
কুমিল্লার বরুড়ায় পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে জসীম উদ্দিন হত্যা মামলার ১ নম্বর এজাহারনামীয় পলাতক আসামি নাজমুল হোসেনকে (৩২) গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯।
শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালী থানা এলাকার ব্লু বার্ড হাই স্কুল এন্ড কলেজের সামনে থেকে তাকে যৌথ অভিযানের মাধ্যমে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত নাজমুল হোসেন কুমিল্লা জেলার বরুড়া থানার ধনিশ্বর এলাকার আলী আকবরের ছেলে।
র্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কুমিল্লার বরুড়া থানার ধনিশ্বর এলাকার বাসিন্দা জসীম উদ্দিনের সাথে তাঁর চাচা, ভাতিজা ও প্রতিবেশীদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ মার্চ বিবাদীগণ জসীম উদ্দিনের ভোগ-দখলীয় সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করতে গেলে জসীম ও তাঁর স্ত্রী বাধা দেন। তখন বিবাদীগণ তাঁদের এলোপাতাড়ি মারধর করে আহত করে।
পরদিন ১৬ মার্চ সন্ধ্যায় বিবাদীগণ পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী অজ্ঞাতনামা আরও ৮/১০ জনসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জসীম উদ্দিনের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। জসীম উদ্দিন তাঁদের চলে যাওয়ার অনুরোধ করলে, বিবাদীগণ তাঁকে ধারালো দা দিয়ে মাথায় আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। একপর্যায়ে তাঁকে লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে এবং হাত-পা বেঁধে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জসীম উদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর ভিকটিমের স্ত্রী বাদী হয়ে বরুড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং আসামিকে গ্রেফতারে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে কুমিল্লা জেলার বরুড়া থানায় একটি মামলা রয়েছে। ১৭ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখ ১৮ নং মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩০৭/৩০২/৪২৭/৫০৬/
৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০ ধারায় রুজুকৃত।
র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিঃ পুলিশ সুপার কে, এম, শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-১ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) এবং সিপিএসসি (সিলেট)-এর একটি যৌথ আভিযানিক দল এই অভিযান পরিচালনা করে প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাবের এই অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
স্টাফ রিপোর্টার 

















