সিলেট ০৬:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
News Title :
‎ছাতকে মোবাইল কোর্ট: চার প্রতিষ্ঠানকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা, পচা মাংস জব্দ কুলাউড়ায় অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ জুড়ীতে হাকালুকি হাওরের মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই উৎপাদন বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত‎ ‎আবু সালেহ আহমদ : শেকড় সন্ধানী এক নিভৃতচারী সাহিত্যসাধক। ‎মেধা ও পরিশ্রমে সাফল্য, এসএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস তুবার ‎জামালপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান,সরঞ্জাম জব্দ ও বিনষ্ট ‎হবিগঞ্জে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত ভবন থেকে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার ‎লাখাই উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ড. আক্তার আহাদ চৌধুরী স্বপন ডেঙ্গু আক্রান্ত। সিলেটের মুরাদপুরে শব্দদূষণ ও পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৭ জনকে জরিমানা‎ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ৫ শিক্ষকের বিপরীতে ৫ম শ্রেণীতে উপস্থিত ১ জন

‎আবু সালেহ আহমদ : শেকড় সন্ধানী এক নিভৃতচারী সাহিত্যসাধক।

‎বাংলা সাহিত্যের বিস্তৃত অঙ্গনে এমন কিছু লেখক আছেন, যাঁদের সাহিত্যিক পরিচয়ের চেয়ে তাঁদের নিরলস সাধনা, শেকড়ের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং নেপথ্যে থেকে কাজ করে যাওয়ার মানসিকতা অধিক তাৎপর্যপূর্ণ। আবু সালেহ আহমদ তাঁদেরই একজন। তিনি প্রচারের আলোয় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেয়ে মানুষ, মাটি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধারণ করাকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁর সাহিত্যচর্চা, গবেষণা, লোকসংস্কৃতি সংগ্রহ, সম্পাদনা ও সাহিত্য-সংগঠনের কার্যক্রমের দিকে তাকালে তাঁকে যথার্থই একজন নিভৃতচারী, মননশীল ও শেকড়সন্ধানী সাহিত্যসাধক হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।

‎তাঁর সাহিত্যকর্মের সবচেয়ে উজ্জ্বল বৈশিষ্ট্য হলো—তিনি নিজের ভূগোলকে সাহিত্যের বিষয় করে তুলেছেন। বানিয়াচং তাঁর কাছে শুধু জন্মভূমি নয়; এটি তাঁর অনুসন্ধানের ক্ষেত্র, স্মৃতির ভাণ্ডার, ইতিহাসের উপাদান এবং সৃষ্টিশীলতার এক উর্বর ভূমি। একটি জনপদের মানুষ, কিংবদন্তি, লোকবিশ্বাস, ইতিহাস, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধ, কৃতী ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক জীবনকে তিনি নানা আঙ্গিকে গ্রন্থবদ্ধ করেছেন। ফলে তাঁর রচনায় বানিয়াচং একদিকে যেমন একটি নির্দিষ্ট জনপদ, অন্যদিকে তেমনি বৃহত্তর বাংলার গ্রামীণ সমাজ ও লোকজ জীবনের একটি প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

‎তাঁর বাংলা সাহিত্যে বানিয়াচঙ্গ গ্রন্থটিও এই শেকড়মুখী সাহিত্য-অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতার একটি সাম্প্রতিক দৃষ্টান্ত; গ্রন্থটি ২০২৫ সালে প্রকাশিত হয়েছে এবং সাহিত্য ও সাহিত্যিক বিষয়ক প্রবন্ধ হিসেবে তালিকাভুক্ত।

‎আবু সালেহ আহমদ ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার শেখের মহল্লা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম গোলাম মওলা এবং মাতা হাজেরা বেগম।

‎বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালেই তাঁর লেখালেখির হাতেখড়ি। শৈশবের সেই কৌতূহলী কলম পরবর্তী সময়ে পরিণত হয়েছে দীর্ঘ সাহিত্যযাত্রায়। আশির দশক থেকে অদ্যাবধি তিনি বিভিন্ন সাহিত্যপত্র প্রকাশ, সম্পাদনা, সাহিত্য-সংগঠন ও লেখক সৃষ্টির কাজে যুক্ত রয়েছেন।

‎একজন লেখকের সাহিত্যিক পরিণতি সাধারণত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যায় মাপা হয়; কিন্তু আবু সালেহ আহমদের ক্ষেত্রে তাঁর সাহিত্যজীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হলো—তিনি কতজনকে লেখার সুযোগ দিয়েছেন এবং কতটা সাহিত্যিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। এই দিক থেকে তাঁর সাহিত্য-সংগঠকের পরিচয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

‎আবু সালেহ আহমদের লেখালেখিতে আত্মপ্রকাশের আকাঙ্ক্ষার চেয়ে দায়বদ্ধতার সুরটি প্রবল। সমাজ, মানুষ, ইতিহাস ও ঐতিহ্য তাঁর রচনার প্রধান অনুষঙ্গ। তিনি যে মানুষগুলোর কথা লিখেছেন, তাঁদের অনেকেই হয়তো বৃহত্তর ইতিহাসের পাতায় স্থান পাননি; কিন্তু স্থানীয় সমাজ ও সংস্কৃতির ইতিহাসে তাঁদের অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সেই মানুষদের স্মৃতি সংরক্ষণ করে তিনি মূলত একটি বিস্মৃত সামাজিক ইতিহাসকে লিখিত রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

‎এখানেই তাঁর লেখার একটি বিশেষ মূল্য রয়েছে। ইতিহাস কেবল রাজা-বাদশাহ, যুদ্ধ, রাজনীতি কিংবা রাষ্ট্রীয় ঘটনাবলির ইতিহাস নয়; সাধারণ মানুষের জীবনও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আবু সালেহ আহমদ তাঁর লেখায় সেই সাধারণ মানুষ, গুণীজন ও স্থানীয় ব্যক্তিত্বদের সামনে এনে ইতিহাসের গণমুখী পাঠ নির্মাণের চেষ্টা করেছেন।

