
গাজীপুরের টঙ্গীতে শারীরিক প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে, এর প্রতিবাদে টানা কর্মবিরতি ও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ।
অভিযোগে জানাগেছে, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের শারীরিক প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট, মৈত্রী শিল্পের নির্বাহী পরিচালক (উপ-সচিব) কাজী মাহাবুব উর রহমানের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, নির্যাতন, নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও অনৈতিক কার্যকলাপের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
তাঁর অপসারণের দাবিতে গত ২০ অক্টোবর থেকে ট্রাস্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টঙ্গীতে একটানা কর্মবিরতি ও প্রতিবাদী আন্দোলন করে যাচ্ছেন।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগে করেন, কাজী মাহাবুব উর রহমান যোগদানের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানের সকলকে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা প্রধান অভিযোগ গুলো হলো, যৌন হয়রানি ও অনৈতিক প্রস্তাব, তিনি নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ এবং তাঁদেরকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। যৌন হয়রানির উদ্দেশ্যে তাঁর রুমে ডেকে নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, তিনি খারাপ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য নিজের রুমে ডিজিটাল লক স্থাপন করেছেন, যা কেবল তাঁর আঙুলের ছাপেই খোলা বা বন্ধ করা যায়।
তিনি একজন নারী সহকর্মীকে তাঁর রুমে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি করার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
তার কুপ্রস্তাবে অস্বীকৃতি জানালে বা মনোমত না চললে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শাস্তিস্বরূপ বিভিন্ন শাখায় বদলি করে দেওয়া হয়।
কাজী মাহবুব উর রহমান সামান্য কারণে একাধিকবার শোকজ করা এবং শোকজের জবাব সন্তোষ জনক না হলে পুনরায় শোকজ করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
তিনি গাড়ী চালকদের নানান ভাবে হয়রানি করেন। গাড়ী তেল নিয়েও তাদের সাথে দরদাম করেন বলে একাধিক ড্রাইভার অভিযোগ জানান। গাড়ীর তেল থেকে অনৈতিক সুবিধা চান বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
আন্দোলনরত একজন নারী কর্মকর্তা অনলাইন সিলেট ডটকম কে জানান, কাজী মাহবুব যোগদানের পর থেকে নারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন এবং যারা রাজি না হতেন, তাদের নানাভাবে হেনস্তা করে অন্যত্র বদলি করতেন।
কয়েকজন নারী কে ভিন্ন জেলায় বদলি করেন তিনি। এছাড়াও কাজী মাহবুব উর রহমান একজন নারী (লায়লা ছদ্মনাম )তাঁকে নিয়ে প্রায়শ বিভিন্ন জায়গায় মধুচন্দ্রিমা যান। তার প্রমান হিসেবে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ অনলাইন সিলেট ডটকম এর হাতে এসে পৌঁছেছে। এই ভিডিও টি আপলোড করার সাথে এই পর্যন্ত প্রায় ৫ লক্ষ ভিউ হয়েছে। ভিউ চলমান আছে!
তারা আরও দাবী করেন, তার মত বেহায়া নির্লজ্জ অফিসার তাদের চাকুরী জীবনে দেখেন নাই! একটানা কর্মবিরতি ও আন্দোলন করার পরও একটি কুচক্রী মহল তাঁকে এখানে রাখতে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। তারা বলেন, এখানে অসহায় প্রতিবন্ধী শ্রমিকেরা কাজ করেন, কিন্তু তারা পদে পদে কাজী মাহবুব উর রহমান তাদের কে
বার বার নির্যাতন নিপীড়ন চালিয়েছে যাচ্ছেন। তারা অতিষ্ঠ হয়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন।
গতকাল আন্দোলনরত কর্মচারীদের সাথে আলাপ করে শিল্পাঞ্চলের পুলিশ, তাদের জানানো হয় কাজী মাহবুব উর রহমান এখানে আর আাবেন না
জবাবে আন্দোলনরত কর্মচারীরা জানান, তার অপসারণ বা বদলীর আদেশ সরকারি আসার পর সিদ্ধান্ত নিব।
আন্দোলনকারীরা আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, তাঁর শাস্তি ও অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা কাজে যোগদান করবেন না এবং আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
আন্দোলন চলাকালে গত ২০ অক্টোবর অভিযুক্ত উপসচিব কাজী মাহবুব উর রহমান টঙ্গীতে আসলে বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাঁকে ধাওয়া করে তাড়িয়ে দেন।
কাজী মাহবুব উর রহমানের এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শতাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর স্বাক্ষরিত একটি আবেদন ইতোমধ্যে উপদেষ্টা বরাবর ও মন্ত্রী পরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
একই সঙ্গে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের কাছেও স্মারকলিপি দাখিল করা হয়েছে। তাঁর অনৈতিক কার্যকলাপের খবর দেশের জাতীয় দৈনিকসহ প্রথম সারির টেলিভিশন চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে।
ট্রাস্টের শান্তিকামী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই নির্বাহী পরিচালকের দ্রুত অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এবং আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
আজ সকালে গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের এসপি জনাব সেলিম এবং জেলা প্রশাসকের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসে আন্দোলনরত শ্রমিক কর্মচারীদের সাথে কথা বলেন। এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের থেকে একজন সিনিয়র কর্মকর্তাও আন্দোলনকারীদের সাথে টেলিফোনে কথা বলেন।
তাদের কে কাজের যোগদানের জন্য অনুরোধ করেন। পাশাপাশি অভিযুক্ত নির্বাহী পরিচালক কাজী মাহবুব উর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।
অভিযুক্ত কাজী মাহবুব উর রহমান এর বক্তব্য জানতে চাইলে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেলও তিনি সাড়া দেননি।
উল্লেখ্য- কাজী মাহবুব উর রহমান সিলেট জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার হিসেবে যোগদানের মাত্র তিন মাসের মধ্যে তাঁর অনৈতিক ও অপেশাদার আচরণের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ (তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার) করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে সিলেটের একাধিক ভূমি মালিক ভূমি মন্ত্রণালয়সহ নানান দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন, যা এখনও তদান্তধীন।
সিলেটে থাকাকালীন তিনি অফিস পরিদর্শনের নামে ‘পরনারী’ নিয়ে ঘুরতে যেতেন বলেও অভিযোগ ছিল!
অফিসে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে অসদাচরণ এবং সরকারি কাজে টাকা আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগও ছিল তাঁর বিরুদ্ধে।
জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে কর্মরত কর্মচারী বলেন, সে এতই নিম্ন মানের অফিসার একজন তিনি, অনিয়মিত বেতনভোগী (আউটসোর্সিং) নাইটগার্ডের কেনা পায়ের জুতা, সাবান টিস্যু বালিশ সহ নানা জিনিস সাথে নিয়ে যায়। এই নিয়ে তাদের অফিসে রসবোধের সৃষ্টি হয়েছিল।
তিনি সে সসম নিয়মিত অফিস করতেন না এবং নানা অজুহাতে অফিস কামাই করতেন। অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে সিলেটে স্থাপিত মিনি প্রেস ঢাকায় স্থানান্তরের জন্য চিঠি দিয়েছিলেন।
তখন সিলেটের ভূমি মালিকগণের জোড়ালো প্রতিবাদ সমাবেশ ও আন্দোলনের মুখে ভূমি মন্ত্রণালয় প্রেস সিলেটে রাখতে বাধ্য হন।
স্টাফ রিপোর্টার 



















