ্যোগে মাদক ও অপরাধবিরোধী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত শান্তিগঞ্জে প্রধান শিক্ষক সমিতির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি মানিক,সম্পাদক সুধা রঞ্জন
‎ত্রিভুজ প্রেমের বলি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা

বর্ষার পরিকল্পনা, প্রথম প্রেমিক মাহিরের হাতে ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ খুন!

অভিযুক্ত বার্জিস শাবনাম বর্ষা, ছবি- সংগৃহীত।



‎
‎রাজধানীর পুরান ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা মো. জোবায়েদ হোসেন (২৫) হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর ত্রিভুজ প্রেমের দ্বন্দ্বের গল্প।
‎
‎হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন জোবায়েদের ছাত্রী ও ‘প্রেমিকা’ বার্জিস শাবনাম বর্ষা, আর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে বর্ষার প্রথম প্রেমিক মাহির রহমান।
‎
‎পুলিশ জানিয়েছে, ঘাতক মাহিরের ছুরিকাঘাতে আহত জোবায়েদ মৃত্যুর আগে সিঁড়িঘরে দাঁড়িয়ে থাকা বর্ষার কাছে তাকে রক্ষার আকুতি জানিয়েছিলেন।
‎কিন্তু বর্ষা সে সময় রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করা জোবায়েদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “তুমি না সরলে আমি মাহিরের হতে পারবো না।” এর কিছুক্ষণ পরই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের এই ছাত্র।
‎
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এসএন নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
‎
‎এসএন নজরুল ইসলাম বলেন, নিহত জোবায়েদ পুরান ঢাকার বংশাল থানার নূরবক্স লেনের একটি বাসায় ছাত্রী বর্ষাকে পড়াতে গিয়ে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। একই সময়ে বর্ষা তার প্রথম প্রেমিক মো. মাহির রহমানের সঙ্গেও প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিল।
‎
‎পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, বর্ষা একই সঙ্গে জোবায়েদ ও মাহির—দুজনের সঙ্গেই সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। গত ২৬ সেপ্টেম্বর মাহির বিষয়টি জানতে পেরে বর্ষাকে চাপ প্রয়োগ করলে, সেদিনই বর্ষা জোবায়েদকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে।
‎পরবর্তীতে মাহির ও তার বন্ধু ফারদীন আহমেদ আয়লান মিলে ছুরি কিনে নেয়।
‎গত ১৯ অক্টোবর বিকেলে বর্ষা তার শিক্ষক ও প্রেমিক জোবায়েদকে বাসায় ডেকে আনে।
‎জোবায়েদ আসার পর তাকে বর্ষার জীবন থেকে সরে যেতে বলা হয়। এই তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে মাহির ব্যাগ থেকে ছুরি বের করে জোবায়েদের গলায় আঘাত করে তাকে হত্যা করে।
‎
অতিরিক্ত কমিশনার আরও জানান, বর্ষা মাহিরকে বলেছিল—’জোবায়েদকে না সরাতে পারলে আমি তোমার হতে পারবো না।’ এরপরই তারা হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। মাহিরের এক আঘাতেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে জোবায়েদের মৃত্যু হয়।
‎
‎লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী জানান, জোবায়েদ মারা যাওয়ার সময় বর্ষা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। ডিসি বলেন, মৃত্যুর আগে জোবায়েদের শেষ কথা ছিল—”আমাকে বাঁচাও”। উত্তরে বর্ষা বলে, “তুমি না সরলে আমি মাহিরের হবো না।”
‎
জানা যায়, দোতলার সিঁড়িতে জোবায়েদকে ছুরিকাঘাত করা হয়। সে বাঁচার চেষ্টা করে দোতলার কলিংবেল বাজায় এবং দরজায় ধাক্কা দেয়। বর্ষাদের বাসা পাঁচতলা হলেও ঘটনাস্থলে সে তখন তিনতলার সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করছিল।
‎
অতিরিক্ত কমিশনার এসএন নজরুল ইসলাম বলেন, পুরো হত্যার পরিকল্পনাটি ছিল বর্ষার। তিনি বরগুনার মিন্নির ঘটনার সঙ্গে এই ঘটনার মিল খুঁজে পান এবং বলেন, মেয়েটি কারও সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সাহস দেখাতে পারেনি, শেষ পর্যন্ত সে নিজেই হত্যার পরিকল্পনা করে।
‎
এই ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নেই, এটি নিছক ত্রিভুজ প্রেমেরই ঘটনা বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে বর্ষার প্রথম প্রেমিক মো. মাহির এবং তার বন্ধু ফারদীন আহমেদ আয়লানকে। নিহত জোবায়েদ হোসাইন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। সোমবার (২০ অক্টোবর) তাকে তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে দাফন করা হয়।
‎

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাই মুড়িয়াউক ইউনিয়ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে প্রচার-প্রচারণা

‎ত্রিভুজ প্রেমের বলি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা

বর্ষার পরিকল্পনা, প্রথম প্রেমিক মাহিরের হাতে ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ খুন!

