সিলেট ০৯:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬
News Title :
লাখাইয়ে পুলিশের অভিযানে ইয়াবা ও ৬ লাখ টাকা জব্দ, আটক ১ হবিগঞ্জে ‎ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক বিয়ানীবাজারে মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেফতার ‎নবীগঞ্জে গৃহবধূ ধর্ষণ মামলায় ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার ‎শান্তিগঞ্জে কাভার ভ্যানের চাপায় পিষ্ট হয়ে শিশু নিহত ‎দিরাই’র মিতা হত্যা মামলার নারী আসামী সিলেটে র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার ‎মাধবপুরে সালিশ বৈঠকে ভিডিও ধারণ নিয়ে  সংঘর্ষ, আহত ৩০ বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাবের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত ‎কালের কণ্ঠে যোগ দিলেন সাংবাদিক আবু বকর সিদ্দিক চৌধুরী রাষ্ট্রীয় সম্মানে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন

দেশে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট: বন্ধ অধিকাংশ পাম্প, সংকটে পরিবহন খাত

Compact LPG filling station for filling liquefied gas into the vehicle tanks

এলপিজি পাম্প, ছবি- প্রতীকী।




‎সারাদেশে এলপিজি (LPG) গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গ্যাস সরবরাহ না থাকায় দেশের ৭ শতাধিক পাম্পের অধিকাংশেরই কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকরা। বিশেষ করে সিলেট বিভাগসহ মহাসড়ক সংলগ্ন পাম্পগুলোতে গ্যাস না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক যানবাহনের মালিক ও চালকরা।


‎সিলেট থেকে মাধবপুর পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকার অসংখ্য এলপিজি পাম্পে এখন গ্যাসের হাহাকার। অনেক পাম্পে ‘গ্যাস নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাহুবলের আমিরচান এলপিজি পাম্পের মালিক তাজুল ইসলাম জানান, গত কয়েকদিন ধরে কোনো সাপ্লাই নেই। অগ্রিম টাকা দিয়েও ডিপো থেকে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।

‎মাধবপুরের একজন পাম্প মালিক আক্ষেপ করে তিনি বলেন, গ্যাস না থাকায় বিক্রি বন্ধ, অথচ কর্মচারীদের বেতন ও বিদ্যুৎ বিলসহ সব খরচ নিয়মিত গুনতে হচ্ছে। ডিপো থেকে সংকটের কথা জানানো হলেও কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তা কেউ বলতে পারছে না।


‎সিএনজি পাম্পে সরকারের সময়সীমা নির্ধারিত থাকায় গত কয়েক বছরে দেশে এলপিজি চালিত গাড়ির সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে। বিশেষ করে প্রাইভেট কার,নোহা ও হাইয়েস গাড়ির মালিকরা এলপিজি-কে নিরাপদ ও সহজলভ্য মনে করে এতে ঝুঁকেছেন। কিন্তু বর্তমানে পাম্পে গ্যাস না পেয়ে তারা দিশেহারা।

‎ভুক্তভোগী চালকরা জানান, ২৪ ঘণ্টা গ্যাস পাওয়ার সুবিধার কারণে তারা এলপিজি বেছে নিয়েছিলেন। এখন বাধ্য হয়ে অকটেন বা পেট্রোল দিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এতে যাতায়াত খরচ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মালিকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।


‎ডিপোগুলো থেকে এলপিজি সংকটের কথা জানানো হলেও এর সুনির্দিষ্ট কারণ বা সমাধানের সময়সীমা নিয়ে পাম্প মালিকদের স্পষ্ট কিছু জানানো হচ্ছে না। অগ্রিম পেমেন্ট করার পরও অপেক্ষা গ্যাস না পাওয়ায় ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী।


‎পরিবহন সংশ্লিষ্ট এবং পাম্প মালিকদের দাবি, দেশের একটি বিশাল অংশ এখন এলপিজি জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। এই সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়লে পুরো পরিবহন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই জনভোগান্তি লাঘবে এবং পাম্পগুলোকে সচল রাখতে দ্রুত গ্যাস সংকট সমাধানের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।



ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাইয়ে পুলিশের অভিযানে ইয়াবা ও ৬ লাখ টাকা জব্দ, আটক ১

দেশে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট: বন্ধ অধিকাংশ পাম্প, সংকটে পরিবহন খাত

সময় ১১:১৬:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
এলপিজি পাম্প, ছবি- প্রতীকী।




‎সারাদেশে এলপিজি (LPG) গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গ্যাস সরবরাহ না থাকায় দেশের ৭ শতাধিক পাম্পের অধিকাংশেরই কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকরা। বিশেষ করে সিলেট বিভাগসহ মহাসড়ক সংলগ্ন পাম্পগুলোতে গ্যাস না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক যানবাহনের মালিক ও চালকরা।


‎সিলেট থেকে মাধবপুর পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকার অসংখ্য এলপিজি পাম্পে এখন গ্যাসের হাহাকার। অনেক পাম্পে ‘গ্যাস নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাহুবলের আমিরচান এলপিজি পাম্পের মালিক তাজুল ইসলাম জানান, গত কয়েকদিন ধরে কোনো সাপ্লাই নেই। অগ্রিম টাকা দিয়েও ডিপো থেকে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।

‎মাধবপুরের একজন পাম্প মালিক আক্ষেপ করে তিনি বলেন, গ্যাস না থাকায় বিক্রি বন্ধ, অথচ কর্মচারীদের বেতন ও বিদ্যুৎ বিলসহ সব খরচ নিয়মিত গুনতে হচ্ছে। ডিপো থেকে সংকটের কথা জানানো হলেও কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তা কেউ বলতে পারছে না।


‎সিএনজি পাম্পে সরকারের সময়সীমা নির্ধারিত থাকায় গত কয়েক বছরে দেশে এলপিজি চালিত গাড়ির সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে। বিশেষ করে প্রাইভেট কার,নোহা ও হাইয়েস গাড়ির মালিকরা এলপিজি-কে নিরাপদ ও সহজলভ্য মনে করে এতে ঝুঁকেছেন। কিন্তু বর্তমানে পাম্পে গ্যাস না পেয়ে তারা দিশেহারা।

‎ভুক্তভোগী চালকরা জানান, ২৪ ঘণ্টা গ্যাস পাওয়ার সুবিধার কারণে তারা এলপিজি বেছে নিয়েছিলেন। এখন বাধ্য হয়ে অকটেন বা পেট্রোল দিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এতে যাতায়াত খরচ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মালিকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।


‎ডিপোগুলো থেকে এলপিজি সংকটের কথা জানানো হলেও এর সুনির্দিষ্ট কারণ বা সমাধানের সময়সীমা নিয়ে পাম্প মালিকদের স্পষ্ট কিছু জানানো হচ্ছে না। অগ্রিম পেমেন্ট করার পরও অপেক্ষা গ্যাস না পাওয়ায় ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী।


‎পরিবহন সংশ্লিষ্ট এবং পাম্প মালিকদের দাবি, দেশের একটি বিশাল অংশ এখন এলপিজি জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। এই সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়লে পুরো পরিবহন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই জনভোগান্তি লাঘবে এবং পাম্পগুলোকে সচল রাখতে দ্রুত গ্যাস সংকট সমাধানের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।