‎বানিয়াচঙ্গের শতজন, ঐতিহাসিক বানিয়াচঙ্গ : ইতিহাস ও কিংবদন্তি, বানিয়াচঙ্গের নন্দিত জীবন, কাব্যে বানিয়াচঙ্গের ইতিহাস, বানিয়াচঙ্গের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা, বানিয়াচঙ্গের শতজন-২ প্রভৃতি গ্রন্থ তাঁর শেকড়সন্ধানী মানসের উজ্জ্বল পরিচায়ক।

‎বিশেষভাবে বানিয়াচঙ্গের শতজন-২ গ্রন্থটি ২০০২ সালে প্রকাশিত বানিয়াচঙ্গের শতজন-এর ধারাবাহিকতায় প্রকাশিত হয়েছে; এটি ২০২৩ সালে প্রকাশিত ১১২ পৃষ্ঠার একটি জীবনীসংকলন।

‎একটি নির্দিষ্ট জনপদের মানুষ ও ইতিহাসকে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করা নিছক আঞ্চলিক আবেগের প্রকাশ নয়; এর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় ইতিহাসকে বৃহত্তর ইতিহাসের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রয়াস। এ ধরনের কাজ ভবিষ্যৎ গবেষকদের জন্যও উপকরণ তৈরি করে। এই কারণে আবু সালেহ আহমদের বানিয়াচং-কেন্দ্রিক রচনাকে শুধু আঞ্চলিক সাহিত্যচর্চা বললে এর ব্যাপ্তি সম্পূর্ণ ধরা পড়ে না; এটি একই সঙ্গে স্মৃতি সংরক্ষণ, স্থানীয় ইতিহাসচর্চা এবং সাংস্কৃতিক দলিল নির্মাণের প্রয়াস।

‎তাঁর বানিয়াচঙ্গের শতজন-২ গ্রন্থকে প্রকাশক-তথ্যেও বানিয়াচংয়ের গুণীজনদের ধারাবাহিক জীবনীসংকলন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

‎লোকসংস্কৃতির প্রতি আবু সালেহ আহমদের আগ্রহ তাঁর সাহিত্যিক পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। বাংলা একাডেমির লোকসংস্কৃতি সংগ্রহ কর্মসূচিতে হবিগঞ্জ জেলার লোকসংস্কৃতি সংগ্রাহক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর গবেষণামনস্কতাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

‎লোকসংস্কৃতি এমন এক সম্পদ, যার বড় অংশ লিখিত দলিলে সংরক্ষিত থাকে না। মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত কাহিনি, লোকবিশ্বাস, প্রথা, আচার, সামাজিক রীতি, গ্রামীণ জীবনযাপন ও সাংস্কৃতিক স্মৃতি প্রজন্মান্তরে প্রবাহিত হয়। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে এসবের অনেক কিছুই হারিয়ে যায়। ‎এই জায়গাতেই আবু সালেহ আহমদের কাজের তাৎপর্য বিশেষভাবে অনুধাবনযোগ্য।

‎তিনি লোকজ উপাদানকে কেবল অতীতের স্মৃতি হিসেবে দেখেননি; বরং একটি সমাজের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের দলিল হিসেবে বিবেচনা করেছেন। শেকড় থেকে উপাদান সংগ্রহ করে তা বর্তমান প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার মাধ্যমে তিনি অতীত ও বর্তমানের মধ্যে একটি সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন নির্মাণের প্রয়াস চালিয়েছেন।

‎আবু সালেহ আহমদের সাহিত্যজীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তাঁর সম্পাদনা ও সাহিত্যপত্র প্রকাশ। ‘মনন’, ‘স্মরণিকা’, ‘প্রত্যয়’, ‘প্রত্যাশা’, ‘প্রতিশ্রুতি’ ও ‘জনপ্রবাদ’ প্রভৃতি প্রকাশনার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততা কেবল সম্পাদকীয় কর্মকাণ্ড নয়; এর মধ্যে ছিল একটি সাহিত্যিক পরিবেশ গড়ে তোলার সচেতন প্রয়াস।

‎একজন লেখক নিজের জন্য লিখতে পারেন; একজন সম্পাদক অন্যের লেখাকে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেন; কিন্তু একজন সাহিত্য-সংগঠক অন্যদের লেখক হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করেন। আবু সালেহ আহমদের ভূমিকার বিশেষত্ব এখানেই। আশির দশক থেকে তিনি যে সাহিত্যচর্চার পরিসর তৈরি করার চেষ্টা করেছেন, তা তাঁকে কেবল লেখক নয়, লেখক-সৃষ্টির নেপথ্য কারিগর হিসেবেও মূল্যায়নের সুযোগ দেয়।

‎১৯৯২ সালে প্রকাশিত মোহের নিস্তব্ধ মোহনা তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এরপর তাঁর লেখার বিষয়বস্তু ক্রমশ বিস্তৃত হয়েছে। কবিতা থেকে ইতিহাস, লোকসাহিত্য থেকে জীবনী, মুক্তিযুদ্ধ থেকে কুসংস্কার, ছোটগল্প থেকে আঞ্চলিক ঐতিহ্য—বিভিন্ন বিষয়ে তিনি গ্রন্থ রচনা করেছেন।

‎তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে—মোহের নিস্তব্ধ মোহনা, বানিয়াচঙ্গের শতজন, আলাল দুলালের কিচ্ছা ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা, ভবানীর প্রেম কাহিনি, আয়েশের গল্প, দেওয়ান মাহবুবর রাজা (যৌথ), ঐতিহাসিক বানিয়াচঙ্গ : ইতিহাস ও কিংবদন্তি, ভালোবাসার বহিরাবরণ, বানিয়াচঙ্গের নন্দিত জীবন, বানিয়াচঙ্গের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা, কাব্যে বানিয়াচঙ্গের ইতিহাস, শতকবি ও কবিতা, আবুসাঈদ মোহাম্মদ আঃ হাই (রহ.) : জীবন ও কর্ম, কুসংস্কারের শত গল্প, দেওয়ান মাসুদুর রহমান চৌধুরী : সাহিত্য ও মানস, বি. রায় চৌধুরীর জীবন ও কর্ম, বানিয়াচঙ্গের শতজন-২, শহীদ কিশোর মুক্তিযোদ্ধার সন্ধানে প্রভৃতি।

