সিলেট ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
News Title :
‎গোয়াইনঘাটে ৭১ বোতল বিদেশি মদসহ বাবা-ছেলে গ্রেফতার হবিগঞ্জে ভুল প্রশ্নে দাখিল পরীক্ষা, পরে ধরা পড়ল ১০০ খাতা জব্দ, দায়িত্ব হারালেন ৩ কর্মকর্তা ‎মাধবপুরে ডিবি পুলিশের অভিযানে ১২৯ কেজি গাঁজা উদ্ধার, নারী গ্রেপ্তার ‎শেরপুর সেতুতে ৩৬ ঘণ্টা যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ভোগান্তির আশঙ্কা ‎বিয়ানীবাজার থেকে ৩ এসএসসি-দাখিল পরীক্ষার্থী ছাত্রী উধাও টাঙ্গাইলে র‍্যাবের অভিযানে ৯৬৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার এতিমখানার নামে চাঁদাবাজি: বানিয়াচংয়ে জনতার হাতে ধরা ‘টিকটকার’ ভণ্ড প্রতারক! বানিয়াচংয়ে ভাতিজার হাতে চাচা খুন: মামলায় স্বচ্ছতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন ‎সিলেটে চাকরির প্রলোভনে ভারতে পাচারের চেষ্টা: দালাল চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার ‎জুড়ীতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচী বাস্তবায়নে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত
সেবা গ্রহীতাদের চরম ভোগান্তি

মাসের ২৬ দিন বন্ধ মাধবপুর সমাজসেবা অফিস, দুর্ভোগে জনসাধারণ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিস কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। মাসের ২৬ দিন বন্ধ থাকায় বিভিন্ন ভাতা ও সেবার জন্য আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার স্থায়ী সমাজসেবা কর্মকর্তার পদটি শূন্য। আগের কর্মকর্তা আশরাফ আলী তাপস গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় থেকে আর অফিসে আসছেন না। তার অনুপস্থিতিতে জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নিপুণ রায়কে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলেও, তিনি মাসে গড়ে মাত্র ২-৩ দিন অফিস করছেন।

মাধবপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার শত শত মানুষ প্রতিদিন সমাজসেবা অফিসে আসেন বিভিন্ন সুবিধা যেমন—বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা, অনুদান, নিবন্ধনসহ অন্যান্য সেবা নিতে। কিন্তু কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকায় অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

একজন সেবাগ্রহীতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা মাসের পর মাস ঘুরছি, কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। ভাতা নবায়ন করতেও দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়।”

পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বেনু মিয়া জানান,“আমার আত্মীয়ের জন্মনিবন্ধনে সমাজসেবা কর্মকর্তার স্বাক্ষর দরকার, কিন্তু উনাকে পাওয়া যায় না।”

আরেকজন ভুক্তভোগী ১নং ওয়ার্ডের আবুল খায়ের বলেন, “একটি মামলার প্রতিবেদন দিতে মাসের পর মাস অফিসে ঘুরছি। উনি অফিসে না থাকায় কাজ আটকে আছে।

অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিপুণ রায় কিছুটা দেমাগপূর্ণ ভাব নিয়ে বলেন, “আমি হবিগঞ্জ সদর দপ্তরে কর্মরত। তাই মাধবপুরে নিয়মিত থাকা সম্ভব নয়। মাসে চারদিন অফিস করার চেষ্টা করি। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের যানজটের কারণে সময়মতো আসা-যাওয়া করাও কঠিন হয়ে পড়ে।”

চৌমুহনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ বলেন,

“দ্রুত একজন স্থায়ী কর্মকর্তা নিয়োগ না দিলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ বিন কাশেম জানান, “সেবা বঞ্চনার বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। আশা করি দ্রুত সমাধান হবে।”

হবিগঞ্জ জেলা সমাজসেবা উপপরিচালক রাশেদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, “আমরা বিষয়টি জানি। জনসাধারণের সুবিধার কথা বিবেচনা করে নিপুণ রায়কে অব্যাহতি দিয়ে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎গোয়াইনঘাটে ৭১ বোতল বিদেশি মদসহ বাবা-ছেলে গ্রেফতার

সেবা গ্রহীতাদের চরম ভোগান্তি

মাসের ২৬ দিন বন্ধ মাধবপুর সমাজসেবা অফিস, দুর্ভোগে জনসাধারণ

সময় ১০:১৩:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিস কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। মাসের ২৬ দিন বন্ধ থাকায় বিভিন্ন ভাতা ও সেবার জন্য আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার স্থায়ী সমাজসেবা কর্মকর্তার পদটি শূন্য। আগের কর্মকর্তা আশরাফ আলী তাপস গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় থেকে আর অফিসে আসছেন না। তার অনুপস্থিতিতে জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নিপুণ রায়কে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলেও, তিনি মাসে গড়ে মাত্র ২-৩ দিন অফিস করছেন।

মাধবপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার শত শত মানুষ প্রতিদিন সমাজসেবা অফিসে আসেন বিভিন্ন সুবিধা যেমন—বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা, অনুদান, নিবন্ধনসহ অন্যান্য সেবা নিতে। কিন্তু কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকায় অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

একজন সেবাগ্রহীতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা মাসের পর মাস ঘুরছি, কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। ভাতা নবায়ন করতেও দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়।”

পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বেনু মিয়া জানান,“আমার আত্মীয়ের জন্মনিবন্ধনে সমাজসেবা কর্মকর্তার স্বাক্ষর দরকার, কিন্তু উনাকে পাওয়া যায় না।”

আরেকজন ভুক্তভোগী ১নং ওয়ার্ডের আবুল খায়ের বলেন, “একটি মামলার প্রতিবেদন দিতে মাসের পর মাস অফিসে ঘুরছি। উনি অফিসে না থাকায় কাজ আটকে আছে।

অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিপুণ রায় কিছুটা দেমাগপূর্ণ ভাব নিয়ে বলেন, “আমি হবিগঞ্জ সদর দপ্তরে কর্মরত। তাই মাধবপুরে নিয়মিত থাকা সম্ভব নয়। মাসে চারদিন অফিস করার চেষ্টা করি। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের যানজটের কারণে সময়মতো আসা-যাওয়া করাও কঠিন হয়ে পড়ে।”

চৌমুহনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ বলেন,

“দ্রুত একজন স্থায়ী কর্মকর্তা নিয়োগ না দিলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ বিন কাশেম জানান, “সেবা বঞ্চনার বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। আশা করি দ্রুত সমাধান হবে।”

হবিগঞ্জ জেলা সমাজসেবা উপপরিচালক রাশেদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, “আমরা বিষয়টি জানি। জনসাধারণের সুবিধার কথা বিবেচনা করে নিপুণ রায়কে অব্যাহতি দিয়ে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।”