
হবিগঞ্জের লাখাই থানাধীন ৬নং বুল্লা ইউনিয়নের বুল্লা বাজারে কাঁচামাল বিক্রির জায়গা নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটার আঘাতে ৩ জন গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। ঘটনার পর পরই স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। সংবাদ পেয়ে লাখাই থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বৃহস্পতিবার ৪ জুন দুপুর আনুমানিক ১২ টা ৩০ মিনিটে বুল্লা বাজারস্থ হযরত শাহ বায়েজিদ (রা:) মাজার গেট ও মাজার মাঠ এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব বুল্লা গ্রামের মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের ১০ বছর বয়সী শিশু পুত্র মোঃ ঝুমন মিয়া মাজার গেট সংলগ্ন রাস্তায় প্লাস্টিকের ক্যারেট রেখে কলমিশাক বিক্রি করছিল। প্রথম দফা শাক বিক্রি শেষে সে বাড়ি থেকে পুনরায় আরও শাক বিক্রির জন্য নিয়ে আসে। এসে দেখে যে, তার আগের জায়গাটি দখল করে পূর্ব বুল্লা গ্রামের জফু মিয়ার ছেলে মোঃ করিম মিয়া (৩০) কাঁচামাল বিক্রি করছে। এ সময় করিম মিয়া ভয়-ভীতি দেখিয়ে শিশু ঝুমনকে সেখান থেকে চলে যেতে বলে।
তখন আলমগীর মিয়ার সাথে একই এলাকার জফু মিয়ার ছেলে করিম মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে করিম মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ির দিকে চলে যায় এবং মারামারির প্রস্তুতি নিয়ে দলবলসহ দেশীয় ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মাজার মাঠে আসে। সেখানে করিম মিয়া ধারালো অস্ত্র দিয়ে অতর্কিতভাবে অপর পক্ষের আলমগীর (৩৫)-কে আঘাত করে। তাকে বাঁচানোর জন্য আব্দুর রহমান (৩০) এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা তাকেও মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে।
পরবর্তীতে তাদের দুজনকে বাঁচাতে আজিজ মিয়া (৪০) এগিয়ে আসলে তিনিও গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। আহত ৩ জনেরই বাড়ি পূর্ব বুল্লা গ্রামের ৮নং ওয়ার্ডে।
ঘটনার পর পরই স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় আহত আলমগীর, আব্দুর রহমান ও আজিজ মিয়াকে উদ্ধার করে দ্রুত হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বর্তমানে আলমগীর এর অবস্থার অবনতি ঘটলে থাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে লাখাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কিলো ডিউটি পার্টির অফিসার ও ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও বাজার ও আশপাশ এলাকায় কিছুটা থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
লাখাই থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বিল্লাল আহমেদ লাখাই হবিগঞ্জ প্রতিনিধি- 


















