সিলেট ০৩:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
News Title :
বানিয়াচংয়ে জমকালো আয়োজনে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত‎ ‎ক্লুলেস সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রহস্য উদঘাটন, দুই আসামি গ্রেফতার ‎নবীগঞ্জের একমাত্র আসামি তুহিন সিলেট থেকে গ্রেফতার ‎লাখাইয়ে কর্মকর্তা সাংবাদিক  মুক্তিযোদ্ধা সহ সুশীল সমাজের সাথে মতবিনিময় করেন জেলা প্রশাসক। ‎জামালপুরের দিগপাইতে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: হত্যা নাকি আত্মহত্যা এ নিয়ে রহস্য!‎ ‎জামালপুরে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে  পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক কর্মশালা  ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রামু থেকে নিখোঁজ কলেজছাত্রী টাঙ্গাইলে উদ্ধার চুনারুঘাটে মাদকবিরোধী যৌথ অভিযান: নারীকে ৬ মাসের কারাদণ্ড, জরিমানা ‎সখিপুর পৌরসভায় ৩নং ওয়ার্ডে টানা বিদ্যুৎ বিপর্যয়: চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাঠ পর্যায়ের কৃষি উন্নয়নমূলক ও মানবিক কার্যক্রম পরিদর্শন

হবিগঞ্জে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক; টিয়ারশেল নিক্ষেপ পুলিশের






‎হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৮ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

‎পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ চলাকালে বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদ আহমদ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তাঁর অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন

‎প্যানেল চেয়ারম্যান ও যুবদল নেতা মিজানুর রহমান কপিল। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচনের পর ফরিদ আহমদ জামিনে মুক্তি পান। কিন্তু তিনি পুনরায় চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার গ্রহণ করতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কপিল তাতে আপত্তি জানান। এই ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই চরম উত্তেজনা ও বিরোধ বিরাজ করছিল।



‎এই দীর্ঘদিনের উত্তেজনার চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় সোমবার সকালে। এদিন ইউনিয়ন পরিষদে সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণের আয়োজন করা হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ উপস্থিত হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ফরিদ আহমদ ও মিজানুর রহমান কপিলের মধ্যে সরাসরি তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এর জেরে ফরিদ আহমদের সমর্থনে নোয়াগাঁও ও কদুপুরসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ এবং কপিলের সমর্থনে হলদারপুর গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। এতে মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

‎সংঘর্ষের খবর পেয়ে বানিয়াচং থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করায় পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ভয়াবহ সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালসহ আশেপাশের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

‎বানিয়াচং সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, চেয়ারম্যান এবং প্যানেল চেয়ারম্যানের মধ্যেকার পূর্ববিরোধের জেরেই মূলত এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক ও পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বানিয়াচংয়ে জমকালো আয়োজনে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত‎

হবিগঞ্জে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক; টিয়ারশেল নিক্ষেপ পুলিশের

সময় ০৩:৪৩:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬






‎হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৮ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

‎পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ চলাকালে বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদ আহমদ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তাঁর অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন

‎প্যানেল চেয়ারম্যান ও যুবদল নেতা মিজানুর রহমান কপিল। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচনের পর ফরিদ আহমদ জামিনে মুক্তি পান। কিন্তু তিনি পুনরায় চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার গ্রহণ করতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কপিল তাতে আপত্তি জানান। এই ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই চরম উত্তেজনা ও বিরোধ বিরাজ করছিল।



‎এই দীর্ঘদিনের উত্তেজনার চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় সোমবার সকালে। এদিন ইউনিয়ন পরিষদে সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণের আয়োজন করা হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ উপস্থিত হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ফরিদ আহমদ ও মিজানুর রহমান কপিলের মধ্যে সরাসরি তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এর জেরে ফরিদ আহমদের সমর্থনে নোয়াগাঁও ও কদুপুরসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ এবং কপিলের সমর্থনে হলদারপুর গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। এতে মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

‎সংঘর্ষের খবর পেয়ে বানিয়াচং থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করায় পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ভয়াবহ সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালসহ আশেপাশের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

‎বানিয়াচং সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, চেয়ারম্যান এবং প্যানেল চেয়ারম্যানের মধ্যেকার পূর্ববিরোধের জেরেই মূলত এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক ও পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।