সিলেট ১০:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
News Title :
হবিগঞ্জে ভুল প্রশ্নে দাখিল পরীক্ষা, পরে ধরা পড়ল ১০০ খাতা জব্দ, দায়িত্ব হারালেন ৩ কর্মকর্তা ‎মাধবপুরে ডিবি পুলিশের অভিযানে ১২৯ কেজি গাঁজা উদ্ধার, নারী গ্রেপ্তার ‎শেরপুর সেতুতে ৩৬ ঘণ্টা যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ভোগান্তির আশঙ্কা ‎বিয়ানীবাজার থেকে ৩ এসএসসি-দাখিল পরীক্ষার্থী ছাত্রী উধাও টাঙ্গাইলে র‍্যাবের অভিযানে ৯৬৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার এতিমখানার নামে চাঁদাবাজি: বানিয়াচংয়ে জনতার হাতে ধরা ‘টিকটকার’ ভণ্ড প্রতারক! বানিয়াচংয়ে ভাতিজার হাতে চাচা খুন: মামলায় স্বচ্ছতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন ‎সিলেটে চাকরির প্রলোভনে ভারতে পাচারের চেষ্টা: দালাল চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার ‎জুড়ীতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচী বাস্তবায়নে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত জুড়ীতে হাম-রুবেলার টিকাদান শুরু

শেওলা স্থলবন্দরে ভারতীয় রুপিতে জ্বালানি কেনার চেষ্টা: জব্দ ভারতীয় ট্রাক‎




‎সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা স্থলবন্দরে ভারতীয় মুদ্রা রুপি দিয়ে জ্বালানি তেল কেনার চেষ্টার অভিযোগে একটি ভারতীয় পাথরবাহী ট্রাক জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
‎ঘটনাটি সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি তেল পাচার ও অবৈধ মুদ্রা লেনদেনের সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

‎বিজিবি সূত্রে জানা যায়, আটক ট্রাকচালকের নাম নিখিল দাস (৪৫)। তিনি ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জ জেলার কালাইন থানার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম মৃত জলধার দাস।

‎বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন ৫২ বিজিবির অধীনস্থ শেওলা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট (আইসিপি) দিয়ে নিখিল দাসের পাথরবাহী ট্রাকটি ভারত থেকে বাংলাদেশে পাথর নিয়ে আসে। পরে পাথর আনলোড করার পর গত ৭ মার্চ সন্ধ্যায় ট্রাকটি ভারতে ফেরার পথে জ্বালানি সংকটে পড়ে।
‎এ সময় চালক নিখিল দাস স্থানীয় একটি দোকান (নাদিয়া স্টোর)’ থেকে ভারতীয় মুদ্রা রুপি দিয়ে ডিজেল কেনার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি বিজিবির নজরে এলে অভিযান চালিয়ে ট্রাকটি জব্দ করা হয়। পরে চালককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলেও ট্রাকটি এখনো বিজিবির জিম্মায় রয়েছে।

‎তবে স্থানীয় সূত্র বলছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় ট্রাকচালকদের মাধ্যমে বাংলাদেশি জ্বালানি তেল পাচারের অভিযোগ রয়েছে। তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি সংগ্রহ করে তা ভারতে নিয়ে যাওয়ার একটি অনিয়ন্ত্রিত প্রবণতা মাঝে মধ্যে সামনে আসে।

‎বিজিবি বলছে, এই ধরনের অবৈধ লেনদেন ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সরাইল রিজিয়নের অধীনস্থ শ্রীমঙ্গল সেক্টরের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সীমান্ত এলাকায় তেল পাচার প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।

‎৫২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান বলেন, সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি তেলসহ যেকোনো ধরনের অবৈধ লেনদেন ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুই দেশের প্রচলিত নিয়মনীতি অনুসরণ নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

‎তবে সীমান্ত এলাকার সচেতন মহলের প্রশ্ন—শেওলা স্থলবন্দর ঘিরে মাঝে মধ্যেই জ্বালানি ও মুদ্রা লেনদেনের অভিযোগ উঠলেও এসব ঘটনার নেপথ্যে থাকা সম্ভাব্য দালালচক্র বা মধ্যস্বত্বভোগীদের বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জে ভুল প্রশ্নে দাখিল পরীক্ষা, পরে ধরা পড়ল ১০০ খাতা জব্দ, দায়িত্ব হারালেন ৩ কর্মকর্তা

শেওলা স্থলবন্দরে ভারতীয় রুপিতে জ্বালানি কেনার চেষ্টা: জব্দ ভারতীয় ট্রাক‎

সময় ০৯:১৬:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬




‎সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা স্থলবন্দরে ভারতীয় মুদ্রা রুপি দিয়ে জ্বালানি তেল কেনার চেষ্টার অভিযোগে একটি ভারতীয় পাথরবাহী ট্রাক জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
‎ঘটনাটি সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি তেল পাচার ও অবৈধ মুদ্রা লেনদেনের সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

‎বিজিবি সূত্রে জানা যায়, আটক ট্রাকচালকের নাম নিখিল দাস (৪৫)। তিনি ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জ জেলার কালাইন থানার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম মৃত জলধার দাস।

‎বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন ৫২ বিজিবির অধীনস্থ শেওলা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট (আইসিপি) দিয়ে নিখিল দাসের পাথরবাহী ট্রাকটি ভারত থেকে বাংলাদেশে পাথর নিয়ে আসে। পরে পাথর আনলোড করার পর গত ৭ মার্চ সন্ধ্যায় ট্রাকটি ভারতে ফেরার পথে জ্বালানি সংকটে পড়ে।
‎এ সময় চালক নিখিল দাস স্থানীয় একটি দোকান (নাদিয়া স্টোর)’ থেকে ভারতীয় মুদ্রা রুপি দিয়ে ডিজেল কেনার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি বিজিবির নজরে এলে অভিযান চালিয়ে ট্রাকটি জব্দ করা হয়। পরে চালককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলেও ট্রাকটি এখনো বিজিবির জিম্মায় রয়েছে।

‎তবে স্থানীয় সূত্র বলছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় ট্রাকচালকদের মাধ্যমে বাংলাদেশি জ্বালানি তেল পাচারের অভিযোগ রয়েছে। তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি সংগ্রহ করে তা ভারতে নিয়ে যাওয়ার একটি অনিয়ন্ত্রিত প্রবণতা মাঝে মধ্যে সামনে আসে।

‎বিজিবি বলছে, এই ধরনের অবৈধ লেনদেন ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সরাইল রিজিয়নের অধীনস্থ শ্রীমঙ্গল সেক্টরের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সীমান্ত এলাকায় তেল পাচার প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।

‎৫২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান বলেন, সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি তেলসহ যেকোনো ধরনের অবৈধ লেনদেন ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুই দেশের প্রচলিত নিয়মনীতি অনুসরণ নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

‎তবে সীমান্ত এলাকার সচেতন মহলের প্রশ্ন—শেওলা স্থলবন্দর ঘিরে মাঝে মধ্যেই জ্বালানি ও মুদ্রা লেনদেনের অভিযোগ উঠলেও এসব ঘটনার নেপথ্যে থাকা সম্ভাব্য দালালচক্র বা মধ্যস্বত্বভোগীদের বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।