‎এ ছাড়া বাংলা সাহিত্যে বানিয়াচঙ্গ নামে তাঁর একটি গ্রন্থ ২০২৫ সালে প্রকাশিত হয়েছে।

‎এই বিষয়বৈচিত্র্য তাঁর সাহিত্যিক কৌতূহলের পরিধি নির্দেশ করে। তিনি একটি নির্দিষ্ট সাহিত্যধারায় নিজেকে আবদ্ধ রাখেননি; বরং যে বিষয় তাঁর কাছে সংরক্ষণযোগ্য, অনুসন্ধানযোগ্য কিংবা মূল্যায়নযোগ্য বলে মনে হয়েছে, সেখানেই কলম ধরেছেন।

‎আবু সালেহ আহমদ তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে নিয়ে পৃথক গ্রন্থ রচনা করেছেন—আবুসাঈদ মোহাম্মদ আঃ হাই (রহ.) : জীবন ও কর্ম, দেওয়ান মাসুদুর রহমান চৌধুরী : সাহিত্য ও মানস এবং বি. রায় চৌধুরীর জীবন ও কর্ম।

‎জীবনী লেখা শুধু একজন ব্যক্তির জন্ম-মৃত্যুর তথ্য লিপিবদ্ধ করা নয়; একজন মানুষের কর্ম, চিন্তা, সময় ও সমাজকে পাঠকের সামনে পুনর্নির্মাণ করা। এই অর্থে তাঁর জীবনীগ্রন্থগুলো ব্যক্তির পাশাপাশি একটি সময় ও সমাজেরও দলিল হয়ে ওঠার সম্ভাবনা বহন করে

‎তাঁর এই প্রবণতার মধ্যে রয়েছে কৃতী মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা এবং তাঁদের অবদানকে বিস্মৃতির হাত থেকে রক্ষা করার সাংস্কৃতিক দায়বোধ।

‎মুক্তিযুদ্ধ তাঁর লেখার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বানিয়াচঙ্গের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ কিশোর মুক্তিযোদ্ধার সন্ধানে—এই গ্রন্থগুলোর বিষয়বস্তুতেই তাঁর অনুসন্ধানের লক্ষ্য স্পষ্ট।

‎বিশেষত স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংগ্রহের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় ইতিহাসের বৃহৎ পরিসরের পাশাপাশি প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, মুক্তিযোদ্ধার ভূমিকা এবং শহীদদের আত্মত্যাগ সংরক্ষিত হওয়া প্রয়োজন। আবু সালেহ আহমদের এই প্রয়াসকে তাই স্থানীয় স্মৃতিকে জাতীয় ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়াস হিসেবে দেখা যায়।

‎শিশুদের জন্য তাঁর রচনাও তাঁর সাহিত্যিক সত্তার একটি ভিন্ন দিক উন্মোচন করে। আয়েশের অ, আ, ই, আয়েশের সাধারণ জ্ঞান, রাফি স্পেলিং, আয়েশের ধারাপাত ও আয়েশের অঙ্ক প্রভৃতি গ্রন্থে শিশুদের উপযোগী শিক্ষামূলক বিষয়কে সহজভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা রয়েছে।

‎একজন লেখক যখন শিশুর জন্য লেখেন, তখন তিনি মূলত ভবিষ্যৎ পাঠক তৈরি করেন। তাই তাঁর শিশুতোষ সাহিত্যকর্মকে শুধু পার্শ্ববর্তী কাজ হিসেবে না দেখে শিশুমন গঠন ও পাঠাভ্যাস সৃষ্টির একটি প্রয়াস হিসেবেও মূল্যায়ন করা যায়।

‎আবু সালেহ আহমদের ব্যক্তিগত পাঠাগারে দুই হাজারের অধিক গ্রন্থ রয়েছে বলে জানা যায়। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক ইতিহাস, সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক গ্রন্থের সংগ্রহ তাঁর পাঠাভ্যাস ও গবেষণামুখী মানসিকতার পরিচয় বহন করে।

‎একজন লেখকের পাঠাগার অনেক সময় তাঁর অপ্রকাশিত আত্মজীবনী। কোন বই তিনি সংগ্রহ করেন, কোন বিষয় পড়েন, কোন ইতিহাসের প্রতি আকৃষ্ট হন—এসবের মধ্য দিয়েই তাঁর চিন্তার পরিধি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। সেই দৃষ্টিতে তাঁর পারিবারিক পাঠাগারটি শুধু বই রাখার স্থান নয়; এটি তাঁর দীর্ঘ সাহিত্য-অনুসন্ধানের একটি নীরব সহযাত্রী।

‎আবু সালেহ আহমদ শুধু লেখক নন, একজন সক্রিয় সাহিত্য-সংগঠকও। নবারুণ সাহিত্য পরিষদ, বানিয়াচং সাহিত্য পরিষদ, স্মরণিকা স্মৃতি চক্র এবং ভূপর্যটক রামনাথ বিশ্বাস স্মৃতি সংসদের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।

‎বর্তমানে ইউএসএ বাংলা আন্তর্জাতিক সাহিত্য ফোরাম এবং হাছন রাজা লোকসাহিত্য-সংস্কৃতি কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

‎তাঁর সংগঠকসত্তার বিশেষত্ব হলো—সাহিত্যকে তিনি নিছক ব্যক্তিগত সাধনা হিসেবে দেখেননি। সাহিত্যকে তিনি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পৃক্ততার ক্ষেত্র হিসেবেও বিবেচনা করেছেন। এ কারণেই তাঁর কর্মকাণ্ডের বিস্তার লেখার টেবিল থেকে সংগঠনের মাঠ পর্যন্ত প্রসারিত।

