
সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও কোতোয়ালি থানা এলাকায় পৃথক দুটি সফল অভিযান পরিচালনা করে অনলাইন জুয়া চক্রের ৯ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৯ (র্যাব-৯)। এ সময় তাদের কাছ থেকে জুয়া খেলায় ব্যবহৃত ৯টি স্মার্ট মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
সোমবার (১৩ জুলাই) দিবাগত রাতে ও এর আগে সিলেটের পৃথক দুটি স্থান থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল জানতে পারে যে, গোলাপগঞ্জ থানাধীন ফুলবাড়ী পূর্বপাড়া কলেজ রোড এলাকার ‘রিয়া ফার্নিচার’-এর ভেতর কতিপয় ব্যক্তি অনলাইনে জুয়া খেলছে। খবর পেয়ে রাত আনুমানিক সাড়ে ৯ টার সময় র্যাবের আভিযানিক দলটি সেখানে পৌঁছালে পালানোর চেষ্টাকালে ৫ জনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জুয়া খেলার কথা স্বীকার করায় তাদের ব্যবহৃত ৫টি স্মার্টফোনসহ গ্রেফতার করা হয়।

গোলাপগঞ্জ থেকে গ্রেফতারকৃতরা হল,আজাদুর রহমান (২৫) গোলাপগঞ্জ উপজেলার উত্তর ঘোষগাঁও গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেন ছেলে মোঃ শিপন উদ্দিন (২৪), কানাইঘাট উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের মৃত মাসুক উদ্দিনের ছেলে সামাদ আহম্মদ (৩০), গোলাপগঞ্জ উপজেলার চৌঘরী গ্রামের মৃত আফতাব আলীর ছেলে, শাকিব (২০), নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার উল্লুকান্দা মোহাম্মদ গ্রামের মৃত শাবিনূর’র ছেলে ও মোঃ ইয়াসিন আরাফাত (২৮), গোলাপগঞ্জ উপজেলার দাড়িপাতন গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেন বাদল এর ছেলে।
এদিকে অপর এক অভিযানে, একই দিন (১৩ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ১১.৫০ মিনিটে সিলেটের কোতোয়ালি থানাধীন পশ্চিম শেখঘাট নবাব রোড সংলগ্ন একটি পানের দোকানের ভেতর অভিযান চালায় র্যাব। সেখান থেকে জুয়া খেলার কাজে ব্যবহৃত ৪টি স্মার্ট মোবাইল ফোনসহ চক্রের আরও ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

কোতোয়ালি থেকে গ্রেফতারকৃতরা হল, বিল্লাল আহম্মদ এর ছেলে মুন্না আহম্মদ (২৬), জিল্লাল মিয়ার ছেলে সাগর তালুকদার (৩০), আব্দুল বাছিরের ছেলে সুমন আহম্মদ (২৭) ও জানু মিয়ার ছেলে সাইফ ইসলাম সুমন (২৬)। গ্রেফতারকৃত আসামীদের সবার বাড়ি কোতোয়ালি থানার শেখঘাট এলাকায় বলে জানায় র্যাব।
গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তারা পরস্পর যোগসাজশে বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপস ও ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট হিসেবে কাজ করছিল। তারা সাধারণ মানুষকে অল্প টাকার বিনিময়ে অধিক টাকা পাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এই খেলায় অংশ নিতে প্রলুব্ধ করত এবং বিনিময়ে মোটা অঙ্কের কমিশন লাভ করত বলে র্যাব জানায়।
র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) কে, এম, শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে আসামি ও জব্দকৃত আলামত সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এছাড়া এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি এবং জুয়া ও মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্টাফ রিপোর্টার 



















