সিলেট ০৯:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
News Title :
‎ওসমানীনগরে পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান আসামি সাকিব গ্রেফতার; র‍্যাবের ঝটিকা অভিযান ‎সিলেটের গোয়াইনঘাটে ২৬ বোতল ইসকফসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার‎ ‎মাধবপুরের শাহপুরে রাস্তা দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত ৪ ‎মাধবপুরে রাতের আঁধারে মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর, এলাকায় উত্তেজনা ‎টাঙ্গাইলে নদী উদ্ধার প্রকল্প নিয়ে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হুমকি ও অপপ্রচার ‎বানিয়াচংয়ে ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধ: যুবককে কুপিয়ে হত্যা, এলাকায় উত্তেজনা। সিলেটে গোয়াইনঘাটে চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি ফরিদ মিয়া র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার দক্ষিণ সুরমায় ৫ লক্ষ টাকার ভারতীয় ফুসকাসহ গ্রেফতার ২, কাভার্ডভ্যান জব্দ ‎ধনবাড়ীতে গাঁজার গাছসহ নারী গ্রেফতার,‎ স্বামী পলাতক! ‎​মৌলভীবাজারে ডাকাতির প্রস্তুতি পণ্ড: সর্দার রুবেলসহ গ্রেফতার ৩, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার
‎মইনুলের পরনের থাকা মেয়েলি পোশাক সনাক্ত করেছে পুলিশ ‎!

‎বানিয়াচংয়ে মাদ্রাসা ছাত্র হত্যা মামলা পিবিআইতে স্থানান্তর


‎                                                     



‎বানিয়াচংয়ে জামেয়া দারুস সালাম মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের মেধাবী ছাত্র মইনুল ইসলাম (১২) হত্যা মামলাটি গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বানিয়াচং থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আমিনুল ইসলাম।

‎গত ২৫ অক্টোবর নিহত মইনুল ইসলাম এর বাবা আতিকুর রহমান বাদী হয়ে বানিয়াচং থানায় অজ্ঞাত আসামী উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বানিয়াচং থানার মামলা নং ১৮, তারিখ ২৫/১০/২৫ইং। মামলাটি দায়ের এর পরপরই মইনুল হত্যাকান্ডের ঘটনায় মাঠে নামে বানিয়াচং থানা পুলিশ।

‎ইতিমধ্যে মইনুল ইসলাম হত্যায় জড়িত থাকার সন্দেহে নুর আলীর ছেলে মোফাজ্জল (২৩) নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।
‎তদন্তের স্বার্থে আটক মোফাজ্জ্বলকে কোর্টের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।

‎এদিকে নিহত মইনুল ইসলাম এর লাশ উদ্ধার এর সময় তার পড়নে থাকা মেয়েদের পোশাকটির মালিককে চিহিৃত করেছে পুলিশ। তার পড়নে থাকা পোশাকটি নিহত মইনুল ইসলাম এর পাশের বাড়ীর তাহমিনা নামে একজন মেয়ের পোশাক এটি। তাহমিনার বাড়ীতে সরেজমিন গিয়ে তা নিশ্চিত করেছে থানা পুলিশ।

‎নিহত মইনুল ইসলাম হত্যাকান্ডে জড়িতদের গ্রেফতারসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসুচী পালন করে আসছে নিহত মইনুল এর সহপাটিসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।

‎এরই প্রেক্ষিতে মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার দুপুরে মইনুল ইসলাম নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের ২৪ ঘন্টা পর একটি খালের পানি থেকে নারী পোষাক পরিহিত মাদ্রাসা ছাত্র মঈনুল হাসান (১২) মরদেহ উদ্ধার করেছে বানিয়াচং থানা পুলিশ। এঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে

‎ঘটনাটি ঘটেছে বানিয়াচং সদরের ৩নং দক্ষিণ পুর্ব ইউনিয়নের দোয়াখানী এলাকায়। জানা যায়, বানিয়াচং দোয়াখানী দারুস সালাম মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের ছাত্র মোঃ মইনুল হাসান গত মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে নিখোঁজ হয়।

‎দুপুরের খাবার খেতে প্রতিদিন মাদ্রাসা থেকে বাড়ী যেত মইনুল ওই দিন খাবার খেতে বাড়ীতে না যাওয়ায় পরিবারের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় খোজাখোজি করেও কোথাও না পেয়ে এলাকায় মাইকিং করে নিখোজের সংবাদটি প্রচার করে মইনুলের পরিবার।
‎বুধবার সকাল অনুমানিক সাড়ে নয়টার দিকে দোয়াখানী মহল্লার একটি খালে ভাসমান অবস্থায় একটি লাশ দেখতে পায় পথচারীরা।
‎বিষয়টি এলাকায় চাউর হলে নিখোঁজ মাদ্রাসার ছাত্র মইনুলের বাবা আতিকুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান খালের মধ্যে পড়ে থাকা লাশটি তারই আদরের সন্তান মইনুল হাসান এর।
‎ছেলের নিথর দেহটি দেখা মাত্রই কান্নায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

‎ঘটনাটি বানিয়াচং থানাকে অবহিত করা হলে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমানসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মইনুল হাসান এর মরদেহটি উদ্ধার করে বানিয়াচং থানায় নিয়ে আসা হয়। নিহত মইনুল হাসান এর বাবা আতিকুর রহমান এর সাথে আলাপকালে তিনি জানান, আমার ছেলেকে কোরআন এর হাফেজ বানানোর জন্য মাদ্রাসায় দিয়েছিলাম, ইতিমধ্যে সে ৭পাড়া কোরআর শরীফ মুখস্থ করেছিল।

‎তিনি আরো জানান, আমার ছেলে সবসময় গায়ে পাঞ্জাবি পরতো। পুত্রের গায়ে নারী পোষাক দেখে তিনি দাবি করেন এটা পরিকল্পিত হত্যা।
‎যে নরপশুরা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই।
‎এ ঘটনায় গত ২৫ অক্টোবর নিহত মইনুল ইসলাম এর বাবা আতিকুর রহমান বাদী হয়ে বানিয়াচং থানায় অজ্ঞাত আসামী উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বানিয়াচং থানার মামলা নং ১৮, তারিখ ২৫/১০/২৫ইং। বর্তমানে মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎ওসমানীনগরে পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান আসামি সাকিব গ্রেফতার; র‍্যাবের ঝটিকা অভিযান

‎মইনুলের পরনের থাকা মেয়েলি পোশাক সনাক্ত করেছে পুলিশ ‎!