‎সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিশুশিক্ষা ও সংগঠক হিসেবে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মাননা ও পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৮৫ সালে হবিগঞ্জ শিশু একাডেমির মৌসুমি প্রতিযোগিতায় দেওয়ালিকা বিষয়ে প্রথম পুরস্কার লাভ তাঁর প্রারম্ভিক সৃজনশীলতার একটি স্বীকৃতি। পরবর্তী সময়ে বানিয়াচং কমিউনিটি স্কুলের সম্মাননা, শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক পদক, আলহেরা একাডেমির সম্মাননা, রাগিব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের একুশে সম্মাননা ও পুরস্কার এবং বানিয়াচং রিপোর্টার্স ইউনিটির সম্মাননাসহ বিভিন্ন স্বীকৃতি তাঁর দীর্ঘ কর্মযাত্রার সামাজিক মূল্যায়নের পরিচায়ক।

‎তবে তাঁর সাহিত্যজীবনের প্রকৃত মূল্যায়ন কেবল পুরস্কারের সংখ্যায় নয়। তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন সম্ভবত একটি জনপদের স্মৃতি, মানুষ ও সংস্কৃতিকে লিখিত আকারে সংরক্ষণের দীর্ঘ প্রয়াস।

‎মাছরাঙা টেলিভিশনের ‘রাঙা সকাল’ অনুষ্ঠানে তাঁর অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন স্যাটেলাইট ও অনলাইন টেলিভিশনে তাঁকে নিয়ে ডকুমেন্টারি প্রচারিত হওয়া তাঁর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের গণমাধ্যমভিত্তিক স্বীকৃতিরও পরিচয় বহন করে।

‎এগুলো তাঁর কাজকে বৃহত্তর পাঠক ও দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।

‎আবু সালেহ আহমদের সাহিত্যজীবনের দিকে সামগ্রিকভাবে তাকালে একটি বিষয় বিশেষভাবে চোখে পড়ে—তিনি নিজের চারপাশের মানুষ ও সমাজকে উপেক্ষা করে দূরের বিষয় অনুসন্ধান করেননি। বরং নিজের মাটি থেকেই তিনি তাঁর সৃষ্টির উপাদান সংগ্রহ করেছেন।
‎এই প্রবণতাই তাঁকে একজন শেকড়সন্ধানী লেখক হিসেবে স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে।

‎তাঁর লেখায় বানিয়াচং এসেছে ইতিহাস হয়ে, এসেছে কিংবদন্তি হয়ে, এসেছে কবিতার ছন্দে, এসেছে মানুষের জীবনীতে, এসেছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিতে, এসেছে লোকসংস্কৃতির উপাদানে। অর্থাৎ একটি জনপদ তাঁর লেখায় কেবল স্থাননাম নয়—একটি জীবন্ত সাংস্কৃতিক সত্তা।

‎এই দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই তাঁর সাহিত্যকর্মকে শুধু ব্যক্তিগত সৃষ্টিশীলতার ফল হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়; এগুলোকে একটি জনপদের স্মৃতি সংরক্ষণের ধারাবাহিক প্রয়াস হিসেবেও মূল্যায়ন করা যায়।

‎আবু সালেহ আহমদ ইতোমধ্যে প্রায় ২০টি গ্রন্থের ভূমিকা লিখেছেন এবং বহু গ্রন্থে তাঁর পরিচিতি স্থান পেয়েছে। তাঁর দীর্ঘ সাহিত্যজীবনের সবচেয়ে মূল্যবান দিক হলো—তিনি একই সঙ্গে লেখক, সম্পাদক, গবেষক, সংগ্রাহক, সংগঠক ও পাঠক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন।

‎একজন লেখকের কলম যখন নিজের অনুভূতির কথা বলে, তখন তা সাহিত্য; কিন্তু সেই কলম যখন একটি জনপদের বিস্মৃত মানুষ, হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি, অনুলিখিত ইতিহাস ও প্রজন্মের স্মৃতিকে ধরে রাখে, তখন তার তাৎপর্য ব্যক্তিগত সাহিত্যসীমা অতিক্রম করে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দলিলে পরিণত হয়।

‎‎আবু সালেহ আহমদের সাহিত্যকর্মের গুরুত্ব এখানেই। তিনি হয়তো প্রচারের উচ্চকণ্ঠ লেখক নন; তিনি নীরবে লিখেছেন, সংগ্রহ করেছেন, সম্পাদনা করেছেন, সংগঠন করেছেন, মানুষকে মূল্যায়ন করেছেন এবং নতুন লেখকদের পথ দেখিয়েছেন। তাঁর সাহিত্য সাধনার এই নেপথ্য প্রবণতাই তাঁকে দিয়েছে এক স্বতন্ত্র পরিচয়—নিভৃতচারী অথচ কর্মমুখর, নিরহংকার অথচ অনুসন্ধিৎসু, শেকড়নিষ্ঠ অথচ বিস্তৃত চিন্তার একজন সাহিত্যসাধক।

‎সাহিত্য-সংস্কৃতির অঙ্গনে তাঁর দীর্ঘ পথচলা তাই কেবল একজন লেখকের ব্যক্তিগত অর্জনের ইতিহাস নয়; এটি একটি জনপদের ইতিহাস, মানুষের স্মৃতি, লোকঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে ধরে রাখারও এক নিরলস প্রয়াস।

‎বর্তমানে তিনি সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকায় বসবাস করছেন। দুই মেয়ে—সুমাইয়া নুসরাত তাম্মি ও ফাতেহা নুসরাত অমি এবং এক ছেলে—সাদমান সাকিব রাফিকে নিয়ে তাঁর পারিবারিক জীবন।

