সিলেট ০২:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
News Title :
হবিগঞ্জে বিয়ের প্রলোভনে কিশোরীকে ধর্ষণ: পলাতক আসামি সিলেট থেকে গ্রেফতার করল র‍্যাব। হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ, সারজিসসহ আহত কয়েকজন নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত দলিল নেই, তবুও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভূমিদাতা পাতন বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থী সম্মাননা ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ সম্পন্ন ‎সিলেটে হাইড্রোলিক হর্ন ও পরিবেশ আইন লঙ্ঘনে ১০ গাড়ির মালিককে জরিমানা নবীগঞ্জে আম গাছে থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার‎ ‘নেলসন ম্যান্ডেলা পিস অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ পেলেন কাজী মোহাম্মদ জমিরুল ইসলাম মমতাজ‎ ‎৪৫০ শিক্ষার্থীর একমাত্র ভরসা গুচ্ছগ্রাম বিদ্যালয়; পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতার আশ্বাস গ্রাম পুলিশের বেতন বৃদ্ধি ও চাকরি জাতীয়করণের দাবি

‎টাঙ্গাইলের মধুপুরে বিএনপি সমর্থকদের সংঘর্ষ: রণক্ষেত্র, হামলা-ভাঙচুর, সড়ক অবরোধ‎


‎টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় বিএনপি’র দুই সম্ভাব্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ব্যাপক হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
‎এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
‎সংঘর্ষের এক পর্যায়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করায় মধুপুরের পরিস্থিতি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

‎পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, সংঘর্ষের মূল কারণ ছিল টাঙ্গাইল-১ আসনে বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে অসন্তোষ। বিএনপি কেন্দ্র থেকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপন-কে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করার পর থেকেই স্থানীয় নেতা এডভোকেট মোহাম্মদ আলী-র সমর্থকরা প্রতিদিন মিছিল-মিটিং করে এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন।

‎স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, বুধবার এডভোকেট মোহাম্মদ আলীর পূর্ব নির্ধারিত মিছিলে ফকির মাহবুব আনাম স্বপনের সমর্থকরা আওয়ামী দালালদের সঙ্গে নিয়ে দেশীয় অস্ত্র, দা, লাঠি-সোটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।



‎উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে মুহূর্তেই মধুপুর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। মানুষের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ সরে যান।
‎ মধুপুর বিএনপি নেতাদের দাবি অনুযায়ী, তাদের পক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং চারজনকে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
‎আহতদের অন্যান্য স্থানেও চিকিৎসা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

‎হামলার ঘটনার পর এডভোকেট মোহাম্মদ আলীর বিক্ষুব্ধ সমর্থকরা মধুপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। এর ফলে সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, যা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে।
‎বিক্ষোভকারীরা এসময় বেশ কিছু স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। এর মধ্যে এশিয়া হাসপাতাল ও কয়েকটি দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অপরদিকে ধনবাড়ীতে রাতেই উপজেলা বিএনপি সভাপতি প্রিন্সিপাল এম. আজিজুর রহমানে সভাপতিত্বে একটি প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি সহ অঙ্গ সংগঠনে নেতাকর্মীরা অংশ গ্রহণ করেন।



‎সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর পরপরই সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
‎সংঘর্ষ শেষে এডভোকেট মোহাম্মদ আলী সমর্থকেরা এবং স্থানীয় জনগণ একত্রিত হয়ে ফকির মাহবুব আনাম স্বপনের লোকজনকে মধুপুর থেকে ধাওয়া দিয়ে বিতাড়িত করেন বলে তারা দাবী করেন।

‎পরে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মধুপুরের স্থানীয় জনগণ স্লোগান তুলে দাবি করেন যে, তারা স্থানীয় সন্তান এডভোকেট মোহাম্মদ আলী-কেই তাদের সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে দেখতে চান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জে বিয়ের প্রলোভনে কিশোরীকে ধর্ষণ: পলাতক আসামি সিলেট থেকে গ্রেফতার করল র‍্যাব।

‎টাঙ্গাইলের মধুপুরে বিএনপি সমর্থকদের সংঘর্ষ: রণক্ষেত্র, হামলা-ভাঙচুর, সড়ক অবরোধ‎

সময় ০৯:০৫:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫


‎টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় বিএনপি’র দুই সম্ভাব্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ব্যাপক হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
‎এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
‎সংঘর্ষের এক পর্যায়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করায় মধুপুরের পরিস্থিতি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

‎পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, সংঘর্ষের মূল কারণ ছিল টাঙ্গাইল-১ আসনে বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে অসন্তোষ। বিএনপি কেন্দ্র থেকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপন-কে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করার পর থেকেই স্থানীয় নেতা এডভোকেট মোহাম্মদ আলী-র সমর্থকরা প্রতিদিন মিছিল-মিটিং করে এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন।

‎স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, বুধবার এডভোকেট মোহাম্মদ আলীর পূর্ব নির্ধারিত মিছিলে ফকির মাহবুব আনাম স্বপনের সমর্থকরা আওয়ামী দালালদের সঙ্গে নিয়ে দেশীয় অস্ত্র, দা, লাঠি-সোটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।



‎উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে মুহূর্তেই মধুপুর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। মানুষের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ সরে যান।
‎ মধুপুর বিএনপি নেতাদের দাবি অনুযায়ী, তাদের পক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং চারজনকে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
‎আহতদের অন্যান্য স্থানেও চিকিৎসা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

‎হামলার ঘটনার পর এডভোকেট মোহাম্মদ আলীর বিক্ষুব্ধ সমর্থকরা মধুপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। এর ফলে সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, যা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে।
‎বিক্ষোভকারীরা এসময় বেশ কিছু স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। এর মধ্যে এশিয়া হাসপাতাল ও কয়েকটি দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অপরদিকে ধনবাড়ীতে রাতেই উপজেলা বিএনপি সভাপতি প্রিন্সিপাল এম. আজিজুর রহমানে সভাপতিত্বে একটি প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি সহ অঙ্গ সংগঠনে নেতাকর্মীরা অংশ গ্রহণ করেন।



‎সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর পরপরই সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
‎সংঘর্ষ শেষে এডভোকেট মোহাম্মদ আলী সমর্থকেরা এবং স্থানীয় জনগণ একত্রিত হয়ে ফকির মাহবুব আনাম স্বপনের লোকজনকে মধুপুর থেকে ধাওয়া দিয়ে বিতাড়িত করেন বলে তারা দাবী করেন।

‎পরে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মধুপুরের স্থানীয় জনগণ স্লোগান তুলে দাবি করেন যে, তারা স্থানীয় সন্তান এডভোকেট মোহাম্মদ আলী-কেই তাদের সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে দেখতে চান।