
মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর ও পরিবেশ সংগঠক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে থাকা দেশের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হচ্ছে সিলেট। অতিরিক্ত বৃষ্টি, স্বল্প সময়ে প্রবল বর্ষণ, আকস্মিক বন্যা, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন, অনাবৃষ্টি তথা খরা, প্রভৃতি এ অঞ্চলের প্রতিবছরে ঘটছে। অপরদিকে, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও নগরায়নের জন্য এ অঞ্চলের পরিবেশ ও প্রতিবেশ হুমকীর সম্মুখিত।
সিলেট নগরের ফুসফুস সুরমা নদীর দূষণ বন্ধ করে নাব্যতা না ফিরিয়ে আনলে সিলেট নগরে বিপর্যয় নেমে আসবে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা করতে পারবো না। দূর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুতি না থাকলে এতদঞ্চলে একসময় মানবিক বিপর্যয় নেমে আসবে।
১৮ আগস্ট মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর গার্ডেন টাওয়ারে জালালাবাদ সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (জাসউস) আয়োজিত “জলবায়ু পরিবর্তন ও সিলেটের বাস্তবতা” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলো বলেন।
জাসউস এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও যুক্তরাজ্যের কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব তমাল আহমদ মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, সিলেট ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরী, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক কাসমির রেজা।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়; এর অভিঘাত ইতোমধ্যেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢল, জলাবদ্ধতা, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, কৃষি ও মৎস্যসম্পদের ওপর চাপ, জীববৈচিত্র্যের পরিবর্তন—সবকিছু মিলিয়ে সিলেট ক্রমেই একটি জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হচ্ছে।
আর সিলেটের জলবায়ু বাস্তবতা বুঝতে হলে হাওরকে বুঝতে হবে। হাওর শুধু পানি বা মাছের আধার নয়। হাওর আমাদের কৃষি, মৎস্য, জীববৈচিত্র্য, মানুষের জীবিকা এবং বন্যার পানি ধারণের একটি প্রাকৃতিক ব্যবস্থা। তাই হাওর, নদী, খাল ও জলাভূমিকে ধ্বংস করে কোনোভাবেই জলবায়ু সহনশীল সিলেট গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
বিশেষ প্রতিনিধি।। 


