‎আবু সালেহ আহমদের কলমের সবচেয়ে বড় পরিচয় সম্ভবত এই—তিনি নিজেকে লেখেননি, তিনি লিখেছেন তাঁর মানুষকে; তিনি নিজের সময়কে শুধু অতিক্রম করেননি, বরং তার স্মৃতিকে ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন। আর সেই কারণেই তাঁর সাহিত্যযাত্রা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে একটি জনপদের সাংস্কৃতিক স্মৃতির মূল্যবান অনুসন্ধান হিসেবে বিবেচিত হওয়ার দাবি রাখে।

লেখক- সম্পাদক ও প্রকাশ, অনলাইন সিলেট।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎ছাতকে মোবাইল কোর্ট: চার প্রতিষ্ঠানকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা, পচা মাংস জব্দ

‎আবু সালেহ আহমদ : শেকড় সন্ধানী এক নিভৃতচারী সাহিত্যসাধক।

সময় ১০:৫৪:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

‎বাংলা সাহিত্যের বিস্তৃত অঙ্গনে এমন কিছু লেখক আছেন, যাঁদের সাহিত্যিক পরিচয়ের চেয়ে তাঁদের নিরলস সাধনা, শেকড়ের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং নেপথ্যে থেকে কাজ করে যাওয়ার মানসিকতা অধিক তাৎপর্যপূর্ণ। আবু সালেহ আহমদ তাঁদেরই একজন। তিনি প্রচারের আলোয় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেয়ে মানুষ, মাটি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধারণ করাকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁর সাহিত্যচর্চা, গবেষণা, লোকসংস্কৃতি সংগ্রহ, সম্পাদনা ও সাহিত্য-সংগঠনের কার্যক্রমের দিকে তাকালে তাঁকে যথার্থই একজন নিভৃতচারী, মননশীল ও শেকড়সন্ধানী সাহিত্যসাধক হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।

‎তাঁর সাহিত্যকর্মের সবচেয়ে উজ্জ্বল বৈশিষ্ট্য হলো—তিনি নিজের ভূগোলকে সাহিত্যের বিষয় করে তুলেছেন। বানিয়াচং তাঁর কাছে শুধু জন্মভূমি নয়; এটি তাঁর অনুসন্ধানের ক্ষেত্র, স্মৃতির ভাণ্ডার, ইতিহাসের উপাদান এবং সৃষ্টিশীলতার এক উর্বর ভূমি। একটি জনপদের মানুষ, কিংবদন্তি, লোকবিশ্বাস, ইতিহাস, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধ, কৃতী ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক জীবনকে তিনি নানা আঙ্গিকে গ্রন্থবদ্ধ করেছেন। ফলে তাঁর রচনায় বানিয়াচং একদিকে যেমন একটি নির্দিষ্ট জনপদ, অন্যদিকে তেমনি বৃহত্তর বাংলার গ্রামীণ সমাজ ও লোকজ জীবনের একটি প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

‎তাঁর বাংলা সাহিত্যে বানিয়াচঙ্গ গ্রন্থটিও এই শেকড়মুখী সাহিত্য-অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতার একটি সাম্প্রতিক দৃষ্টান্ত; গ্রন্থটি ২০২৫ সালে প্রকাশিত হয়েছে এবং সাহিত্য ও সাহিত্যিক বিষয়ক প্রবন্ধ হিসেবে তালিকাভুক্ত।

‎আবু সালেহ আহমদ ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার শেখের মহল্লা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম গোলাম মওলা এবং মাতা হাজেরা বেগম।

‎বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালেই তাঁর লেখালেখির হাতেখড়ি। শৈশবের সেই কৌতূহলী কলম পরবর্তী সময়ে পরিণত হয়েছে দীর্ঘ সাহিত্যযাত্রায়। আশির দশক থেকে অদ্যাবধি তিনি বিভিন্ন সাহিত্যপত্র প্রকাশ, সম্পাদনা, সাহিত্য-সংগঠন ও লেখক সৃষ্টির কাজে যুক্ত রয়েছেন।

‎একজন লেখকের সাহিত্যিক পরিণতি সাধারণত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যায় মাপা হয়; কিন্তু আবু সালেহ আহমদের ক্ষেত্রে তাঁর সাহিত্যজীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হলো—তিনি কতজনকে লেখার সুযোগ দিয়েছেন এবং কতটা সাহিত্যিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। এই দিক থেকে তাঁর সাহিত্য-সংগঠকের পরিচয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

‎আবু সালেহ আহমদের লেখালেখিতে আত্মপ্রকাশের আকাঙ্ক্ষার চেয়ে দায়বদ্ধতার সুরটি প্রবল। সমাজ, মানুষ, ইতিহাস ও ঐতিহ্য তাঁর রচনার প্রধান অনুষঙ্গ। তিনি যে মানুষগুলোর কথা লিখেছেন, তাঁদের অনেকেই হয়তো বৃহত্তর ইতিহাসের পাতায় স্থান পাননি; কিন্তু স্থানীয় সমাজ ও সংস্কৃতির ইতিহাসে তাঁদের অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সেই মানুষদের স্মৃতি সংরক্ষণ করে তিনি মূলত একটি বিস্মৃত সামাজিক ইতিহাসকে লিখিত রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

‎এখানেই তাঁর লেখার একটি বিশেষ মূল্য রয়েছে। ইতিহাস কেবল রাজা-বাদশাহ, যুদ্ধ, রাজনীতি কিংবা রাষ্ট্রীয় ঘটনাবলির ইতিহাস নয়; সাধারণ মানুষের জীবনও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আবু সালেহ আহমদ তাঁর লেখায় সেই সাধারণ মানুষ, গুণীজন ও স্থানীয় ব্যক্তিত্বদের সামনে এনে ইতিহাসের গণমুখী পাঠ নির্মাণের চেষ্টা করেছেন।

‎বানিয়াচঙ্গের শতজন, ঐতিহাসিক বানিয়াচঙ্গ : ইতিহাস ও কিংবদন্তি, বানিয়াচঙ্গের নন্দিত জীবন, কাব্যে বানিয়াচঙ্গের ইতিহাস, বানিয়াচঙ্গের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা, বানিয়াচঙ্গের শতজন-২ প্রভৃতি গ্রন্থ তাঁর শেকড়সন্ধানী মানসের উজ্জ্বল পরিচায়ক।

