
অল্পমূল্যে সৌদী আরবে ড্রাইভিং ভিসায় লাখ টাকা বেতনের লোভনীয় কথা বলে এয়ারপোর্ট ও সৌদীতে নিয়ে জিম্মি, নির্যাতন করে টাকা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে দুই সহোদরের বিরুদ্ধে। দুই সহোদর আছকির আলী (৫৫) ও আজবর আলী (৪৬) সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর নোয়াগাও গ্রামের মৃত ইদ্রিছ আলীর ছেলে। তাদের ফাঁদে পড়ে স্বর্বশান্ত সিলেট ও সুনামগঞ্জের তিন উপজেলার ২১ পরিবার।
শনিবার (২০ জুন) বিকেল ৩টায় স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ তুলেন তারা। ভুক্তভোগী বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের আজিম খান (২৭) জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে জানতে পেরে দেশে থাকা আজবর আলীর পরিবারের সাথে কথা বলে পাসপোর্ট ও চার কিস্তিতে ৫লাখ টাকা দেন। আছকির আলী থাকেন সৌদীতে আর ভাই আজবর আলী থাকেন দেশে। তারা ড্রাইভিং ভিসার দেওয়ার পরিবর্তে তিন মাসের একটি ভিসার পিডিএফ কপি মোবাইলে দেন।
ভিসা মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই দিন আগে ঢাকায় নিয়ে টাকা, রিয়াল, ও ব্যাগ জিম্মি করে রেখে তাকে মানসিক নির্যাতন করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। পরে তাদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা ভয়ভীতি দেখান। এই অবস্থার কথা ফেসবুকে লিখলে তার সাথে আরও ২০জন ভূক্তভোগী পরিবার মিলিত হয়ে গত ৮মার্চ দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে বিচার দিলে তিনি আইনের আশ্রয় নিতে বলেন। পরে গত ১৪ জুন সিলেট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্যাট ২য় আদালতে বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইনে দুই সহোদরসহ তাদের পরিবারের ৫জনকে আসামী করে একটি মামলা করেন। (মামলা নং-২৪৯/২০২৬)।
এছাড়াও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার লহরী গ্রামের আইন উদ্দিন বলেন, তার ছেলে কাওছারকে সৌদীতে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করছে, বেতন দেয়না, কাজ দেয়না এমনকি ঠিকমত খাওয়া-ধাওয়া দেয় না।
একই ভাবে সিলেটের ওসমানী নগর উপজেলার খয়ের পুর গ্রামের ভুক্তভোগী সবুজমিয়া (২৫), দশঘর নোয়াগাও গ্রামের জিল্লুর রহমান (৩৭), ওসমানী নগর উপজেলার তাজপুর গ্রামের শাহান আলী (২৪), খয়ের পুর গ্রামের সেবুল আহমদ (৩০)। তারা আরও জানান, এইভাবে আছকির-আজবর গংরা বিদেশে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে অসহায় মানুষের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেককে সৌদীতে নিয়ে নির্যাতন, আবার অনেককে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে টাকা নেয় তারা।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সৌদী প্রবাসী আছকির আলী বলেন, ‘আজিম খান মেডিকেল করতে ঢাকায় যায়নি, তাকে কিভাবে নির্যাতন করা হলো, আর কাওছার এখনো কাজ করছে, বাড়িতে টাকা পাঠাচ্ছে। তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে কিছু মানুষ ষড়যন্ত্র করে আসছে। মিথ্যা অভিযোগ তুলে মামলা করে এখন প্রচার করছে। আমি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানবো।
এ বিষয়ে দশঘর ইউপি চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান বলেন, ‘২১জন ভুক্তভোগী ইউনিয়ন পরিষদে একটি অভিযোগ করেছিলেন। বাদী-বিবাদীকে ডাকা হয়েছিল, তিনটি নোটিশ দেয়া হয়েছে কিন্তু, বিবাদী কেউ আসেননি। পরে ভুক্তভোগীদের আইনের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দিয়েছি।
বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি: 


















