সিলেট ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
News Title :
‎শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে অভিভাবকদের সাথে মত বিনিময় সভার অনুষ্ঠিত ‎সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৩ শ্রমিক দগ্ধ নবীগঞ্জে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বসার জায়গা নিশ্চিত করলেন পৌর প্রশাসক মো. রুহুল আমিন চুনারুঘাটে ১৫ কিলোমিটার ধাওয়া শেষে জনতার হাতে আটক ডাকাতি মামলার অভিযুক্ত, উদ্ধার প্রাইভেটকার মাদক দমনে পুলিশের বিশেষ উইং চান এমপি নাসের রহমান, তদবিরকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি ডিআইজি ‎কনজিউমার রাইটস-ভোক্তা অধিকার (সিআরবি) সিলেট বিভাগীয় কার্যনির্বাহী কমিটি অনুমোদন‎‎ হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হলেন অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক সুবিপ্রবির উপ উপাচার্য পদে নিয়োগ পেলেন অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার ‎জামালপুরের নবাব রেস্টুরেন্টে মোবাইল কোর্টের অভিযান, ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ‎অপপ্রচার ঠেকাতে শান্তিগঞ্জে প্রশাসনের উদ্যোগ, তথ্য যাচাইয়ে জোর

‎কুশিয়ারার বুকে শোনা যায় নৌকা-বাইচের হইচই





‎মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের হামরকোনা গ্রামে বৃহস্পতিবার  বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা।
‎শেরপুর বাসীর আয়োজনে  কুশিয়ারা নদীর শেরপুর অংশে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে অংশ নিতে এবং তা দেখতে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ ভিড় জমিয়েছে।

‎দর্শকরা বিকেলের দিকে নদীর দুই পাড়ে ভিড় জমিয়েছেন। নদীর বুকে নৌকার মাঝিমাল্লারা গান গাইছে—“ছাড়িলাম হাসনের নাওরে”, আবার কেউ অন্য গানে সঙ্গ দিচ্ছে—“কোন মেস্তরি নাও বানাইলো কেমন দেখা যায়…”। সঙ্গে বাজছে ঢোল, খোল ও করতাল। নদীর ঢেউও যেন আনন্দের সঙ্গে নাচছে, থইথই করে তীরে আছড়ে পড়ছে।



‎এই বছর প্রতিযোগিতায় সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেট থেকে ১২টি নৌকা অংশ নিয়েছে।

‎মহরম আলীর তরী ,এসকের তরী,ঈশানের তরী১,ঈশানের তরী-২,শাহ মোস্তফার তরী,নিলুশাহ তরী,বন্ধুর তরী,বাংলা পবনসহ বিভিন্ন নামের নৌকাগুলো আলীপুর থেকে শেরপুর অক্সিঘাট দুই কিলোমিটারের মধ্যে ছুটে গেছে।


‎ছয় ধাপে প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়, চূড়ান্ত পর্বে পাঁচরট নৌকা মুখোমুখি হয়েছে।সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে   প্রতিযোগীতায় প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, বিশেষ অতিথি ছিলেন ১ নং খলিলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু মিয়া চৌধুরী এবং আহমেদ আহাদ, মৌলভীবাজার জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব, বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দ।



‎নৌকা বাইচে ইশানের তরী – ১ম স্থান (পুরস্কার: মোটরসাইকেল)এসকের তরী – ২য় স্থান (পুরস্কার: ফ্রিজ)মহরম আলীর তরী – ৩য় স্থান (পুরস্কার: ফ্রিজ)নগর পবন – ৪র্থ স্থান (পুরস্কার: সিলিং ফ্যান)
‎প্রতিযোগিতা শেষে প্রধান অতিথি বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

‎স্থানীয়রা জানান, বর্ষার সময় নদী, হাওর ও বাঁওড় ভরে ওঠলে নৌকাবাইচের আয়োজন হয়। বন্যা, দুর্যোগ বা দৈনন্দিন ক্লান্তি ভুলে মানুষ এই উৎসব থেকে আনন্দ ও প্রাণশক্তি পান।