‎বিশেষভাবে বানিয়াচঙ্গের শতজন-২ গ্রন্থটি ২০০২ সালে প্রকাশিত বানিয়াচঙ্গের শতজন-এর ধারাবাহিকতায় প্রকাশিত হয়েছে; এটি ২০২৩ সালে প্রকাশিত ১১২ পৃষ্ঠার একটি জীবনীসংকলন।

‎একটি নির্দিষ্ট জনপদের মানুষ ও ইতিহাসকে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করা নিছক আঞ্চলিক আবেগের প্রকাশ নয়; এর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় ইতিহাসকে বৃহত্তর ইতিহাসের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রয়াস। এ ধরনের কাজ ভবিষ্যৎ গবেষকদের জন্যও উপকরণ তৈরি করে। এই কারণে আবু সালেহ আহমদের বানিয়াচং-কেন্দ্রিক রচনাকে শুধু আঞ্চলিক সাহিত্যচর্চা বললে এর ব্যাপ্তি সম্পূর্ণ ধরা পড়ে না; এটি একই সঙ্গে স্মৃতি সংরক্ষণ, স্থানীয় ইতিহাসচর্চা এবং সাংস্কৃতিক দলিল নির্মাণের প্রয়াস।

‎তাঁর বানিয়াচঙ্গের শতজন-২ গ্রন্থকে প্রকাশক-তথ্যেও বানিয়াচংয়ের গুণীজনদের ধারাবাহিক জীবনীসংকলন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

‎লোকসংস্কৃতির প্রতি আবু সালেহ আহমদের আগ্রহ তাঁর সাহিত্যিক পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। বাংলা একাডেমির লোকসংস্কৃতি সংগ্রহ কর্মসূচিতে হবিগঞ্জ জেলার লোকসংস্কৃতি সংগ্রাহক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর গবেষণামনস্কতাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

‎লোকসংস্কৃতি এমন এক সম্পদ, যার বড় অংশ লিখিত দলিলে সংরক্ষিত থাকে না। মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত কাহিনি, লোকবিশ্বাস, প্রথা, আচার, সামাজিক রীতি, গ্রামীণ জীবনযাপন ও সাংস্কৃতিক স্মৃতি প্রজন্মান্তরে প্রবাহিত হয়। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে এসবের অনেক কিছুই হারিয়ে যায়। ‎এই জায়গাতেই আবু সালেহ আহমদের কাজের তাৎপর্য বিশেষভাবে অনুধাবনযোগ্য।

‎তিনি লোকজ উপাদানকে কেবল অতীতের স্মৃতি হিসেবে দেখেননি; বরং একটি সমাজের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের দলিল হিসেবে বিবেচনা করেছেন। শেকড় থেকে উপাদান সংগ্রহ করে তা বর্তমান প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার মাধ্যমে তিনি অতীত ও বর্তমানের মধ্যে একটি সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন নির্মাণের প্রয়াস চালিয়েছেন।

‎আবু সালেহ আহমদের সাহিত্যজীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তাঁর সম্পাদনা ও সাহিত্যপত্র প্রকাশ। ‘মনন’, ‘স্মরণিকা’, ‘প্রত্যয়’, ‘প্রত্যাশা’, ‘প্রতিশ্রুতি’ ও ‘জনপ্রবাদ’ প্রভৃতি প্রকাশনার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততা কেবল সম্পাদকীয় কর্মকাণ্ড নয়; এর মধ্যে ছিল একটি সাহিত্যিক পরিবেশ গড়ে তোলার সচেতন প্রয়াস।

‎একজন লেখক নিজের জন্য লিখতে পারেন; একজন সম্পাদক অন্যের লেখাকে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেন; কিন্তু একজন সাহিত্য-সংগঠক অন্যদের লেখক হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করেন। আবু সালেহ আহমদের ভূমিকার বিশেষত্ব এখানেই। আশির দশক থেকে তিনি যে সাহিত্যচর্চার পরিসর তৈরি করার চেষ্টা করেছেন, তা তাঁকে কেবল লেখক নয়, লেখক-সৃষ্টির নেপথ্য কারিগর হিসেবেও মূল্যায়নের সুযোগ দেয়।

‎১৯৯২ সালে প্রকাশিত মোহের নিস্তব্ধ মোহনা তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এরপর তাঁর লেখার বিষয়বস্তু ক্রমশ বিস্তৃত হয়েছে। কবিতা থেকে ইতিহাস, লোকসাহিত্য থেকে জীবনী, মুক্তিযুদ্ধ থেকে কুসংস্কার, ছোটগল্প থেকে আঞ্চলিক ঐতিহ্য—বিভিন্ন বিষয়ে তিনি গ্রন্থ রচনা করেছেন।

‎তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে—মোহের নিস্তব্ধ মোহনা, বানিয়াচঙ্গের শতজন, আলাল দুলালের কিচ্ছা ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা, ভবানীর প্রেম কাহিনি, আয়েশের গল্প, দেওয়ান মাহবুবর রাজা (যৌথ), ঐতিহাসিক বানিয়াচঙ্গ : ইতিহাস ও কিংবদন্তি, ভালোবাসার বহিরাবরণ, বানিয়াচঙ্গের নন্দিত জীবন, বানিয়াচঙ্গের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা, কাব্যে বানিয়াচঙ্গের ইতিহাস, শতকবি ও কবিতা, আবুসাঈদ মোহাম্মদ আঃ হাই (রহ.) : জীবন ও কর্ম, কুসংস্কারের শত গল্প, দেওয়ান মাসুদুর রহমান চৌধুরী : সাহিত্য ও মানস, বি. রায় চৌধুরীর জীবন ও কর্ম, বানিয়াচঙ্গের শতজন-২, শহীদ কিশোর মুক্তিযোদ্ধার সন্ধানে প্রভৃতি।

