
বানিয়াচংয়ের বলাকীপুর গ্রামের সাদেকুজ্জামান সাদেক হত্যার ঘটনায় বানিয়াচং থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২জনকে গ্রেফতার করেছে।
বুধবার রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বানিয়াচং সার্কেল) প্রভাষ কুমার সিংহ, বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান, সেকেন্ড অফিসার এসআই আমিনুল ইসলামসহ পুলিশের একটি টীম বিশেষ অভিযান চালিয়ে বলাকীপুর গ্রাম থেকে পালিয়ে যাবার পথে আলালীপুর সুনামপুর কালভার্টের উপর থেকে একই গ্রামের সারাজ মিয়ার স্ত্রী নাঈমা আক্তার এবং মৃত আলাউদ্দিন মিয়ার ছেলে মোঃ জুয়েল মিয়াকে আটক করা হয়।
অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত বুধবার আপন বড় ভাই পুলিশ কনস্টেবল পালিয়ে বিয়ে করলে মেয়ে পক্ষের লোকজনের আঘাতে প্রাণ যায় ছোট ভাই সাদেকুজ্জামান সাদেক (১৮) এর। ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার সন্ধ্যায় বানিয়াচং উপজেলার বলাকীপুর গ্রামে। জানা যায়, ওই গ্রামের পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরিরত এনায়েত আহমেদ এর সাথে একই গ্রামের শারাজ মিয়ার কলেজ পড়ুয়া কন্যা মোছাঃ তাছনিয়া সাথে প্রেম চলছিল।
প্রায় দু-মাস পর ছুটি কাটিয়ে যাওয়ার সময় তার সাথে তাছনিয়াও পালিয়ে যায়। তাদের পালিয়ে বিয়ে করার কারনে এনায়েত ও তার পরিবারের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে তাছনিয়ার পরিবার।
বুধবার সন্ধ্যায় এনায়েতের ছোট ভাই কলেজ পড়ুয়া সাদেকুজ্জামান সাদেককে একা পেয়ে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে তাছনিয়ার পরিবারের লোকজন।
দরিদ্র পরিবার থেকে বেড়ে উঠা এনায়েত আহমেদ ও সাদেকুজ্জামান সাদেক।
বড় ভাই এনায়েত আহমেদ পুলিশের চাকুরি নেয় ২ বছর আগে। সংসারের টানাপোড়েন দূর হলে সদ্য এসএসসি পাস ছোট ভাই সাদেক স্বপ্ন দেখে ইউরোপ যাওয়ার। ইউরোপের নর্থ মেসোডেনিয়া যাওয়ার কথাবার্তা ও কাগজপত্র জমা দেওয়ার সময় ঘনিয়ে আসে।
এরই মধ্যে বড় ভাই পুলিশ সদস্য পালিয়ে বিয়ে করলে ঘাতকদের দৃষ্টি পরে ছোট ভাই সাদেকের উপর। শেষ পর্যন্ত ঘাতকরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে শেষ করে দেয় সাদেকুজ্জামান সাদেক এর স্বপ্ন।
আতাউর রহমান মিলন , বানিয়াচং । 


















