
সিলেটের গোলাপগঞ্জে ট্রাকভর্তি বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা ও কসমেটিক্সসহ দুই চোরাকারবারিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৯। জব্দকৃত এই মালামালের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৩৮ লক্ষ টাকা।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে গোলাপগঞ্জ থানাধীন শাহপরান সেতু টোল প্লাজা সংলগ্ন বাইপাস এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুর থানার নৌকালী গ্রামের জাহাঙ্গীর মির্জার ছেলে মোঃ সেলিম হোসেন (৩৭), একই উপজেলার চয়ড়া গ্রামের মোঃ আফাল প্রামানিকের ছেলে মোঃ নাসিম আহম্মেদ মনির (৩৮)।
র্যাব-৯ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে জাফলং সীমান্ত থেকে একটি ট্রাকে করে চোরাচালানের পণ্য সিলেটের দিকে আসছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের একটি আভিযানিক দল গতকাল বিকেল ৪:৫৫ মিনিটের দিকে শাহপরান সেতু টোল প্লাজা এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করে। এসময় একটি ট্রাককে থামার সংকেত দিলে ট্রাক থেকে নেমে দুই ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে র্যাব সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে আটক করেন।
পরবর্তীতে ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে ১৫৯টি বস্তায় রক্ষিত ৪,৭৭০ কেজি ভারতীয় জিরা উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কসমেটিক্স ও কনফেকশনারি আইটেম জব্দ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে সানসিল্ক শ্যাম্পু, হারমনি সাবান, কিটক্যাট চকলেট, লাক্স সাবান, জান্ডু বাম, মুভ ক্রিম এবং ওয়াইল্ড স্টোন বডি স্প্রেসহ আরও নানা সামগ্রী। ঘটনার সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকটিও জব্দ করে র্যাব।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা পরস্পর যোগসাজশে চোরাচালানের মাধ্যমে এসব পণ্য বাংলাদেশে এনে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজেদের কাছে রেখেছিল।
র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিঃ পুলিশ সুপার কে, এম, শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী মামলা দায়ের করে জব্দকৃত আলামতসহ তাদের গোলাপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদকের পাশাপাশি চোরাচালান বিরোধী এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
স্টাফ রিপোর্টার 

















