
সুনামগঞ্জের ছাতক ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত সীমান্তবর্তী সোনাই নদীর ওপর স্থানীয় ২১ জন ব্যক্তি নিজস্ব অর্থায়নে একটি দৃষ্টিনন্দন সেতু নির্মাণ করেছেন। লোহা ও কাঠের সমন্বয়ে নির্মিত এ সেতু কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহ আরেফিন বাজারের সঙ্গে ছাতক উপজেলার গাঙপাড় নোয়াকুট এলাকার সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেছে। ফলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে দুই পাড়ের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা আরও সহজ ও নিরাপদ হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) বিকেলে দুই পাড়ের বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সেতুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। জানা গেছে, ৩২টি স্টিলের পিলারের ওপর নির্মিত সেতুটির দৈর্ঘ্য ২৬০ ফুট এবং প্রস্থ ৭ ফুট। সেতুর উপরিভাগে উন্নতমানের কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপদ চলাচলের জন্য দুই পাশে স্টিলের রেলিং স্থাপন করা হয়েছে। সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৮ লাখ টাকা।
সেতু নির্মাণের মূল উদ্যোক্তা গাঙপাড় নোয়াকুট গ্রামের সমাজসেবী এবং ছাতকের ১নং ইসলামপুর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কামরুল ইসলাম। তাঁর উদ্যোগে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতায় এ মহতী কাজ বাস্তবায়িত হয়।
এ উদ্যোগে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন হাজী সোনা মিয়া, হাজী মানিক মিয়া, তাজুল ইসলাম, আব্দুস সালাম, সিরাজ উদ্দিন খান, কামরুজ্জামান, মনির খান, আব্দুল মছব্বির, শফিকুল ইসলাম, মাস্টার নজরুল ইসলাম খান, মাস্টার আব্দুল মনাফ, মাস্টার আজাদ মিয়া, ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম, আল আমিন খান, সফিক খান, ডা. জহিরুল ইসলাম বিল্লাল, রিয়াজ উদ্দিন খান, আফাজ উদ্দিন, হাসান আহমদ মঙ্গল ও শিব্বির আহমদ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেতুটি নির্মাণের ফলে শাহ আরেফিন বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত অনেক সহজ হয়েছে। শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজে এখন মানুষকে আর দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হবে না। এলাকাবাসীর মতে, স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত এ সেতু শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই ঘটায়নি, বরং পারস্পরিক সহযোগিতা, সামাজিক ঐক্য এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
ছাতক প্রতিনিধি 



















