
টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে গত ৯ জুন মঙ্গলবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা এখন ভয়াবহ জনদুর্ভোগের রূপ নিয়েছে। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পর থেকে তারা বারবার সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা বা নির্দিষ্ট সময়সীমা পাননি। বরং কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১১ জুনের মধ্যে সংযোগ পুনঃস্থাপন সম্ভব না হলে কবে নাগাদ বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে সে বিষয়েও তারা নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে সক্ষম নন।
এমন বক্তব্যকে চরম দায়িত্বহীনতা ও গ্রাহকসেবার প্রতি অবহেলার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে একটি পৌর এলাকার হাজারো মানুষকে দিনের পর দিন বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রেখে পুনঃসংযোগের সম্ভাব্য সময়সীমা সম্পর্কেও কোনো স্পষ্ট ধারণা দিতে না পারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
দীর্ঘস্থায়ী এই বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম, চিকিৎসাসেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরম ও অসহনীয় আবহাওয়ার মধ্যে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্যসামগ্রী এবং ব্যাহত হচ্ছে অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম।
স্থানীয়দের মতে, বিদ্যুৎ বিভ্রাট কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়; তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পৌর এলাকায় টানা কয়েকদিন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার পরও সমস্যার প্রকৃতি, সমাধানের অগ্রগতি কিংবা সম্ভাব্য পুনঃসংযোগের সময় সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের অস্পষ্ট ও অনিশ্চিত অবস্থান অত্যন্ত হতাশাজনক।এলাকাবাসী অবিলম্বে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃস্থাপন, বিভ্রাটের প্রকৃত কারণ প্রকাশ এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় জনদুর্ভোগ আরও প্রকট আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
মো. সাজিদ পিয়াল, টাংগাইল থেকে 


















