সিলেট ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
News Title :
হবিগঞ্জে বিয়ের প্রলোভনে কিশোরীকে ধর্ষণ: পলাতক আসামি সিলেট থেকে গ্রেফতার করল র‍্যাব। হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ, সারজিসসহ আহত কয়েকজন নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত দলিল নেই, তবুও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভূমিদাতা পাতন বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থী সম্মাননা ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ সম্পন্ন ‎সিলেটে হাইড্রোলিক হর্ন ও পরিবেশ আইন লঙ্ঘনে ১০ গাড়ির মালিককে জরিমানা নবীগঞ্জে আম গাছে থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার‎ ‘নেলসন ম্যান্ডেলা পিস অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ পেলেন কাজী মোহাম্মদ জমিরুল ইসলাম মমতাজ‎ ‎৪৫০ শিক্ষার্থীর একমাত্র ভরসা গুচ্ছগ্রাম বিদ্যালয়; পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতার আশ্বাস গ্রাম পুলিশের বেতন বৃদ্ধি ও চাকরি জাতীয়করণের দাবি

সিলেটের এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ কর্তৃক অজ্ঞাতনামা নারীর মৃতদেহ উদ্ধার, পরিচয় সনাক্ত এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত স্বামী গ্রেফতার‎।

ঘাতক স্বামী ফারুক আহমেদ।



‎সিলেট মহানগরীর এয়ারপোর্ট থানাধীন লাক্কাতুরা চা বাগানে ভেতরে গত ১৪ অক্টোবর এক অজ্ঞাতনামা নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

‎মৃতদেহটি আংশিক পচন ধরা অবস্থায় ভাইগণ নামক টিলার নির্জন ঝোপঝাড় থেকে আনুমানিক বিকাল সাড়ে ৪ টায় উদ্ধার করা হয়। নিহত নারীর বয়স আনুমানিক ২৫ বছর এবং পরনে ছিল লাল রঙের জমিন ছাপা শাড়ি ও হালকা গোলাপি রঙের বোরকা, গলায় ছিল হলুদ রঙের ওড়না পেঁচানো। মৃতদেহের পাশে পাওয়া একটি লেডিস হ্যান্ডব্যাগ থেকে কয়েকটি জামাকাপড় এবং একটি মেমোরি কার্ড উদ্ধার করা হয়।

‎প্রাথমিকভাবে পিবিআই ও সিআইডি কর্তৃক আঙ্গুলের ছাপ সংগ্রহ করেও পচনের কারণে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
‎পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত মেমোরি কার্ডের অডিও কথোপকথন এবং সংশ্লিষ্ট নম্বরের কল ডেটা রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করে পুলিশ নিহত নারীর পরিচয় সনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

‎নিহত নারী হলেন— সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারা বাজার থানার মওলারপাড় গ্রামের মৃত মাহতাব মিয়ার কন্যা রাবেয়া বেগম।
‎তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তদন্তে অগ্রগতি হলে সন্দেহের তালিকায় আসেন নিহতের স্বামী সুনামগঞ্জ সদর থানার রাঙ্গারচর গ্রামের ওমান ফেরত ফারুক আহমেদ।

‎এরই ধারাবাহিকতায়, গত ১৭ অক্টোবর এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের একটি দল দোয়ারাবাজার থানাধীন রাঙ্গারচর গ্রামে অভিযান চালিয়ে মূল সন্দেহভাজন ফারুক আহমেদকে গ্রেফতার করে।
‎প্রাথমিকভাবে অস্বীকার করলেও, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তথ্য-উপাত্তের মুখে ফারুক হত্যার দায় স্বীকার করে। সে জানায় যে, তার স্ত্রী রাবেয়া বেগমের পূর্বের বিয়ে গোপন করা এবং বিয়ের পর অন্য পুরুষের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল।

‎আসামী ফারুকের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, গত ১৩ অক্টোবর তার স্ত্রীকে নিয়ে হযরত শাহজালাল (রহঃ)-এর মাজার জিয়ারতের কথা বলে সিলেটে আসে।
‎মাজার জিয়ারত শেষে বেড়ানোর কথা বলে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উত্তর-পূর্ব দিকের নির্জন টিলায় নিয়ে যায়। সেখানে আনুমানিক বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে তার ফুফাতো ভাই আলামিনের সহায়তায় সে স্ত্রী রাবেয়া বেগমকে গলা টিপে হত্যা করে।

