
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে বাড়ির সীমানা নির্ধারন নিয়ে দু’পক্ষের শালিস চলাকালে এক পক্ষের দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে আহত হামিদুর মিয়া (৪৫) ৯দিন সিলেট উসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ ৮ ডিসেম্বর (সোমবার)মৃত্যু বরণ করেন।
জানাযায়, আজমিরীগঞ্জ উপজেলার ৪নং শিবপাশা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বং দক্ষিণ হিড়াল বাড়ির খাল পাড়ের বাসিন্দা হামিদুর মিয়া ও তার চাচতো ভাই মুকবুল মিয়া গংদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ীর সীমানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। তাদের বিরোধটি নিষ্পত্তির স্বার্থে ইউপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গত ২৯শে নভেম্বর (শনিবার)দুপুরে উভয় পক্ষকে নিয়ে এক শালিস বৈঠকের আয়োজন করেন।
এই শালিস বৈঠক চলাকালে মো. হামিদুর মিয়া ও তার চাচাত ভাইদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়।
এক পর্যায়ে বিষয়টি দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা পর্যন্ত ঘটে যায়।
এই হাতাহাতির ঘটনার পর পরই মকবুল গংদের লোকজন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামিদুর মিয়া(৪৫)এর মাথায় আঘাত করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং গুরুতর আহত হয়। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখান থেকে কর্তব্যরত চিকিৎসক হামিদুর মিয়াকে সিলেট উসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
পরে তাকে সিলেট উসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান পরিবারের লোকজন।
সেখানে ৯দিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ৮ডিসেম্বর (সোমবার)হামিদ মিয়া (৪৫)মৃত্যু বরণ করেন।
এ ব্যাপারে শিবপাশা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার)ও বর্তমান ভারপাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ আসাদ মিয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গত ২৯শে নভেম্বর (শনিবার)দুপুরে বাড়ীর সীমানা নির্ধারণ করা নিয়ে এক শালিশ বৈঠক বসে।
উক্ত শালিস চলাকালীন অবস্থায় হামিদুর মিয়া ও তার চাচাত ভাই মুকবুল গংদের সাথে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে মকবুল গং উত্তেজিত হয়ে হামিদুর মিয়ার মাথায় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে সে গুরুতর আহত হয়।
পরে থাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট উসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করার বিষয়টি তিনি জানিয়েছেন।
আজ ৮ডিসেম্বর (সোমবার) ৯দিন চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে হামিদুর মিয়া মৃত্যুর খবরটি জানতে পেরেছেন বলেও জানান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
এ ব্যাপারে আজমিরীগঞ্জ থানার তদন্ত অফিসার ও ভারপাপ্ত অফিসার ইনচার্জ বিশ্বজিৎ পাল এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরই পুলিশ নিহতের বাড়ি গিয়েছিলো এবং এই বিষয় নিয়ে পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসীর সাথে আলাপ আলোচনা করে এসেছেন।
এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ হতে কোন অভিযোগ আসে নাই। অভিযোগ আসলেই দ্রুত আইনানুগ ব্যাবস্থা নিব।
এ আর রুমন, বানিয়াচং। 

















