ডা. মোহাম্মদ সাঈদ এনাম।

হাসপাতাল চিকিৎসা ও সুস্থতার জায়গা। কিন্তু প্রয়োজন ছাড়া বারবার হাসপাতালে ঘোরাঘুরি করা কখনো কখনো নিজের অজান্তেই স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
হাসপাতালে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী আসেন কেউ সর্দি-কাশি, জ্বর বা ভাইরাসজনিত সংক্রমণ নিয়ে, কেউ আবার নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা, ইনফ্লুয়েঞ্জা কিংবা অন্যান্য সংক্রামক রোগ নিয়ে। ফলে হাসপাতালের অপেক্ষাকক্ষ, করিডোর, লিফট ও ভিড়যুক্ত জায়গাগুলোতে বিভিন্ন জীবাণুর সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা তুলনামূলক বে
বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তাদের জন্য অপ্রয়োজনীয় হাসপাতালে যাতায়াত আরও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
আবার রোগীর সঙ্গে অতিরিক্ত সংখ্যক স্বজন হাসপাতালে গেলে ভিড় বাড়ে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয় এবং চিকিৎসক নার্সদের ওপরও অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হয়। অনেক সময় রোগীর অবস্থা সম্পর্কে উদ্বেগ থেকে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘোরাঘুরি করেও বিশেষ কোনো উপকার হয় না, বরং বিভ্রান্তি বাড়ে। এছাড়া নিত্য নতুন বিষাক্ত করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিতো আছেই।
তাই প্রয়োজন হলে হাসপাতালে যান, কিন্তু অপ্রয়োজনে হাসপাতালে অবস্থান করবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের ফলোআপ করুন এবং সামান্য উপসর্গ হলেই জরুরি বিভাগে ছুটে যাওয়ার পরিবর্তে আগে টেলিফোনে বা অনলাইনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে যদি পরিস্থিতি তা অনুমোদন করে।
মনে রাখবেন, হাসপাতাল নিরাপদ চিকিৎসার জায়গা হলেও এটি জীবাণুমুক্ত পরিবেশ নয়। অপ্রয়োজনীয় ভিড় এড়িয়ে চলা, হাত পরিষ্কার রাখা, মাস্কের যথাযথ ব্যবহার এবং প্রয়োজন ছাড়া হাসপাতালে না ঘোরাই হতে পারে নিজের ও পরিবারের সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
লেখক- সহযোগী অধ্যাপক, সাইকিয়াট্রি, সিলেট ওসামানী মেডিকেল কলেজ।
স্বাস্থ্য সুরক্ষা 

















