
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে রাতের আঁধারে হাওরের মধ্যে নৃশংসভাবে মাহফুজ মিয়া (৪০) নামের এক কৃষককে হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যার মূল হোতা মারুফ তালুকদারকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। কৃষি জমির বাঁধ দেওয়া নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানা গেছে।
২৩ নভেম্বর (রবিবার) সন্ধ্যায় ঢাকা পালানোর সময় তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে র্যাব-৯ সিপিসি-৩ শায়েস্তাগঞ্জের একটি আভিযানিক দল মূল অভিযুক্ত মারুফ তালুকদারকে (৩০) গ্রেফতার করে। মারুফ পৈলারকান্দী গ্রামের সিরাজুল তালুকদারের পুত্র।
গত ২২ নভেম্বর (শনিবার) দিবাগত গভীর রাতে ১৫নং পৈলারকান্দি ইউনিয়নের বসন্তপুর পৈলারকান্দি সড়কের ড্রেইন কালভার্টের সামনে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত মাহফুজ মিয়া একই গ্রামের মৃত লিবাস মিয়ার ছেলে।
নিহত মাহফুজকে একা পেয়ে মারুফ, ইয়াহিয়া এবং তাদের সহযোগীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে এবং হাত-পায়ের রগ কেটে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, পৈলারকান্দি গ্রামের হাওরের জমিতে বাঁধ দেওয়াকে কেন্দ্র করে মাহফুজ মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের মারুফ মিয়া, ইয়াহিয়া মিয়াসহ কয়েকজনের বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়।
বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বানিয়াচং সার্কেল) প্রবাস কুমার সিংহ জানান, কৃষিজমির বাঁধ দেওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
র্যাব-৯ সিপিসি-৩ শায়েস্তাগঞ্জ কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ আলম বলেন, হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পাওয়ার পর অভিযুক্তদের গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু হয় এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে মূল হোতা মারুফ তালুকদারকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
বর্তমানে অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ আর রুমন, বানিয়াচং। 













