
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের আহসানুল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আশফাকুর রহমান- (বাবু) এর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির চেষ্টার অভিযোগে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা।
অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার ও অপসারণের দাবিতে আজ ১২ অক্টোবর দুপুরে স্কুল প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলে অংশ নিয়ে ছাত্র-ছাত্রী ও স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষক আশফাকুর রহমানের নাম ধরে স্লোগান দেন এবং তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি শিক্ষক আশফাকুর রহমান বাবু স্কুলের একজন ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করেন। ছাত্রীটি বিষয়টি তার অভিভাবকদের জানালে মুহূর্তেই খবরটি স্কুলে ও এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার নিশ্চিত করার দাবিতেই সকলে আজ বিক্ষোভে অংশ নেন।

আশফাকুর রহমানের বিরুদ্ধে শুধু যৌন হয়রানির চেষ্টার অভিযোগই নয়, এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে নানান অপকর্ম ও নারীঘটিত কেলেঙ্কারিতে জড়িত।
স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন আগেও তিনি নারী নিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়েছিলেন এবং সে যাত্রায় অপমানিত হয়ে জরিমানা দিয়ে পালিয়ে আসেন।
অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও নারীঘটিত কেলেঙ্কারির ঘটনায় তিনি জেলও খেটেছেন। এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, তাঁর মামা একজন প্রাক্তন সচিব হওয়ায় সেই ক্ষমতার দাপট দেখিয়েই তিনি বারবার পার পেয়ে যাচ্ছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে বহাল তবিয়তে এই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, ২০১০ সালে একটি শিশু কে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে তাঁকে সালিসের মাধ্যমে জুতার মালা পরিয়ে এলাকা প্রদক্ষিণ করানো হয়েছিল।
তবুও তিনি তাঁর অপকর্ম থেকে বেরিয়ে আসেননি।
এ ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আশফাকুর রহমান বাবু, মতামত জানতে সাংবাদিকরা তাঁর বাড়িতে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ আছে, আশফাকুর রহমানের ছেলে সাংবাদিকদের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং সাংবাদিকদের প্রতি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শিক্ষক আশফাকুর রহমানের বিরুদ্ধে স্কুল কর্তৃপক্ষ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর রাখছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
হ্যাপি আক্তার, টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি 



