‎এ ছাড়া বাংলা সাহিত্যে বানিয়াচঙ্গ নামে তাঁর একটি গ্রন্থ ২০২৫ সালে প্রকাশিত হয়েছে।

‎এই বিষয়বৈচিত্র্য তাঁর সাহিত্যিক কৌতূহলের পরিধি নির্দেশ করে। তিনি একটি নির্দিষ্ট সাহিত্যধারায় নিজেকে আবদ্ধ রাখেননি; বরং যে বিষয় তাঁর কাছে সংরক্ষণযোগ্য, অনুসন্ধানযোগ্য কিংবা মূল্যায়নযোগ্য বলে মনে হয়েছে, সেখানেই কলম ধরেছেন।

‎আবু সালেহ আহমদ তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে নিয়ে পৃথক গ্রন্থ রচনা করেছেন—আবুসাঈদ মোহাম্মদ আঃ হাই (রহ.) : জীবন ও কর্ম, দেওয়ান মাসুদুর রহমান চৌধুরী : সাহিত্য ও মানস এবং বি. রায় চৌধুরীর জীবন ও কর্ম।

‎জীবনী লেখা শুধু একজন ব্যক্তির জন্ম-মৃত্যুর তথ্য লিপিবদ্ধ করা নয়; একজন মানুষের কর্ম, চিন্তা, সময় ও সমাজকে পাঠকের সামনে পুনর্নির্মাণ করা। এই অর্থে তাঁর জীবনীগ্রন্থগুলো ব্যক্তির পাশাপাশি একটি সময় ও সমাজেরও দলিল হয়ে ওঠার সম্ভাবনা বহন করে

‎তাঁর এই প্রবণতার মধ্যে রয়েছে কৃতী মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা এবং তাঁদের অবদানকে বিস্মৃতির হাত থেকে রক্ষা করার সাংস্কৃতিক দায়বোধ।

‎মুক্তিযুদ্ধ তাঁর লেখার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বানিয়াচঙ্গের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ কিশোর মুক্তিযোদ্ধার সন্ধানে—এই গ্রন্থগুলোর বিষয়বস্তুতেই তাঁর অনুসন্ধানের লক্ষ্য স্পষ্ট।

‎বিশেষত স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংগ্রহের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় ইতিহাসের বৃহৎ পরিসরের পাশাপাশি প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, মুক্তিযোদ্ধার ভূমিকা এবং শহীদদের আত্মত্যাগ সংরক্ষিত হওয়া প্রয়োজন। আবু সালেহ আহমদের এই প্রয়াসকে তাই স্থানীয় স্মৃতিকে জাতীয় ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়াস হিসেবে দেখা যায়।

‎শিশুদের জন্য তাঁর রচনাও তাঁর সাহিত্যিক সত্তার একটি ভিন্ন দিক উন্মোচন করে। আয়েশের অ, আ, ই, আয়েশের সাধারণ জ্ঞান, রাফি স্পেলিং, আয়েশের ধারাপাত ও আয়েশের অঙ্ক প্রভৃতি গ্রন্থে শিশুদের উপযোগী শিক্ষামূলক বিষয়কে সহজভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা রয়েছে।

‎একজন লেখক যখন শিশুর জন্য লেখেন, তখন তিনি মূলত ভবিষ্যৎ পাঠক তৈরি করেন। তাই তাঁর শিশুতোষ সাহিত্যকর্মকে শুধু পার্শ্ববর্তী কাজ হিসেবে না দেখে শিশুমন গঠন ও পাঠাভ্যাস সৃষ্টির একটি প্রয়াস হিসেবেও মূল্যায়ন করা যায়।

‎আবু সালেহ আহমদের ব্যক্তিগত পাঠাগারে দুই হাজারের অধিক গ্রন্থ রয়েছে বলে জানা যায়। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক ইতিহাস, সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক গ্রন্থের সংগ্রহ তাঁর পাঠাভ্যাস ও গবেষণামুখী মানসিকতার পরিচয় বহন করে।

‎একজন লেখকের পাঠাগার অনেক সময় তাঁর অপ্রকাশিত আত্মজীবনী। কোন বই তিনি সংগ্রহ করেন, কোন বিষয় পড়েন, কোন ইতিহাসের প্রতি আকৃষ্ট হন—এসবের মধ্য দিয়েই তাঁর চিন্তার পরিধি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। সেই দৃষ্টিতে তাঁর পারিবারিক পাঠাগারটি শুধু বই রাখার স্থান নয়; এটি তাঁর দীর্ঘ সাহিত্য-অনুসন্ধানের একটি নীরব সহযাত্রী।

‎আবু সালেহ আহমদ শুধু লেখক নন, একজন সক্রিয় সাহিত্য-সংগঠকও। নবারুণ সাহিত্য পরিষদ, বানিয়াচং সাহিত্য পরিষদ, স্মরণিকা স্মৃতি চক্র এবং ভূপর্যটক রামনাথ বিশ্বাস স্মৃতি সংসদের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।

‎বর্তমানে ইউএসএ বাংলা আন্তর্জাতিক সাহিত্য ফোরাম এবং হাছন রাজা লোকসাহিত্য-সংস্কৃতি কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

‎তাঁর সংগঠকসত্তার বিশেষত্ব হলো—সাহিত্যকে তিনি নিছক ব্যক্তিগত সাধনা হিসেবে দেখেননি। সাহিত্যকে তিনি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পৃক্ততার ক্ষেত্র হিসেবেও বিবেচনা করেছেন। এ কারণেই তাঁর কর্মকাণ্ডের বিস্তার লেখার টেবিল থেকে সংগঠনের মাঠ পর্যন্ত প্রসারিত।

