
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে রাতের আঁধারে হাওরের মধ্যে হাত-পায়ের রগ কেটে মাহফুজ মিয়া নামের একজনকে হত্যার মূলহোতা মারুফ তালুকদার ঢাকা পালিয়ে যাওয়ার সময় ১২ঘন্টার মধ্যে ঐ চুনারুঘাট উপজেলার শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রীজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করেন র্যাব এর একটি আভিধানিক দল। পরে তারা ধৃত আসামী মারুফ তালুকদারকে নিয়ে এবিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন।
এদিকে এই হত্যাকান্ডের ২দিন অতিবাহিত হলেও নিহতের পরিবারের পক্ষে থানায় কোন মামলা দায়ের হয়নি বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ২৪ নভেম্বর (সোমবার) রাত সাড়ে ৭টার দিকে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান। তিনি জানান, ধৃত মারুফ তালুকদারকে আজ সোমবার সকালে উক্ত ঘটনাটি উল্লেখ করে এবং জামিন না দেওয়ার আবেদন জানিয়ে ৫৪ধারায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতির বিষয়টিও উল্লেখ করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য,কৃষি জমির বাঁধ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে কৃষক মাহফুজ মিয়া (৪০)নামের এই ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে দেশীয় দাড়ালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও হাত-পায়ের রগ কেটে শনিবার গভীর রাতে হাওরের মধ্যে একা পেয়ে হত্যা করা হয়।
এই হত্যাকান্ডের মূল হোতা মারুফ তালুকদার নামের এক যুবক ২৩ নভেম্বর(রবিবার) সন্ধ্যায় ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার সময় তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে র্যাব-৯ সিপিসি-৩ শায়েস্তাগঞ্জের একটি আভিযানিক দল গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃত মারুফ তালুকদার(৩০) পৈলারকান্দী গ্রামের সিরাজুল তালুকদারের পুত্র।
এদিকে এলাকাবাসী সূত্র জানান, উপজেলার ১৫নং পৈলারকান্দি ইউনিয়নের পৈলারকান্দি গ্রামের মৃত লিবাস মিয়ার ছেলে নিহত মাহফুজ মিয়া। পৈলারকান্দি গ্রামের হাওরের জমিতে তাদের বাঁধ দেওয়াকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের মারুফ মিয়া,ইয়াহিয়া মিয়া সহ কয়েকজনের বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরে গত ২২ নভেম্বর (শনিবার) দিবাগত গভীর রাতে বসন্তপুর পৈলারকান্দি সড়কের ড্রেইন কালভার্টের সামনে নিহত মাহফুজ মিয়াকে একা পেয়ে মারুফ, ইয়াহিয়া ও তাদের সহযোগীরা মিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে এবং হাত,পায়ের রগ কেটে আহত করে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করলে চিকিৎসক মাহফুজ মিয়া মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, এই ঘটনার পর থেকে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং এলাকায় যাতে কোন রকম আইনশৃংখলার অবনতি না ঘটে সেই লক্ষ্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে থানায় কোন অভিযোগ দায়ের হয়নি নিহতের পক্ষ হতে।
এ ব্যাপারে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(বানিয়াচং সার্কেল)প্রবাস কুমার সিংহ বলেন,কৃষিজমির বাঁধ দেওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
র্যাব-৯সিপিসি-৩ শায়েস্তাগঞ্জ কম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ আলম জানান, হত্যাকান্ডের সংবাদ পেয়ে র্যাব-৯ অভিযুক্ত ব্যক্তিদেরকে গ্রেফতারের জন্য তৎপরতা শুরু করেন এবং ২৪ ঘন্টার মধ্যে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার এর মাধ্যমে মূল হোতা মাহরুফ তালুকদার নামের একজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন তারা।
এই ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য অভিযুক্তদেরকে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ আর রুমন বানিয়াচং। 












