
ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় স্টার লাইন একটি যাত্রীবাহী বাস চাপায় হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার এক শ্রমিকের প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে।
২০ অক্টোবর
(সোমবার)ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মহাসড়কের গজারিয়া বালুয়াকান্দি এলাকার সর্দার পাম্পের সামন দিয়ে নিহত শ্রমিক সড়ক পারাপার হওয়ার সময় স্টার লাইন নামক দ্রুতগামী একটি বাস চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ সময় বাসটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আশপাশের লোকজন ঘাতক বাসটিকে আটক করলেও চালক পালিয়ে যায় বলে জানাযায়।
খবর পেয়ে গজারিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
এসময় পুলিশ আটককৃত ঘাতক বাসটিকে থানায় না নিয়ে বাসটিতে প্রবাসী এয়ারপোর্টের যাত্রী থাকার কারণে অন্য চালক এনে বাসটিকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ করেন নিহত শ্রমিকের ছোট্ট ভাই সুরত আলী।
নিহত শ্রমিক হলো
হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার ৬নং কাগাপাশা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের চমকপুর গ্রামের মোকাম হাঁটির মৃত নিদাই মিয়ার পুত্র আকবর আলী মিয়া(৪৫)।
জানাযায়,জীবিকার তাগিদে তার আপন ছোট্ট ভাই সহ এলাকার কিছু লোকজন দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস ধরে মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলায় একটি ভাড়া বাসায় থেকে তারা সবাই প্রতিদিন শ্রমিকের কাজ করে পরিবারের জীবীকা নির্বাহ করে আসছিলেন।
প্রতিদিনের ন্যায় আকবর আলী বাসা থেকে ভোরে শ্রমিকের কাজের উদ্যেশে সাথে অন্যান্য সহযোগী শ্রমিক নিয়ে বের হয়ে রাস্তা পারাপার হতে স্টার লাইন নামক একটি যাত্রীবাহী বাস চাপা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আশপাশের লোকজন”স্টার লাইন”নামক ঘাতক বাস গাড়িটিকে আটক করেন।
যাহার নাম্বার হলো,(ঢাকা মেট্রো:-ব-
১২-৩৫৬৮)।
এসময় তার সাথে থাকা আপন ছোট্ট ভাই সুরত আলী বাসায় ছিলেন।
পরে সাথের লোকজন তাকে খবর দিলে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন এবং ঘাতক বাসটিকে আটক দেখতে পান।
পরে মুন্সিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে যান এবং তার ভাইকে কোন প্রকার কাটাছেঁড়া না করার জন্য তিনি থানায় গিয়ে আবেদন করেন।
থানা পুলিশ জেলার উদর্ধতন কর্মকর্তাদেরকে অবগত করে ময়না তদন্ত ছাড়াই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লাশটিকে ছোট্ট ভাই সুরত আলীর নিকট সাদা কাগজে সাক্ষর রেখে হস্তান্তর করেন।
পরে তিনি এম্বুলেন্স যোগে বেলা ১টার দিকে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার নিজ বাড়ির উদ্যেশে রওয়ানা দেন।
রাত ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে এসে পৌঁছান বলে গ্রামবাসী ও তার ইউপি সদস্য হারুন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বাড়িতে আসলে পরিবারের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে পড়ে এবং গ্রামবাসীর মধ্যে এক শোকের ছায়া নেমে আসে।
পরে তার গোসল কার্যক্রম শেষ করে রাত ৯টার দিকে স্হানীয় আনন্দ বাজারে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
এবং এলাকাবাসীর কবরস্থানে তার দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানাযায়।
সংসারে স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানদের একমাত্র উপার্জণকারী ছিলেন নিহত আকবর আলী।
বর্তমানে দুই পুত্র ও তিন কন্যা সন্তান নিয়ে বিধবা স্ত্রী অসহায় হয়ে পড়ছেন।
তাদের সংসারে হাল ধরার মতো আর কেউই রইলো না বলে জানান,নিহতের ছোট্ট ভাই সুরত আলী।
এছাড়াও তিনি সেখানের থানা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন,পুলিশ আটক গাড়িটিকে কি কারণে ছেড়ে দিলো?
অবশ্যই আমরা অশিক্ষিত ও অন্য জেলার গরীব মানুষ হওয়ায় এবং আমাদের জন্য কেউ কথা বলার মতো না থাকায় তারা আমার কাছ থেকে সাক্ষর নিয়ে আমার নিহত বড় ভাইকে সমজিয়ে দেন।
এবং তারা গাড়ি মালিকদের নিকট হতে কোন কিছু একটা পেয়েই কোন প্রকার মামলা মোকদ্দমা না দিয়ে রোড এস্কিডেন্ট আকারে একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করে গাড়িটিকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে এসব অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে মুন্সিগঞ্জ গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)
কামরুজ্জামান এর
সাথে মঙ্গলবার রাত ১২টা ১৯মিনিটে সরকারি মুঠোফোন (০১৭১৩-৩৭৩৩৯৭)
নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তার কাছ থেকে কোন সাড়া না পাওয়ায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ আর রুমন, বানিয়াচং। 
