‎সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিশুশিক্ষা ও সংগঠক হিসেবে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মাননা ও পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৮৫ সালে হবিগঞ্জ শিশু একাডেমির মৌসুমি প্রতিযোগিতায় দেওয়ালিকা বিষয়ে প্রথম পুরস্কার লাভ তাঁর প্রারম্ভিক সৃজনশীলতার একটি স্বীকৃতি। পরবর্তী সময়ে বানিয়াচং কমিউনিটি স্কুলের সম্মাননা, শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক পদক, আলহেরা একাডেমির সম্মাননা, রাগিব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের একুশে সম্মাননা ও পুরস্কার এবং বানিয়াচং রিপোর্টার্স ইউনিটির সম্মাননাসহ বিভিন্ন স্বীকৃতি তাঁর দীর্ঘ কর্মযাত্রার সামাজিক মূল্যায়নের পরিচায়ক।

‎তবে তাঁর সাহিত্যজীবনের প্রকৃত মূল্যায়ন কেবল পুরস্কারের সংখ্যায় নয়। তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন সম্ভবত একটি জনপদের স্মৃতি, মানুষ ও সংস্কৃতিকে লিখিত আকারে সংরক্ষণের দীর্ঘ প্রয়াস।

‎মাছরাঙা টেলিভিশনের ‘রাঙা সকাল’ অনুষ্ঠানে তাঁর অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন স্যাটেলাইট ও অনলাইন টেলিভিশনে তাঁকে নিয়ে ডকুমেন্টারি প্রচারিত হওয়া তাঁর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের গণমাধ্যমভিত্তিক স্বীকৃতিরও পরিচয় বহন করে।

‎এগুলো তাঁর কাজকে বৃহত্তর পাঠক ও দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।

‎আবু সালেহ আহমদের সাহিত্যজীবনের দিকে সামগ্রিকভাবে তাকালে একটি বিষয় বিশেষভাবে চোখে পড়ে—তিনি নিজের চারপাশের মানুষ ও সমাজকে উপেক্ষা করে দূরের বিষয় অনুসন্ধান করেননি। বরং নিজের মাটি থেকেই তিনি তাঁর সৃষ্টির উপাদান সংগ্রহ করেছেন।
‎এই প্রবণতাই তাঁকে একজন শেকড়সন্ধানী লেখক হিসেবে স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে।

‎তাঁর লেখায় বানিয়াচং এসেছে ইতিহাস হয়ে, এসেছে কিংবদন্তি হয়ে, এসেছে কবিতার ছন্দে, এসেছে মানুষের জীবনীতে, এসেছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিতে, এসেছে লোকসংস্কৃতির উপাদানে। অর্থাৎ একটি জনপদ তাঁর লেখায় কেবল স্থাননাম নয়—একটি জীবন্ত সাংস্কৃতিক সত্তা।

‎এই দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই তাঁর সাহিত্যকর্মকে শুধু ব্যক্তিগত সৃষ্টিশীলতার ফল হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়; এগুলোকে একটি জনপদের স্মৃতি সংরক্ষণের ধারাবাহিক প্রয়াস হিসেবেও মূল্যায়ন করা যায়।

‎আবু সালেহ আহমদ ইতোমধ্যে প্রায় ২০টি গ্রন্থের ভূমিকা লিখেছেন এবং বহু গ্রন্থে তাঁর পরিচিতি স্থান পেয়েছে। তাঁর দীর্ঘ সাহিত্যজীবনের সবচেয়ে মূল্যবান দিক হলো—তিনি একই সঙ্গে লেখক, সম্পাদক, গবেষক, সংগ্রাহক, সংগঠক ও পাঠক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন।

‎একজন লেখকের কলম যখন নিজের অনুভূতির কথা বলে, তখন তা সাহিত্য; কিন্তু সেই কলম যখন একটি জনপদের বিস্মৃত মানুষ, হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি, অনুলিখিত ইতিহাস ও প্রজন্মের স্মৃতিকে ধরে রাখে, তখন তার তাৎপর্য ব্যক্তিগত সাহিত্যসীমা অতিক্রম করে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দলিলে পরিণত হয়।

‎‎আবু সালেহ আহমদের সাহিত্যকর্মের গুরুত্ব এখানেই। তিনি হয়তো প্রচারের উচ্চকণ্ঠ লেখক নন; তিনি নীরবে লিখেছেন, সংগ্রহ করেছেন, সম্পাদনা করেছেন, সংগঠন করেছেন, মানুষকে মূল্যায়ন করেছেন এবং নতুন লেখকদের পথ দেখিয়েছেন। তাঁর সাহিত্য সাধনার এই নেপথ্য প্রবণতাই তাঁকে দিয়েছে এক স্বতন্ত্র পরিচয়—নিভৃতচারী অথচ কর্মমুখর, নিরহংকার অথচ অনুসন্ধিৎসু, শেকড়নিষ্ঠ অথচ বিস্তৃত চিন্তার একজন সাহিত্যসাধক।

‎সাহিত্য-সংস্কৃতির অঙ্গনে তাঁর দীর্ঘ পথচলা তাই কেবল একজন লেখকের ব্যক্তিগত অর্জনের ইতিহাস নয়; এটি একটি জনপদের ইতিহাস, মানুষের স্মৃতি, লোকঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে ধরে রাখারও এক নিরলস প্রয়াস।

‎বর্তমানে তিনি সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকায় বসবাস করছেন। দুই মেয়ে—সুমাইয়া নুসরাত তাম্মি ও ফাতেহা নুসরাত অমি এবং এক ছেলে—সাদমান সাকিব রাফিকে নিয়ে তাঁর পারিবারিক জীবন।

‎আবু সালেহ আহমদের কলমের সবচেয়ে বড় পরিচয় সম্ভবত এই—তিনি নিজেকে লেখেননি, তিনি লিখেছেন তাঁর মানুষকে; তিনি নিজের সময়কে শুধু অতিক্রম করেননি, বরং তার স্মৃতিকে ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন। আর সেই কারণেই তাঁর সাহিত্যযাত্রা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে একটি জনপদের সাংস্কৃতিক স্মৃতির মূল্যবান অনুসন্ধান হিসেবে বিবেচিত হওয়ার দাবি রাখে।

লেখক- সম্পাদক ও প্রকাশ, অনলাইন সিলেট।