‎নৌকাবাইচ কেবল প্রতিযোগিতা নয়, এটি গ্রামবাংলার জীবন্ত ঐতিহ্য এবং লোকজ সংস্কৃতির এক অসাধারণ নিদর্শন। প্রতিটি ঢেউ, প্রতিটি নৌকার ছলছল ছন্দ, প্রতিটি দর্শকের উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে কুশিয়ারার বিকেল হয়ে ওঠে এক অনন্য আনন্দময় দৃশ্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে অভিভাবকদের সাথে মত বিনিময় সভার অনুষ্ঠিত

‎কুশিয়ারার বুকে শোনা যায় নৌকা-বাইচের হইচই

সময় ০৯:২৪:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫





‎মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের হামরকোনা গ্রামে বৃহস্পতিবার  বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা।
‎শেরপুর বাসীর আয়োজনে  কুশিয়ারা নদীর শেরপুর অংশে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে অংশ নিতে এবং তা দেখতে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ ভিড় জমিয়েছে।

‎দর্শকরা বিকেলের দিকে নদীর দুই পাড়ে ভিড় জমিয়েছেন। নদীর বুকে নৌকার মাঝিমাল্লারা গান গাইছে—“ছাড়িলাম হাসনের নাওরে”, আবার কেউ অন্য গানে সঙ্গ দিচ্ছে—“কোন মেস্তরি নাও বানাইলো কেমন দেখা যায়…”। সঙ্গে বাজছে ঢোল, খোল ও করতাল। নদীর ঢেউও যেন আনন্দের সঙ্গে নাচছে, থইথই করে তীরে আছড়ে পড়ছে।



‎এই বছর প্রতিযোগিতায় সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেট থেকে ১২টি নৌকা অংশ নিয়েছে।

‎মহরম আলীর তরী ,এসকের তরী,ঈশানের তরী১,ঈশানের তরী-২,শাহ মোস্তফার তরী,নিলুশাহ তরী,বন্ধুর তরী,বাংলা পবনসহ বিভিন্ন নামের নৌকাগুলো আলীপুর থেকে শেরপুর অক্সিঘাট দুই কিলোমিটারের মধ্যে ছুটে গেছে।


‎ছয় ধাপে প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়, চূড়ান্ত পর্বে পাঁচরট নৌকা মুখোমুখি হয়েছে।সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে   প্রতিযোগীতায় প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, বিশেষ অতিথি ছিলেন ১ নং খলিলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু মিয়া চৌধুরী এবং আহমেদ আহাদ, মৌলভীবাজার জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব, বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দ।



‎নৌকা বাইচে ইশানের তরী – ১ম স্থান (পুরস্কার: মোটরসাইকেল)এসকের তরী – ২য় স্থান (পুরস্কার: ফ্রিজ)মহরম আলীর তরী – ৩য় স্থান (পুরস্কার: ফ্রিজ)নগর পবন – ৪র্থ স্থান (পুরস্কার: সিলিং ফ্যান)
‎প্রতিযোগিতা শেষে প্রধান অতিথি বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

‎স্থানীয়রা জানান, বর্ষার সময় নদী, হাওর ও বাঁওড় ভরে ওঠলে নৌকাবাইচের আয়োজন হয়। বন্যা, দুর্যোগ বা দৈনন্দিন ক্লান্তি ভুলে মানুষ এই উৎসব থেকে আনন্দ ও প্রাণশক্তি পান।



‎নৌকাবাইচ কেবল প্রতিযোগিতা নয়, এটি গ্রামবাংলার জীবন্ত ঐতিহ্য এবং লোকজ সংস্কৃতির এক অসাধারণ নিদর্শন। প্রতিটি ঢেউ, প্রতিটি নৌকার ছলছল ছন্দ, প্রতিটি দর্শকের উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে কুশিয়ারার বিকেল হয়ে ওঠে এক অনন্য আনন্দময় দৃশ্য।