সিলেট ১১:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
News Title :
বিধবা-বয়স্ক কোনো ভাতাই জোটেনি সনকার‎প্রতিবন্ধী নাতনির, দায়িত্ব বৃদ্ধ দাদির কাঁধে লাখাই মুড়িয়াউক ইউনিয়ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে প্রচার-প্রচারণা ‎সিলেটে বাস টমটম সংঘর্ষে মা-মেয়ে নিহতের ঘটনায় ঘাতক বাস চালক গ্রেপ্তার কুলাউড়ায় নতুন আঙ্গিকে গোবিন্দাস রেস্টুরেন্ট, সাশ্রয়ী মূল্যে মিলবে তিন বেলার খাবার নিউইয়র্ক পুলিশ কর্মকর্তা জুয়েল মাহবুবের সঙ্গে স্রোত সাহিত্য পর্ষদের শুভেচ্ছা বিনিময় ‎হবিগঞ্জে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ‎লাখাইয়ে শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজাঁ‎ উদযাপনের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।    ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অলিপুরে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী মৃত্যু হবিগঞ্জ কারাগারে মাদক মামলার এক বন্দির মৃত্যু ‎লাখাইয়ে পুলিশের উদ্যোগে মাদক ও অপরাধবিরোধী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

‎ক্লুলেস সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রহস্য উদঘাটন, দুই আসামি গ্রেফতার


‎
‎
‎মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের তৎপরতায় একটি ক্লুলেস সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। গ্রেফতারের পর তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ সময় ভুক্তভোগীর ঘর থেকে চুরি হওয়া দুটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
‎
‎গ্রেফতারকৃতরা হলো ফেরদৌস হোসেন (৩১) ও কন্নাল মিয়া ওরফে জয়নাল (৩৯)।
‎
‎পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুন ভোররাতে মৌলভীবাজার শহরের উত্তর কলিমাবাদ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। স্বামী-পরিত্যক্তা এক শ্রমজীবী নারী তার শিশু কন্যাকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে তিনজন মুখোশধারী ব্যক্তি কৌশলে ঘরের দরজার সিটকানি খুলে ভেতরে প্রবেশ করে।
‎
‎এ সময় তারা নারীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জিম্মি করে। পরে তাদের মধ্যে দুজন তাকে ধর্ষণ করে। একই সময়ে অপর একজন ঘরে থাকা ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায়।
‎
‎ঘটনার পর ভুক্তভোগী মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। কোনো প্রত্যক্ষ সূত্র বা পরিচয় না থাকায় মামলাটির তদন্ত ছিল পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
‎
‎জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় সদর মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
‎
‎পরবর্তীতে ধারাবাহিক অভিযানে ঢাকা জেলার সাভারের রাজাবাড়ী এলাকা থেকে প্রধান অভিযুক্ত ফেরদৌস হোসেনকে এবং মৌলভীবাজার শহরের উত্তর কলিমাবাদ এলাকা থেকে কন্নাল মিয়া ওরফে জয়নালকে গ্রেফতার করা হয়। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয় চুরি হওয়া দুটি মোবাইল ফোন।
‎
‎পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর আদালতে হাজির করা হলে দুই আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় এবং ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে।
‎
‎মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত ফেরদৌস একজন পেশাদার অপরাধী। তার বিরুদ্ধে চুরিসহ চারটি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
‎
‎তিনি বলেন,এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক অপর আসামিকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না, দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
‎
‎পুলিশের দাবি, প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে কোনো প্রত্যক্ষ সূত্র ছাড়াই মামলাটির রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে, যা জেলা পুলিশের তদন্ত সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিধবা-বয়স্ক কোনো ভাতাই জোটেনি সনকার‎প্রতিবন্ধী নাতনির, দায়িত্ব বৃদ্ধ দাদির কাঁধে

‎ক্লুলেস সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রহস্য উদঘাটন, দুই আসামি গ্রেফতার

সময় ০৬:৫১:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬


‎
‎
‎মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের তৎপরতায় একটি ক্লুলেস সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। গ্রেফতারের পর তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ সময় ভুক্তভোগীর ঘর থেকে চুরি হওয়া দুটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
‎
‎গ্রেফতারকৃতরা হলো ফেরদৌস হোসেন (৩১) ও কন্নাল মিয়া ওরফে জয়নাল (৩৯)।
‎
‎পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুন ভোররাতে মৌলভীবাজার শহরের উত্তর কলিমাবাদ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। স্বামী-পরিত্যক্তা এক শ্রমজীবী নারী তার শিশু কন্যাকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে তিনজন মুখোশধারী ব্যক্তি কৌশলে ঘরের দরজার সিটকানি খুলে ভেতরে প্রবেশ করে।
‎
‎এ সময় তারা নারীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জিম্মি করে। পরে তাদের মধ্যে দুজন তাকে ধর্ষণ করে। একই সময়ে অপর একজন ঘরে থাকা ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায়।
‎
‎ঘটনার পর ভুক্তভোগী মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। কোনো প্রত্যক্ষ সূত্র বা পরিচয় না থাকায় মামলাটির তদন্ত ছিল পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
‎
‎জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় সদর মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
‎
‎পরবর্তীতে ধারাবাহিক অভিযানে ঢাকা জেলার সাভারের রাজাবাড়ী এলাকা থেকে প্রধান অভিযুক্ত ফেরদৌস হোসেনকে এবং মৌলভীবাজার শহরের উত্তর কলিমাবাদ এলাকা থেকে কন্নাল মিয়া ওরফে জয়নালকে গ্রেফতার করা হয়। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয় চুরি হওয়া দুটি মোবাইল ফোন।
‎
‎পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর আদালতে হাজির করা হলে দুই আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় এবং ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে।
‎
‎মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত ফেরদৌস একজন পেশাদার অপরাধী। তার বিরুদ্ধে চুরিসহ চারটি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
‎
‎তিনি বলেন,এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক অপর আসামিকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না, দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
‎
‎পুলিশের দাবি, প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে কোনো প্রত্যক্ষ সূত্র ছাড়াই মামলাটির রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে, যা জেলা পুলিশের তদন্ত সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।