
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের হামরকোনা গ্রামে বৃহস্পতিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা।
শেরপুর বাসীর আয়োজনে কুশিয়ারা নদীর শেরপুর অংশে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে অংশ নিতে এবং তা দেখতে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ ভিড় জমিয়েছে।
দর্শকরা বিকেলের দিকে নদীর দুই পাড়ে ভিড় জমিয়েছেন। নদীর বুকে নৌকার মাঝিমাল্লারা গান গাইছে—“ছাড়িলাম হাসনের নাওরে”, আবার কেউ অন্য গানে সঙ্গ দিচ্ছে—“কোন মেস্তরি নাও বানাইলো কেমন দেখা যায়…”। সঙ্গে বাজছে ঢোল, খোল ও করতাল। নদীর ঢেউও যেন আনন্দের সঙ্গে নাচছে, থইথই করে তীরে আছড়ে পড়ছে।

এই বছর প্রতিযোগিতায় সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেট থেকে ১২টি নৌকা অংশ নিয়েছে।
মহরম আলীর তরী ,এসকের তরী,ঈশানের তরী১,ঈশানের তরী-২,শাহ মোস্তফার তরী,নিলুশাহ তরী,বন্ধুর তরী,বাংলা পবনসহ বিভিন্ন নামের নৌকাগুলো আলীপুর থেকে শেরপুর অক্সিঘাট দুই কিলোমিটারের মধ্যে ছুটে গেছে।
ছয় ধাপে প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়, চূড়ান্ত পর্বে পাঁচরট নৌকা মুখোমুখি হয়েছে।সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে প্রতিযোগীতায় প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, বিশেষ অতিথি ছিলেন ১ নং খলিলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু মিয়া চৌধুরী এবং আহমেদ আহাদ, মৌলভীবাজার জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব, বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দ।

নৌকা বাইচে ইশানের তরী – ১ম স্থান (পুরস্কার: মোটরসাইকেল)এসকের তরী – ২য় স্থান (পুরস্কার: ফ্রিজ)মহরম আলীর তরী – ৩য় স্থান (পুরস্কার: ফ্রিজ)নগর পবন – ৪র্থ স্থান (পুরস্কার: সিলিং ফ্যান)
প্রতিযোগিতা শেষে প্রধান অতিথি বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষার সময় নদী, হাওর ও বাঁওড় ভরে ওঠলে নৌকাবাইচের আয়োজন হয়। বন্যা, দুর্যোগ বা দৈনন্দিন ক্লান্তি ভুলে মানুষ এই উৎসব থেকে আনন্দ ও প্রাণশক্তি পান।
নৌকাবাইচ কেবল প্রতিযোগিতা নয়, এটি গ্রামবাংলার জীবন্ত ঐতিহ্য এবং লোকজ সংস্কৃতির এক অসাধারণ নিদর্শন। প্রতিটি ঢেউ, প্রতিটি নৌকার ছলছল ছন্দ, প্রতিটি দর্শকের উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে কুশিয়ারার বিকেল হয়ে ওঠে এক অনন্য আনন্দময় দৃশ্য।
আব্দুস সামাদ আজাদ মৌলভীবাজার প্রতিনিধি 



