‎বানিয়াচংয়ে মাদ্রাসা ছাত্র হত্যা মামলা পিবিআইতে স্থানান্তর

সময় ০৮:৫৫:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫


‎                                                     



‎বানিয়াচংয়ে জামেয়া দারুস সালাম মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের মেধাবী ছাত্র মইনুল ইসলাম (১২) হত্যা মামলাটি গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বানিয়াচং থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আমিনুল ইসলাম।

‎গত ২৫ অক্টোবর নিহত মইনুল ইসলাম এর বাবা আতিকুর রহমান বাদী হয়ে বানিয়াচং থানায় অজ্ঞাত আসামী উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বানিয়াচং থানার মামলা নং ১৮, তারিখ ২৫/১০/২৫ইং। মামলাটি দায়ের এর পরপরই মইনুল হত্যাকান্ডের ঘটনায় মাঠে নামে বানিয়াচং থানা পুলিশ।

‎ইতিমধ্যে মইনুল ইসলাম হত্যায় জড়িত থাকার সন্দেহে নুর আলীর ছেলে মোফাজ্জল (২৩) নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।
‎তদন্তের স্বার্থে আটক মোফাজ্জ্বলকে কোর্টের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।

‎এদিকে নিহত মইনুল ইসলাম এর লাশ উদ্ধার এর সময় তার পড়নে থাকা মেয়েদের পোশাকটির মালিককে চিহিৃত করেছে পুলিশ। তার পড়নে থাকা পোশাকটি নিহত মইনুল ইসলাম এর পাশের বাড়ীর তাহমিনা নামে একজন মেয়ের পোশাক এটি। তাহমিনার বাড়ীতে সরেজমিন গিয়ে তা নিশ্চিত করেছে থানা পুলিশ।

‎নিহত মইনুল ইসলাম হত্যাকান্ডে জড়িতদের গ্রেফতারসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসুচী পালন করে আসছে নিহত মইনুল এর সহপাটিসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।

‎এরই প্রেক্ষিতে মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার দুপুরে মইনুল ইসলাম নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের ২৪ ঘন্টা পর একটি খালের পানি থেকে নারী পোষাক পরিহিত মাদ্রাসা ছাত্র মঈনুল হাসান (১২) মরদেহ উদ্ধার করেছে বানিয়াচং থানা পুলিশ। এঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে

‎ঘটনাটি ঘটেছে বানিয়াচং সদরের ৩নং দক্ষিণ পুর্ব ইউনিয়নের দোয়াখানী এলাকায়। জানা যায়, বানিয়াচং দোয়াখানী দারুস সালাম মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের ছাত্র মোঃ মইনুল হাসান গত মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে নিখোঁজ হয়।

‎দুপুরের খাবার খেতে প্রতিদিন মাদ্রাসা থেকে বাড়ী যেত মইনুল ওই দিন খাবার খেতে বাড়ীতে না যাওয়ায় পরিবারের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় খোজাখোজি করেও কোথাও না পেয়ে এলাকায় মাইকিং করে নিখোজের সংবাদটি প্রচার করে মইনুলের পরিবার।
‎বুধবার সকাল অনুমানিক সাড়ে নয়টার দিকে দোয়াখানী মহল্লার একটি খালে ভাসমান অবস্থায় একটি লাশ দেখতে পায় পথচারীরা।
‎বিষয়টি এলাকায় চাউর হলে নিখোঁজ মাদ্রাসার ছাত্র মইনুলের বাবা আতিকুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান খালের মধ্যে পড়ে থাকা লাশটি তারই আদরের সন্তান মইনুল হাসান এর।
‎ছেলের নিথর দেহটি দেখা মাত্রই কান্নায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

‎ঘটনাটি বানিয়াচং থানাকে অবহিত করা হলে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমানসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মইনুল হাসান এর মরদেহটি উদ্ধার করে বানিয়াচং থানায় নিয়ে আসা হয়। নিহত মইনুল হাসান এর বাবা আতিকুর রহমান এর সাথে আলাপকালে তিনি জানান, আমার ছেলেকে কোরআন এর হাফেজ বানানোর জন্য মাদ্রাসায় দিয়েছিলাম, ইতিমধ্যে সে ৭পাড়া কোরআর শরীফ মুখস্থ করেছিল।

‎তিনি আরো জানান, আমার ছেলে সবসময় গায়ে পাঞ্জাবি পরতো। পুত্রের গায়ে নারী পোষাক দেখে তিনি দাবি করেন এটা পরিকল্পিত হত্যা।
‎যে নরপশুরা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই।
‎এ ঘটনায় গত ২৫ অক্টোবর নিহত মইনুল ইসলাম এর বাবা আতিকুর রহমান বাদী হয়ে বানিয়াচং থানায় অজ্ঞাত আসামী উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বানিয়াচং থানার মামলা নং ১৮, তারিখ ২৫/১০/২৫ইং। বর্তমানে মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়েছে।