সময় ০৫:১১:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
অভিযুক্ত বার্জিস শাবনাম বর্ষা, ছবি- সংগৃহীত।



‎
‎রাজধানীর পুরান ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা মো. জোবায়েদ হোসেন (২৫) হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর ত্রিভুজ প্রেমের দ্বন্দ্বের গল্প।
‎
‎হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন জোবায়েদের ছাত্রী ও ‘প্রেমিকা’ বার্জিস শাবনাম বর্ষা, আর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে বর্ষার প্রথম প্রেমিক মাহির রহমান।
‎
‎পুলিশ জানিয়েছে, ঘাতক মাহিরের ছুরিকাঘাতে আহত জোবায়েদ মৃত্যুর আগে সিঁড়িঘরে দাঁড়িয়ে থাকা বর্ষার কাছে তাকে রক্ষার আকুতি জানিয়েছিলেন।
‎কিন্তু বর্ষা সে সময় রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করা জোবায়েদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “তুমি না সরলে আমি মাহিরের হতে পারবো না।” এর কিছুক্ষণ পরই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের এই ছাত্র।
‎
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এসএন নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
‎
‎এসএন নজরুল ইসলাম বলেন, নিহত জোবায়েদ পুরান ঢাকার বংশাল থানার নূরবক্স লেনের একটি বাসায় ছাত্রী বর্ষাকে পড়াতে গিয়ে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। একই সময়ে বর্ষা তার প্রথম প্রেমিক মো. মাহির রহমানের সঙ্গেও প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিল।
‎
‎পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, বর্ষা একই সঙ্গে জোবায়েদ ও মাহির—দুজনের সঙ্গেই সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। গত ২৬ সেপ্টেম্বর মাহির বিষয়টি জানতে পেরে বর্ষাকে চাপ প্রয়োগ করলে, সেদিনই বর্ষা জোবায়েদকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে।
‎পরবর্তীতে মাহির ও তার বন্ধু ফারদীন আহমেদ আয়লান মিলে ছুরি কিনে নেয়।
‎গত ১৯ অক্টোবর বিকেলে বর্ষা তার শিক্ষক ও প্রেমিক জোবায়েদকে বাসায় ডেকে আনে।
‎জোবায়েদ আসার পর তাকে বর্ষার জীবন থেকে সরে যেতে বলা হয়। এই তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে মাহির ব্যাগ থেকে ছুরি বের করে জোবায়েদের গলায় আঘাত করে তাকে হত্যা করে।
‎
অতিরিক্ত কমিশনার আরও জানান, বর্ষা মাহিরকে বলেছিল—’জোবায়েদকে না সরাতে পারলে আমি তোমার হতে পারবো না।’ এরপরই তারা হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। মাহিরের এক আঘাতেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে জোবায়েদের মৃত্যু হয়।
‎
‎লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী জানান, জোবায়েদ মারা যাওয়ার সময় বর্ষা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। ডিসি বলেন, মৃত্যুর আগে জোবায়েদের শেষ কথা ছিল—”আমাকে বাঁচাও”। উত্তরে বর্ষা বলে, “তুমি না সরলে আমি মাহিরের হবো না।”
‎
জানা যায়, দোতলার সিঁড়িতে জোবায়েদকে ছুরিকাঘাত করা হয়। সে বাঁচার চেষ্টা করে দোতলার কলিংবেল বাজায় এবং দরজায় ধাক্কা দেয়। বর্ষাদের বাসা পাঁচতলা হলেও ঘটনাস্থলে সে তখন তিনতলার সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করছিল।
‎
অতিরিক্ত কমিশনার এসএন নজরুল ইসলাম বলেন, পুরো হত্যার পরিকল্পনাটি ছিল বর্ষার। তিনি বরগুনার মিন্নির ঘটনার সঙ্গে এই ঘটনার মিল খুঁজে পান এবং বলেন, মেয়েটি কারও সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সাহস দেখাতে পারেনি, শেষ পর্যন্ত সে নিজেই হত্যার পরিকল্পনা করে।
‎
এই ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নেই, এটি নিছক ত্রিভুজ প্রেমেরই ঘটনা বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে বর্ষার প্রথম প্রেমিক মো. মাহির এবং তার বন্ধু ফারদীন আহমেদ আয়লানকে। নিহত জোবায়েদ হোসাইন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। সোমবার (২০ অক্টোবর) তাকে তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে দাফন করা হয়।
‎