
সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলায় চোরাচালান, অবৈধ পণ্য পরিবহন ও একে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা চাঁদাবাজি নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন। ১৮ অক্টোবর সভায় এসব কথা জানায় প্রশাসন
অপরাধ দমনে সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি চোরাচালান ও চাঁদাবাজির সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িতদের সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
গত ৩ জুলাই থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলায় মোট ২৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পরোয়ানাভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত ১২৫ জন, নিয়মিত মামলায় ৬৪ জন, মাদক মামলায় ৩২ জন, চোরাচালানে ২৩ জন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় ৯ জন রয়েছেন।
একই সময়ে ১৭টি চোরাচালান মামলায় ৩ লাখ ১২ হাজার ৫০০ শলাকা ভারতীয় নাসির বিড়ি, ১ হাজার ৯০০ কেজি ভারতীয় জিরা, প্রায় ৯ হাজার ৮৭২ পিস ভারতীয় চকলেটের পাশাপাশি পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজি, পিকআপ, নৌকা ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
এছাড়াও ২৮টি মাদক মামলায় ১৬০ লিটার চোলাই মদ, ২ হাজার ৫৭৫ বোতল ভারতীয় এসকাফ কাফ সিরাপ, ১৬৭ বোতল ও ৪২ ক্যান ভারতীয় মদ, ১ হাজার ৬৮০ পিস ইয়াবা এবং ৬১.৫ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৬০ লাখ টাকারও বেশি।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক মড়ল জানিয়েছেন, চোরাচালান বন্ধ, চাঁদাবাজি ও অবৈধ পণ্য পরিবহনের বিরুদ্ধে পুলিশ নীতিগতভাবে হার্ডলাইনে রয়েছে উপজেলা প্রশাসন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী অপরাধীদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী জানান , উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ দমনে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
সীমান্তবর্তী এই এলাকায় চোরাচালান ও চাঁদাবাজি রোধে প্রশাসন ও পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতন মহল।
গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি 

















