
ঢাকা-সিলেট হাইওয়ে এখন চোরাচালানকারীদের নিরাপদ রুট হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছে। প্রতিদিন সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে শত শত বস্তা ভারতীয় জিরা অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করছে।
জৈন্তাপুর, জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারসহ সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলার শতাধিক পয়েন্ট দিয়ে এসব পণ্য দেশে প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি পুলিশের তৎপরতায় কয়েকটি বড় চালান আটক হলেও চোরাচালান বন্ধ হচ্ছে না।
অভিযোগ রয়েছে, জিরা চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল, জাতীয়তাবাদী যুবদলের কিছু নেতা-কর্মী, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্য এবং প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশ রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বিকাল ৩টার দিকে শেরপুর হাইওয়ে থানার পুলিশ একটি ট্রাকভর্তি ভারতীয় জিরা জব্দ করে। কাভার্ডভ্যানটিতে পাওয়া যায় প্রায় ১২ হাজার কেজি জিরা, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭২ লাখ টাকা।
হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন বিকেলে এএসআই মহরম আলী সঙ্গীয় ফোর্স কনস্টেবল রিফাত কাজী, রুমান মিয়া, জুবায়েদ মিয়া ও ড্রাইভার নায়েক অপরুপ সরকার সহ নিয়মিত ডিউটিতে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, একটি কাভার্ডভ্যানে করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছে।
সংবাদ পেয়ে পুলিশ হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বিজনা ব্রিজ এলাকায় কাভার্ডভ্যানটি (ঢাকা মেট্রো-ট-২০-১৭৩৬) আটক করে। তল্লাশিতে UNJHA’S FAMOUS K.S. GOLD JEERA লেখা ৪০০টি প্লাস্টিক বস্তা উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বস্তায় ৩০ কেজি করে মোট ১২ হাজার কেজি জিরা পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় কাভার্ডভ্যানের চালক বাবুল হোসেন (৩৫), পিতা মোস্তফা মিয়া, গ্রাম সন্তেশপুর, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর ও হেলপার মো. কামাল তালুকদার (৩৬), পিতা হানু মিয়া, গ্রাম বানিয়াচর নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া—দুজনকেই আটক করা হয়েছে।
শেরপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুর রশিদ সরকার জানান,
“গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পাই যে একটি কাভার্ডভ্যান সিলেট থেকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা নিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছে। অভিযান চালিয়ে ভ্যানটি আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে থানায় নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।”
বিষয়টি নিশ্চিত করে হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিয়নের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম বলেন,
“শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ভারতীয় জিরা ভর্তি কাভার্ডভ্যানসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে। জব্দ তালিকা প্রস্তুত হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
অভিযানকালে হাইওয়ে পুলিশের সিলেট রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার সাইজ্জুদ্দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
আব্দুস সামাদ আজাদ, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি 



