‎উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের চাচা রিপন মিয়া বাদী হয়ে এয়ারপোর্ট থানায় ফারুক ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করলে এয়ারপোর্ট থানার মামলা নং-১৭, তারিখ-১৭/১০/২৫ খ্রিঃ, ধারা ৩০২/৩৪ দঃবিঃ মামলা দায়ের করেন।

পরের দিন ১৮ অক্টোবর আসামীকে আদালতে উপস্থাপন করা হলে বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতের সম্মুখে সে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক দোষ স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
‎জবানবন্দি প্রদান শেষে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জে বিয়ের প্রলোভনে কিশোরীকে ধর্ষণ: পলাতক আসামি সিলেট থেকে গ্রেফতার করল র‍্যাব।

সিলেটের এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ কর্তৃক অজ্ঞাতনামা নারীর মৃতদেহ উদ্ধার, পরিচয় সনাক্ত এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত স্বামী গ্রেফতার‎।

সময় ১১:৫৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

ঘাতক স্বামী ফারুক আহমেদ।



‎সিলেট মহানগরীর এয়ারপোর্ট থানাধীন লাক্কাতুরা চা বাগানে ভেতরে গত ১৪ অক্টোবর এক অজ্ঞাতনামা নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

‎মৃতদেহটি আংশিক পচন ধরা অবস্থায় ভাইগণ নামক টিলার নির্জন ঝোপঝাড় থেকে আনুমানিক বিকাল সাড়ে ৪ টায় উদ্ধার করা হয়। নিহত নারীর বয়স আনুমানিক ২৫ বছর এবং পরনে ছিল লাল রঙের জমিন ছাপা শাড়ি ও হালকা গোলাপি রঙের বোরকা, গলায় ছিল হলুদ রঙের ওড়না পেঁচানো। মৃতদেহের পাশে পাওয়া একটি লেডিস হ্যান্ডব্যাগ থেকে কয়েকটি জামাকাপড় এবং একটি মেমোরি কার্ড উদ্ধার করা হয়।

‎প্রাথমিকভাবে পিবিআই ও সিআইডি কর্তৃক আঙ্গুলের ছাপ সংগ্রহ করেও পচনের কারণে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
‎পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত মেমোরি কার্ডের অডিও কথোপকথন এবং সংশ্লিষ্ট নম্বরের কল ডেটা রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করে পুলিশ নিহত নারীর পরিচয় সনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

‎নিহত নারী হলেন— সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারা বাজার থানার মওলারপাড় গ্রামের মৃত মাহতাব মিয়ার কন্যা রাবেয়া বেগম।
‎তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তদন্তে অগ্রগতি হলে সন্দেহের তালিকায় আসেন নিহতের স্বামী সুনামগঞ্জ সদর থানার রাঙ্গারচর গ্রামের ওমান ফেরত ফারুক আহমেদ।

‎এরই ধারাবাহিকতায়, গত ১৭ অক্টোবর এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের একটি দল দোয়ারাবাজার থানাধীন রাঙ্গারচর গ্রামে অভিযান চালিয়ে মূল সন্দেহভাজন ফারুক আহমেদকে গ্রেফতার করে।
‎প্রাথমিকভাবে অস্বীকার করলেও, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তথ্য-উপাত্তের মুখে ফারুক হত্যার দায় স্বীকার করে। সে জানায় যে, তার স্ত্রী রাবেয়া বেগমের পূর্বের বিয়ে গোপন করা এবং বিয়ের পর অন্য পুরুষের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল।

‎আসামী ফারুকের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, গত ১৩ অক্টোবর তার স্ত্রীকে নিয়ে হযরত শাহজালাল (রহঃ)-এর মাজার জিয়ারতের কথা বলে সিলেটে আসে।
‎মাজার জিয়ারত শেষে বেড়ানোর কথা বলে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উত্তর-পূর্ব দিকের নির্জন টিলায় নিয়ে যায়। সেখানে আনুমানিক বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে তার ফুফাতো ভাই আলামিনের সহায়তায় সে স্ত্রী রাবেয়া বেগমকে গলা টিপে হত্যা করে।

‎উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের চাচা রিপন মিয়া বাদী হয়ে এয়ারপোর্ট থানায় ফারুক ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করলে এয়ারপোর্ট থানার মামলা নং-১৭, তারিখ-১৭/১০/২৫ খ্রিঃ, ধারা ৩০২/৩৪ দঃবিঃ মামলা দায়ের করেন।

পরের দিন ১৮ অক্টোবর আসামীকে আদালতে উপস্থাপন করা হলে বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতের সম্মুখে সে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক দোষ স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
‎জবানবন্দি প্রদান শেষে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।